চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০

খামারে বৈদ্যুতিক তারের পাতানো ফাঁদে প্রতিবন্ধীর মৃত্যু!

৪ জুলাই, ২০২০ | ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

রাউজান সংবাদদাতা

খামারে বৈদ্যুতিক তারের পাতানো ফাঁদে প্রতিবন্ধীর মৃত্যু!

চট্টগ্রামের রাউজানে মুরগির খামারে বৈদ্যুতিক তারের পাতানো ফাঁদে এক মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মানসিক প্রতিবন্ধীর নাম নুরুল আবচার প্রকাশ নুরু পাগলা (৬০)।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহামুনি বিহারের পূর্ব পাশে চিন্তাদির ঘাটা নামক স্থানে ডিম উৎপাদনকারী মুরগির খামারে (লেয়ার) এই ঘটনাটি ঘটে। তিনি একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া গ্রামের দারোগা’র বাড়ির মরহুম বাদশা মিয়ার মেজ পুত্র।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত কর বলেন, খামারটির মালিক স্থানীয় প্রসেনজিৎ চৌধুরী ও লাবু বড়ুয়া। শেয়ালসহ নানান বন্যপ্রাণি বধ করার জন্য খামারের চারপাশে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ পাতানো হয়। সেই ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। বিকাল ৫টার দিকে তার স্বজনরা তাকে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নিহতের ভাই নুর মোহাম্মদ জানান, বেলা আড়াইটার দিকে তিনি গাভীর জন্য ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে ঘর হতে বের হন। বিকাল ৫টার দিকে মোবাইল ফোনে জানতে পারি মহামুনি বিহারের পাশে একটি মুরগির খামারে আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি খামারের পাশে একটি চটের বস্তার উপর পলিথিন দ্বারা লাশ ঢাকা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। দুপুর আড়াইটার দিকে ঘাস কাটতে যাওয়ার পথে আমার ভাই মারা যায়। কিন্তু তারা আমাদের কোন খবর না দিয়ে লাশ চটের বস্তায় ঢেকে রাখা হয়। আমার কাছে আমার ভাইয়ের মৃত্যু রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

এই ব্যাপারে খামারের মালিক লাবু বড়ুয়ার সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন, খামারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নুরু পাগলা নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যুর সংবাদ শুনেছি। তবে কোন পক্ষই আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। তবে খামারে দিন দুপুরে বন্যপ্রাণি মারার জন্য যে বৈদ্যুতিক ফাঁদ বসানো হয়েছে তা মারাত্মক অন্যায়।

বন্যপ্রাণী বধের পাতানো ফাঁদ সম্পর্কে উপজেলা বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে হবে ফাঁদটি বন্যপ্রাণি হত্যার ফাঁদ কিনা। আর ফাঁদে যদি কোন বন্যপ্রাণি মারা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ বলেন, এখনও পর্যন্ত এই ধরনের কোন সংবাদ পাইনি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/জাহাঙ্গীর-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 151 People

সম্পর্কিত পোস্ট