চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

‘সম্রাট’র দাম হাঁকাচ্ছেন ১০ লাখ

২৬ জুলাই, ২০২০ | ১:১৪ অপরাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

সল্টগোলা পশুর হাট

‘সম্রাট’র দাম হাঁকাচ্ছেন ১০ লাখ

চট্টগ্রামের অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট সল্টগোলা গরুর বাজারে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে ঝিনাইদহের ‘সম্রাট’। ২০ মন ওজনের সম্রাটকে বাজারে তুলেছেন ঝিনাইদহের খামার ব্যবসায়ী মো. হাকিম মিয়া। যার দাম হাঁকিয়েছেন ১০ লাখ টাকা। কালো রঙের সম্রাটকে দেখতে প্রতিদিন হাটে ভিড় জমায় ক্রেতারা। কেউ দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও অনেকেই দরাদরি করছেন কিনে নিতে। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ লাখ টাকায় সম্রাট’টি কিনতে চেয়েছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। তবে সাড়ে ৬ লাখের নিচে গরুটি বিক্রি করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন এটির মালিক হাকিম।

হাকিম পূর্বকোণকে বলেন, ‘৪ বছর ধরে খামারে নিজ হাতে লালন-পালন করেছি সম্রাটকে। আমি ঝিনাইদাহ থেকে প্রতিবছর কোরবানির হাটে গরু নিয়ে আসি। এবারও ২১টি গরু নিয়ে এসেছি। আমার সবগুলো গরুই ২ লাখেরও বেশি মূল্যের। সবচেয়ে ছোট গরুটি বিক্রি করেছি ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। আর সম্রাট, আমার আনা সব গরুর থেকে বড়। শুধু তাই নয় এ বাজারের সবচেয়ে বড় গরু এটি। গরুটি ১০ লাখ টাকা দাম চেয়েছি শুরু থেকেই। প্রতিদিন কমে একশো মানুষ গরুটি দেখলেও, কেউই কেনার মত দাম বলছে না। তবে একজন সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছে। যদিও এ দামে আমি গরুটি বিক্রি করবো না’।

এদিকে ৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সল্টগোলা অস্থায়ী কোরবানির পশুর বাজারটি এবার ইজারা নেয়া হয়েছে ৪১ লাখ ৫২ হাজার টাকায়। যা গতবছর ছিল কেবল ৬ লাখ টাকা। বাজারটি সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে হাটটিকে। ৩টি মাঠে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ৬ হাজারেরও অধিক পশু। যেগুলো পর্যবেক্ষণে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। তবে এখনো জমে উঠেনি বাজারটি। ক্রেতারা বাজারে আসতে শুরু করলেও চোখে পড়েনি বেচা-কেনা। ক্রেতারা এখনও সীমাবদ্ধ রয়েছে দর-দামে। অপেক্ষা করছেন দাম কমার।

হাটে কোরবানির জন্য গরু কিনতে আসা রায়হান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবারের বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। পরিবার বড় হওয়ার কারণে প্রতিবছর আমরা দুটি গরু কিনি। গতবছর যে গরু কেনা পড়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে একই ধরনের গরু এবার নিতে হলে লাগবে ২ লাখ টাকা। এখনও পর্যন্ত এভাবেই দাম ধরে রেখেছেন বেপারিরা। তাই অপেক্ষা করছি দাম কমার। যদি এরমধ্যে দামে-দরে কোন গরু মিলে যায় তাহলে নিয়ে নিবো। তাই পছন্দ হওয়া গরুগুলো কেনার চেষ্টায় বাজার ঘুরছি’।
তবে গরু বেপারিরা বলছে ঠিক তার উল্টো কথা।

গতবারের চেয়ে এবারে গরু প্রতি ১০ হাজার টাকা কম বলে জানিয়েছেন ‘সম্রাট’র মালিক হাকিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই গরুর লালন-পালন খরচ বৃদ্ধি পায়। এবারও বেড়েছে। সেই সাথে ট্রাক ভাড়াও। তবে গরুর দাম বেশি বলে প্রতিবছরই মন্তব্য করেন ক্রেতারা। এবারের করা তাদের এই অভিযোগ একেবারেই মিথ্যে। এবার প্রতি গরুতে গতবারের তুলনায় দাম কমেছে প্রায় ১০ হাজার টাকা’।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হাটে ব্যবস্থা রাখতে দেখা গেছে জীবাণুনাশক স্প্রে। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সেগুলো ছিটাতেও দেখা গেছে ক্রেতাদের শরীরে। তবুও নিশ্চিত হয়নি ক্রেতাদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব। এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার মো. জুয়েল পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের প্রচেষ্টা হাট শুরু থেকেই রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ক্রেতাদের শরীরে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানোও চলছে নিয়মিত। বাধ্যতামূলক করেছি বিক্রেতাদের মাস্ক। তবুও ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, দিন দিন ক্রেতা সমাগম বাড়ছে। তবুও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এছাড়াও হাটে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা’। কেনা- বেচার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো গরুর হাট তেমন জমে উঠেনি। পূর্বের বছরগুলোর মত এবারও ধারণা করছি শেষ ৩ দিন জমে উঠবে’।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 130 People

সম্পর্কিত পোস্ট