চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মুখ থুবড়ে পড়ে আছে জলাবদ্ধতারোধে পাউবো’র মেগাপ্রকল্প
টানা বর্ষণে নগরীর প্রবর্ত্তক মোড়ের জলবদ্ধতা । ছবিটি তুলেছেন শরীফ চৌধুরী।

১৮ জুন, ২০২০ | ৬:৩৬ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

মুখ থুবড়ে পড়ে আছে জলাবদ্ধতারোধে পাউবো’র মেগাপ্রকল্প

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মেগাপ্রকল্প আলোর মুখ দেখছে না। একনেক সভায় অনুমোদনের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারেনি। প্রকল্পের ডিজাইন শেষ না হওয়ায় টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু করা যাচ্ছে না।

২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্প’ একনেক সভায় অনুমোদন হয়। জুলাই মাসে জিও অনুমোদন হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বছরখানেক আগে। কিন্তু প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ না হওয়ায় টেন্ডার প্রক্রিয়া ও প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। অথচ ২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিজান চাকমা পূর্বকোণকে বলেন, ‘নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করে ডিজাইন করতে হচ্ছে। বার বার প্রকল্প এলাকায় যেতে হচ্ছে। টেকনিক্যাল কৌশল নিয়ে প্রকল্পের ডিজাইন করতে হচ্ছে। অনেক জটিল বিষয় রয়েছে। যেনতেনভাবে ডিজাইন করার সুযোগ নেই। প্রকল্প এলাকায় অনেক স্থাপনা রয়েছে। এসবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়াদি রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করেই ডিজাইন করতে সময় লাগছে।’
প্রকল্পের ডিজাইন প্রণয়নের কাজ করছেন ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর ডিজাইন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ করবে সেনাবাহিনী। তবে প্রকল্পের কিছু কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া এগিয়েছে বলে জানা যায় সংশ্লিষ্ট সূত্রে। প্রকৌশলী সিজান চাকমা জানান, ইতিমধ্যে প্রকল্পের কয়েকটি কাজের ডিজাইন শেষ হয়েছে।
পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী। গত বছর জিও অনুমোদনের পর সেনাবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু ডিজাইন প্রণয়ন ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাউবো সূত্র জানায়, একনেক সভায় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৬২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
পাউবো জানায়, গত বছর থেকে প্রকল্পের নকশা (ডিজাইন) প্রণয়নের কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ করা যায়নি। ব্লক ও প্রতিরক্ষা বাঁধের ডিজাইন অনেকটা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু রেগুরেটর স্থাপনের ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে। এরপর কাজের পরিমাপ ও বাজেট প্রণয়নের পর টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
একাধিক প্রকৌশলী জানান, ডিজাইন প্রণয়ন কাজের শেষে টেন্ডার আহ্বান ও ওয়ার্ক অর্ডার (কাজের ছাড়পত্র) প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও কয়েক মাস গড়িয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে চলে এসেছে বর্ষাকাল। তার উপর করোনাভাইরাস সংক্রমণ। সবমিলে প্রকল্পের কাজ প্রলম্বিত হচ্ছে। বর্ষাকালে কর্ণফুলী উত্তাল থাকায় কাজ বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রিটেইনিং ওয়াল, ফ্লাড ওয়াল, পাম্প হাউস (রেগুলেটর) নির্মাণ কাজে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট সেতু এলাকা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। করোনাভাইরাসের কারণে সড়ক নির্মাণ কাজের গতিও মন্থর হয়ে পড়েছে। কাজটি শেষ না হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করতে কিছুটা বেগ পেতে হবে। কারণ খালের মুখে স্লুইস গেট নির্মাণ কাজে সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ সিডিএ’র কাজে খালের মধ্যে সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এসব কাজ শেষ হওয়ার পর স্লুইস গেট নির্মাণে সুবিধা হবে। সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পে আছে দ্ইু দশমিক ৭শ কি.মি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ১৮ দশমিক ৯৬৫ কিলোমিটার ফ্লাড ওয়াল (বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ), এক কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং ২৩টি খালে রেগুলেটর নির্মাণ। এতে ৬৯টি পাম্প স্থাপন করা হবে।

পূর্বকোণ / আর আর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 260 People

সম্পর্কিত পোস্ট