চট্টগ্রাম রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২২ জুলাই, ২০২০ | ৩:১৬ অপরাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

বন্দর থেকে খালাস হলো প্রথম ভারতীয় পণ্য ট্রানজিটের ৪ কন্টেইনার পণ্য

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ৪ কন্টেইনার ট্রানজিট পণ্য খালাস হলো। এর মাধ্যমে বহুল প্রতিক্ষিত ভারত বাংলাদেশ ট্রানজিট এর মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের সূচনা সফলভাবে সম্পন্ন হলো। বন্দর-কাস্টামস এই ট্রানজিটের প্রথম ট্রায়ল রানের চালান খালাস করে আয় করে সাড়ে ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে টিআর চালানের মাধ্যমে কাস্টমস বিভিন্ন মাসুল বাবদ আদায় করে ২৮ হাজার ৯০৮টাকা এবং বন্দর কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করে পায় ৬ হাজার ৫৮০ টাকা। এর বাইরে বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহারের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগ নির্ধারিত মাশুল আদায় করবে।

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ভারতের ৪ কন্টেইনার ট্রানজিট পণ্য নিয়ে পরিবহনকারী কোস্টাল জাহাজ এম ভি সেঁজুতি বহির্নোঙরে প্রবেশ করে। পরে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের টাগ বোটের সাহায্যে জাহাজটি বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ১ নম্বর জেটিতে বার্থিং করা হয়।

এনসিটির দায়িত্বে থাকা টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক কন্টেইনার আনলোডিং এর কাজ শুরু করে। কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট (পুরাতন কোলকাতা পোর্ট) ও হলদিয়া পোর্ট হয়ে আসা এমভি সেঁজুতি জাহাজে ৪টি ট্রানজিট কন্টেইনারসহ ৩০০ টিইইউ’স কন্টেইনার ছিল। কন্টেইনার নামানোর পর সেগুলো খালাসের জন্য কাজ শুরু করে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান কে জে শিপিং।

এমভি সেঁজুতি’র স্থানীয় এজেন্ট ম্যাংগো শিপিং লাইনের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ট্রানজিটের কন্টেইনার বহনকারী এমভি সেঁজুতি চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে বাথিং করেছে। গ্যান্ট্রি ক্রেনের সাহায্যে কন্টেইনার খালাসের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর বন্দর, কাস্টমস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মাশুল পরিশোধ শেষে চারটি ট্রেইলরে সড়কপথে কন্টেইনারগুলো আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা ও আসাম এর দিকে রওনা দিবে।

ট্রানজিট পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালসকারী সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান কে জে শিপিং এর স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনার সংকটের মধ্যে ভারত বাংলাদেশের ট্রানজিটের সূচনা হলো। ভারতের ট্রানজিট পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে আমরা সফলভাবে ত্রিপুরা ও আসামের উদ্দেশ্যে পাঠাতে পেরেছি। এজন্য বন্দর ও কাস্টামসকে ধন্যবাদ। তারা আমাদের কাজে সহযোগিতা করেছেন’।

জানা যায়, ট্রানজিটের প্রতিটি কন্টেইনারের বিপরীতে কাস্টমস কর্তৃক ৭ ধরণের সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি প্রতি চালানে ৩০টাকা, ট্রান্সশিপমেন্ট ফি প্রতি মেট্রিক টনের জন্য ২০ টাকা, সিকিউরিটি চার্জ প্রতি মেট্রিক টনের জন্য ১০০টাকা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এসকর্ট চার্জ প্রতি মেট্রিক টনের জন্য ৫০ টাকা, বিবিধ প্রশাসনিক চার্জ প্রতি মেট্রিক টনের জন্য ১০০টাকা, কন্টেইনার স্ক্যানিং চার্জ প্রতি কন্টেইনারের জন্য ২৫৪ টাকা এবং বিধিমালায় নির্ধারিত পরিমাণ ইলেক্ট্রিক লক ও সিল ফি প্রযোজ্য হয়।

ট্রানজিট কন্টেইনার খালাস বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক পূর্বকোণকে বলেন, ‘ভারত থেকে ৪টি ট্রানজিট পণ্যবাহী কন্টেইনার নিয়ে এমভি সেজুতি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে গতকাল মঙ্গলবার সকালে। চুক্তি অনুযায়ী ট্রানজিট পণ্যবাহী ৪টি কন্টেইনার এর প্রথম ট্রয়াাল রান উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান বার্থিং নীতিমালা অনুযায়ী জাহাজটিকে বার্থিং করা হয়। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য নির্ধারিত ট্যারিফ সিডিউল অনুযায়ী পোর্ট ডিউজ, পাইলটেভ ফি ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক চার্জ আদায় করা হবে’।
উল্লেখ্য, ৯৫ মিটার লম্বা এমভি সেঁজুতি নামের কন্টেইনারবাহী জাহাটির স্থানীয় এজেন্ট ম্যাংগো শিপিং লাইন। তাদের পরিচালনায় জাহাজটি গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ভারতের শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট থেকে ৪টি ট্রানজিট পণ্যবাহী কন্টেইনারসহ ১১১ টিইইউস কন্টেইনার নিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

জানা যায়, ৪ কন্টেইনারের মধ্যে ২ কন্টেইনারে রয়েছে টাটা স্টিলের টিএমটি স্টিল যা ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরায় যাবে। এছাড়া বাকি ২কন্টেইনারে রয়েছে ইটিসি এগ্রোর ডাল যা ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতের আসাম রাজ্যে যাবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 236 People