চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

৫ জুলাই, ২০২০ | ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

বাসের প্রতি ট্রিপে গুনতে হচ্ছে লোকসান

দূরপাল্লায় ‘ব্র্যান্ড’ বাঁচানোর লড়াই

নগরীর দামপাড়ার গরীবুল্লাহ শাহ (রা.) মাজার এলাকা। প্রায় সবার পরিচিত। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসের কারণে। অনেকে আবার এটাকে বলে ভিআইপিদের বাস স্ট্যান্ড। কারণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসগুলোর কাউন্টার রয়েছে এখানে। শুধু যে এসি সার্ভিস তা কিন্তু নয়, এখান থেকেই নন এসি বাসে চড়ে দেশের যে কোন জেলায় ভ্রমণ করতে পারেন যাত্রীরা। তাইতো মূল শহরের মধ্যে ব্যস্ততম একটি বাস স্ট্যান্ড এটি। যেখানে কিছুদিন আগেও বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে যাত্রার অন্তত ২ দিন আগে কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হত যাত্রীদের। অন্যথায় পছন্দের সিট সংগ্রহে ব্যর্থ হত যাত্রীরা।

যাত্রীদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করা এই দূরপাল্লার বাস স্ট্যান্ড এখন কেবলই নীরবতার সাক্ষীতে পরিণত হয়েছে। যাত্রীশূন্য কাউন্টারগুলো। সারি সারি দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলো এখন প্রহর গুনছে যাত্রীর জন্য। পূর্বে প্রতি ঘণ্টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়া বাসগুলো এখন গাড়ি ছাড়ছে ৩ ঘন্টায় একটি করে। যেখানে যাত্রী থাকছে ১০ থেকে ১২ জন। নন এসি বাসগুলো ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী পেলেও চরম যাত্রী সংকটে পড়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসগুলো। ভাড়া বাড়ায় ৬ থেকে ৭ জন

যাত্রী পেতেও হিমশিম খাচ্ছে কাউন্টারগুলো। তবুও অনেক পরিচিত এসি বাসগুলো বন্ধ রেখেছে যাত্রী সেবা। খোলেনি তাদের কাউন্টার। যেসব ব্র্যান্ডের গাড়ি যাত্রী সেবা চালু রেখেছেন তারাও প্রতিদিন গুনছেন হাজার টাকা লোকসান। সপ্তাহে যেটি গড়ায় লাখ টাকার ঘরে। গতকাল শনিবার দামপাড়া বাস স্ট্যান্ড সরেজমিন পরিদর্শনে উঠে আসে এসব তথ্য ও চিত্র।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস ‘সোহাগ পরিবহন’-এর দামপাড়া কাউন্টারের সহকারি ব্যবস্থাপক লুৎফর পূর্বকোণকে বলেন, ‘সোহাগ পরিবহন যাত্রী সেবার মান ধরে রাখতে এবং মার্কেটে ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বাঁচিয়ে রাখতে লোকসান দিয়েও যাত্রী সেবা চালু রেখেছে। আমাদের প্রতি গাড়িতে এখন ২ হাজারেরও বেশি টাকা লোকসান দিয়ে যাত্রী সেবা দিতে হচ্ছে। টিকিটের দাম বাড়লেও যাত্রী সংকটের কারণে লোকসান দিতে হচ্ছে। তবুও স্টাফদের জীবিকার কথা মাথায় রেখে এবং কোম্পানির ব্র্যান্ড ভ্যালু টিকিয়ে রাখতেই সড়কে গাড়ি নামানো হচ্ছে’।

গত এক সপ্তাহে যাত্রীদের পরিমাণ ও লোকসান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘করোনার আগেও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আমাদের এসি গাড়ির শিডিউল ছিল ১০টি। অর্থাৎ দিনে ১০টি আলাদা আলাদা সময়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়তো আমাদের পরিবহন। তবে যাত্রী সংকটে সেই শিডিউল কমে এসেছে ৫ ভাগের একভাগে। দিনে দুইবেলা ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছাড়ে সোহাগ পরিবহন। তবুও ৩১ সিটের গাড়িতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অন্তত ১৫ জন যাত্রী নেওয়ার সক্ষমতা কিংবা অনুমতি থাকলেও যাত্রী মিলে ৫ থেকে ৬ জন। শুক্রবারও মাত্র দুই জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে আমাদের একটি গাড়ি। ভাড়া পূর্বে ১২৫০ টাকা হলেও এখন বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৬০০ টাকা। তবুও গাড়িপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজারের বেশি লোকসান দিতে হচ্ছে। কারণ, এসি বাসগুলোর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে খরচ হয় সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা। যেখানে আমাদের ৮ থেকে ৯ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়’।
একই মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামে দায়িত্বরত শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপক মামুন আহমেদ। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনার আগেও প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম থেকে শ্যামলীর নন এসি ২৫টির বেশি গাড়ি ছাড়া হত। ভাড়া কম থাকায় ও যাত্রী সেবায় শ্যামলীর মান ভালো থাকায় কোন কোন সময় ঘন্টায় ২টি গাড়িও ছেড়েছি। কিন্তু এখন সে চিত্র পুরোপুরিই ভিন্ন। এখন প্রতি দুই ঘণ্টায় একটি গাড়ি ছাড়তে পারছি না। এতে করে সপ্তাহে শুধু মাত্র একটি রুটেই লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে কোম্পানীকে। কারণ, যাত্রী সংকটের কারণে গাড়ির যাতায়াত খরচ পোষানো যাচ্ছে না। টাকা বাঁচাতে যাত্রীরা ট্রেনে করে যাত্রা করার চেষ্টা করছেন। তবুও ব্র্যান্ড ভ্যালু টিকিয়ে রাখতে যাত্রী সেবা চালু রেখেছে কোম্পানি’।

এদিকে লোকসানের কথা চিন্তা করে এখনও যাত্রী সেবা চালু করেনি বেশকিছু দূরপাল্লার বাস। এর মধ্যে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বেশকিছু দূরপাল্লার বাস। যেমন, হানিফ এখনও চালু করেনি তাদের এসি বাস সার্ভিস। তেমনি এখনও বন্ধ রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) স্লিক লাইন, দেশ ট্রাভেলস, রয়েল ও রিল্যাক্স বাসের কাউন্টার। তবে চলছে গ্রিন লাইনসহ অন্যান্য এসি বাসগুলো।
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 382 People

সম্পর্কিত পোস্ট