চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২২ জুন, ২০২০ | ৭:১৬ অপরাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

জরিমানা এড়াতে ব্যাংকে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভিড়

মো. রেজাউল ইসলাম রিয়াদ। পেশায় একজন ছাত্র। করোনায় স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ঘরে শুয়ে বসেই সময় কাটছে তাঁর। নেই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কলেজে যাওয়ার তাড়া। তাইতো সকালটা এখন তাঁর কাটে ঘুমিয়ে। কিন্তু গতকাল রবিবারের সকালটি তার জন্য ছিল একটু ভিন্ন। কারণ, এতদিন সকালে কেউ তার ঘুম না ভাঙলেও গতকাল রবিবার তার ঘুম ভাঙাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মা-বাবা। কারণ, বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হবে তাঁকে। জমা দিতে না পারলে জরিমানা দেওয়ার বিষয়টিও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে রিয়াদকে। তাইতো ব্যাংক খোলার আগেই ব্যাংকের সামনে গিয়ে হাজির রিয়াদ। যদিও জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে রিয়াদের আগেই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন আরো অনেকে। তাই টাকা জমা দিতে অনেকটা বেগ পোহাতে হয়েছে রিয়াদের মতো অনেকের।
গতকাল রবিবার নগরীর শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের বন্দরটিলা শাখায় বিদ্যুৎ বিল জমা দিতে এসে প্রতিবেদকের কাছে এমনটাই জানান শিক্ষার্থী মো. রেজাউল ইসলাম রিয়াদ। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘আমাদের থাকার ঘর ও ভাড়াঘর মিলে ৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৬৪ হাজার টাকা। যদিও তিনমাসে এতটাকা বিল আসার কথা না। যদিও এ নিয়ে কিছু করারও নেই। অন্যদিকে ২৩ তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও জানিয়েছে পিডিবি। তাইতো ব্যাংক আওয়ারের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। যে যেভাবে পারছেন টাকা যোগাড় করে বিল পরিশোধ করছেন। কিন্তু এ সময় সরকারের সাধারণ মানুষের কথাও একটু চিন্তা করা উচিত। আমাদের ২০টা ভাড়া ঘর আছে। এরমধ্যে অনেকেই ৩ মাসে এক টাকাও বাসা ভাড়া দেয়নি। আমরাও মানবিক দিক বিবেচনা করে ভাড়াটিয়াদের কোন ধরনের চাপ দেয়নি। কিন্তু এখন বিল পরিশোধে আমাদের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে। যদি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ করে দেয়া হয় তাহলে আমাদের মত অনেক গ্রাহকের কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে’।
এদিকে জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের করোনা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে ব্যাংকে বিল জমা দিতে আসা গ্রাহকরা। অফিস আওয়ারের মধ্যে টাকা জমা দিতে ব্যস্ত থাকা এসব গ্রাহকদের মানতে দেখা যায়নি সামাজিক দূরত্ব। ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে আসা এসব গ্রাহকরাও শিক্ষার্থী রিয়াদের মত দাবি জানিয়েছেন জরিমানা মওকুফের পাশাপাশি কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুযোগ প্রদানের। তবে তাদের এই দাবি একেবারেই ফেলনা নয় বলে জানিয়েছেন পিডিবির চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম।
শামসুল আলম পূর্বকোণকে বলেন,‘ দেশের মানুষের কথাই চিন্তা করে টানা ৩ মাস কোন গ্রাহককে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে চাপ দেয়নি সরকার। বিল না নেওয়ায় বিদ্যুৎ খাতের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। এমনিতেও টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সরকারি ছুটি চলমান থাকায় অর্থনৈতিক ভাবে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে দেশ। দেশের অর্থনৈতিক চাকা চলমান রাখতে আমাদের সকলেরই উচিত সরকারের নির্দেশনা মেনে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা। যদিও এরপরেও কোন আবাসিক খাতের গ্রাহক বিল পরিশোধে ব্যর্থ হন তাকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান বিদ্যুতের এ কর্মকর্তা’। পিডিবি কারও প্রতি কঠোর হবে না বলেও যোগ করেন এ কর্মকর্তা।

পূর্বকোণ / আর আর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 189 People

সম্পর্কিত পোস্ট