চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

চোখ বেঁধে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটালেন আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারী
চোখ বেঁধে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটালেন আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারী

১৭ জুলাই, ২০২০ | ১১:১১ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা

চোখ বেঁধে ছাত্রলীগ নেতাকে পেটালেন আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে এক ছাত্রলীগ নেতাকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আহত ছাত্রলীগ নেতার নাম আজম উদ্দিন। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বার আউলিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর পরিবার বাধ্য হয়ে ৯৯৯ এ ফোন করলে খবর পেয়ে পুলিশ আহত ছাত্রলীগ নেতা ও নির্যাতনকারী এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সীতাকুণ্ড পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজম উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ ইদ্রিসের নাম উল্লেখ করে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ইদ্রিস নেতার সুপারিশে নাকি মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ দিদারুল আলম এমপি মহোদয় আমাকে চাকরি দিয়েছে, বাইক দিয়েছেন কিন্তু সেই দিন এমপি মহোদয় বলেছেন যে আমার অবিভাবক হচ্ছেন দিদারুল আলম এন্ড ব্রাদার্সের ভারপ্রাপ্ত মালিক রাশেদ স্যার। আমি দুই নম্বরি কাজে সাহায্য না করায় ইদ্রিস নেতা শুধু আমার চাকরি খাওয়ার ভয় দেখিয়ে যাইতেছেন। এমপি মহোদয়ের গ্যারেজে ইট ভাঙা দেওয়ার সময় আমাকে বলতেন যে বারআউলিয়া ওনার জায়গায় চুরি করে ফেলার জন্য। আমি ঐসব কাজ না করায় ইদ্রিস নেতা আমার চাকরি খাওয়ার ভয় দেখিয়ে যায়। আমার স্যার হচ্ছেন সততার প্রতীক তাই আমিও চাকরির ভয় না করে স্যারকে অনুসরণ করি’।

এই স্ট্যাটাসের জেরে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ইদ্রিসের লোকজন আজম উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যায় বার আউলিয়া মাজারের পাশ্ববর্তী ইদ্রিসের অফিসে। সেখানে তাকে চোখ বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে নির্যাতিত আজমের পরিবার পুলিশ হেল্প লাইনের ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনা জানালে দুপুরে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আজমকে উদ্ধার করেন। একইসাথে নির্যাতনকারীদের একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

এদিকে ঘটনাটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী আজম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। পুলিশ না গেলে ইদ্রিসের লোকজন হয়তো তাকে মেরেই ফেলত।

অভিযোগ প্রসঙ্গে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. ইদ্রিস বলেন, সে আমার বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে পরে তা আবার মুছে দেয়। কিন্তু এ নিয়ে ছেলেদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। তবে আজমের পরিবারকে সাথে নিয়ে ঘটনাটি মীমাংসা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, ছাত্রলীগ নেতা আজম ফেসবুকে আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিসের বিরুদ্ধে লিখেছেন। এর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলাও করে তারা আইনের সাহায্য নিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তাকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা আইন হাতে নেয়ার শামিল। এটি ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় মামলা নিতে চাইলে আজমের পরিবার মামলা না করে মীমাংসার কথা বলছে। ভুক্তভোগীরা চাইলে মামলা নেয়া হবে।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/সৌমিত্র-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 102 People

সম্পর্কিত পোস্ট