চট্টগ্রাম বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৩ জুলাই, ২০২০ | ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

চাহিদা মিটবে স্থানীয় উৎপাদনে কোরবানির পশু

করোনা সংকট আসন্ন কোরবানি ঈদের জন্য অনেকটা আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত চার মাস ধরে বিয়ে, মেজবান, ওরশ-মাহফিল বন্ধ থাকায় অন্তত ৫০ হাজারের বেশি গরু-মহিষ সাশ্রয় হয়েছে। এখন কোরবানিতে জবেহ করা হবে এসব গরু, ছাগল ও মহিষ।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর কোরবানির জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার। যা গত বছরের সমান। লক্ষ্যমাত্রা প্রতিবছর ৫-৭ শতাংশ বাড়তি ধরা হয়। কিন্তু চলতি বছর করোনা সংকটের কারণে বাড়তি চাহিদা ধরা হয়নি। গত বছরের কাছাকাছি সংখ্যক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন রয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ হচ্ছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৭০৩টি। ছাগল ভেড়া ও অন্যান্য পশু হচ্ছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৩১৯ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে দেখা যায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন আর কোরবানিতে জবেহ করা পশুর ব্যবধান হচ্ছে ৪১ হাজার ৯৭৮টি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক জসিম বলেন, প্রতিবছর দেড় থেকে দুই লাখ পশুর সংকট থাকে। এবার থাকবে প্রায় ৪২ হাজার। করোনা সংকটের কারণে তিন-চার মাস ধরে মেজবান, বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ৪০-৫০ হাজার পশু সাশ্রয় হয়েছে। সেই হিসাবে এবার স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব। স্থানীয় উৎপাদনে ৪২ হাজার সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও আশপাশ জেলা থেকে লাখ দেড় লাখ পশু আনা হয়। কোনো সময়ে চট্টগ্রামে পশুর সংকট হয়নি। প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, স্থানীয় উৎপাদনে স্টেরয়েডের ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে। স্টেরওয়েড ব্যবহারে মানুষ সচেতন হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যবান পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন করার বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রশিক্ষণ কর্মশালা, প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। খামারি ও গরু লালন-পালনকারীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লালন-পালনে আগ্রহ বেড়েছে। এই পদ্ধতিতে পালিত গরু মাথা উঁচু, সার্বক্ষণিক লেজ-কান নাড়বে। চাঞ্চল্য ভঙ্গিমা ও সতর্ক অবস্থায় দাঁড়াবে। তাই এসব গরুর প্রতি মানুষের ঝোঁক দিন দিন বাড়ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে চলতি বছর কোরবানিতে পশু উৎপাদন ছিল ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি। মিরসরাই উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার ২টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ তিন হাজার ৭৬৯টি। ছাগল ও ভেড়া ২৩৩টি। সীতাকু- উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার ৭৫৫টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ১৫৮৫ টি। ছাগল ও ভেড়া ৩১৭০ টি।

সন্দ্বীপ উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৭ হাজার ৭২০টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ২ হাজার ৭৯৮টি। ছাগল ও ভেড়া ৪ হাজার ৯২২টি।

ফটিকছড়ি উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৩ হাজার ২৭১টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ২ হাজার ৬২৪টি। ছাগল ও ভেড়া ৬৪৭টি।

রাউজান উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে এক হাজার ৬৩৮টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ এক হাজার ৪২৭টি। ছাগল ও ভেড়া ২২১টি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৬ হাজার ৯০৩টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ চার হাজার ৭৭৭টি। ছাগল ও ভেড়া ২১৩০টি।

হাটহাজারী উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৮ হাজার ৯১টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ৬ হাজার ২৯৫ টি। ছাগল ও ভেড়া ২১৩০টি।

বোয়ালখালী উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার ২১৩টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ চার হাজার ৬৯২টি। ছাগল ও ভেড়া ৫২১টি।

পটিয়া উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ১০ হাজার ৮৫৬টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ আট হাজার ৭২১টি। ছাগল ও ভেড়া ২১৩৫টি।

চন্দনাইশ উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৬ হাজার ৯৪২টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ২ হাজার ৯৯৫টি। ছাগল ও ভেড়া ৩৯৪৭টি।

আনোয়ারা উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার ৪৩৩টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ১২ হাজার ১৭টি। ছাগল ও ভেড়া ২৪১৬ টি।

সাতকানিয়া উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার ৭৩৩টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ তিন হাজার ৫৯০টি। ছাগল ও ভেড়া ১১৪৩টি।

লোহাগাড়া উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ১০ হাজার ২৬টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ৬ হাজার ২৯৫টি। ছাগল ও ভেড়া ২৭৮৫টি।

বাঁশখালী উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে তিন হাজার ৯৯০টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ তিন হাজার ৫৩৮টি। ছাগল ও ভেড়া ২৪৩৯টি।

কর্ণফুলী উপজেলায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ১০ হাজার ৫০২টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ৮ হাজার ৯৬টি। ছাগল ও ভেড়া ২৪০৬টি।

নগরীর কোতোয়ালী থানায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৯৭০টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ৮৩০ টি। ছাগল ও ভেড়া ১৪০টি।

ডবলমুরিং থানায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে এক হাজার ৬৬৫টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ এক হাজার ২৭৬টি। ছাগল ও ভেড়া ৩৯০টি।

পাঁচলাইশ থানায় স্থানীয় উৎপাদন হচ্ছে ৯ হাজার ৮৪৮টি। এরমধ্যে গরু ও মহিষ ৭ হাজার ৭৪৪টি। ছাগল ও ভেড়া ২১০৪টি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 214 People

সম্পর্কিত পোস্ট