চট্টগ্রাম বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

অর্থনীতি সমিতি: আড়াই মাসের লকডাউনে গরিব হয়েছে ৬ কোটি মানুষ
অর্থনীতি সমিতি: আড়াই মাসের লকডাউনে গরিব হয়েছে ৬ কোটি মানুষ

৮ জুন, ২০২০ | ৫:০৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

অর্থনীতি সমিতি: আড়াই মাসের লকডাউনে গরিব হয়েছে ৬ কোটি মানুষ

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব রক্ষায় বিশ্বব্যাপী নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। বাংলাদেশেও নেয়া হয়েছে বিভিন্ন সর্তকতামূলক ব্যবস্থা। এরই মধ্যে লকডাউনের ৬৬ দিনে বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

আজ সোমবার (৮ জুন) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপনকালে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত এই দাবি করেন।

২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময়টাতে লকডাউন হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে অর্থনীতি সমিতি। বাংলাদেশ এখন ‘উচ্চ আয় বৈষম্য’ এবং ‘বিপজ্জনক আয় বৈষ্যমের’ দেশে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

শুরুতে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এবারের ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এতে করোনার (কভিড-১৯) মহাবিপর্যয় থেকে মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

আবুল বারকাত বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর কারণে দরিদ্র মানুষের বেহাল অবস্থা। লকডাউনের ৬৬ দিনে নবদরিদ্র ও অতি দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ বা প্রায় ছয় কোটি। শ্রেণি কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তবে অতি ধনী শ্রেণির ওপর এর কোনও প্রভাব পড়েনি।’

তিনি দাবি করে বলেন, লকডাউনে অতি ধনী শ্রেণির ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের আর্থিক অবস্থায় কোনও পরিবর্তন হয়নি, বরং ধনীরা আরও ধনী হয়েছে। তবে আগের ৩ কোটি ৪০ লাখ উচ্চ মধ্যবিত্ত থেকে মধ্য মধ্যবিত্ত হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ, ৩ কোটি ৪০ লাখ মধ্যম পর্যায়ের মধ্যবিত্ত থেকে ১ কোটি ২ লাখ হয়েছে নিম্ন মধ্যবিত্ত, ৫ কোটি ১০ লাখ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ দরিদ্র এবং ৩ কোটি ৪০ লাখ দরিদ্র থেকে ২ কোটি ৫৫ লাখ অতি দরিদ্র হয়েছে। ৬৬ দিনে সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৯৫ লাখ নতুন করে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, সরকারঘোষিত ৬৬ দিনের লকডাউনে ৩ কোটি ৬০ লাখ ( প্রায় পৌনে ৪ কোটি) মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এছাড়া নতুন করে ২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ হতদরিদ্র হয়ে গেছেন। করোনাভাইরাসের আগে আমাদের কর্মে নিয়োজিত ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘লকডাউনের আগে আমাদের গিনি সহগ ছিল দশমিক ৪৮। এটি মে মাসের শেষে দশমিক ৬৩৫ হয়েছে। বিপদ মাপার রেশিও পালমা আমাদের ছিল ২ দশমিক ৯২, এখন ৭ দশমিক ৫৩। অতএব মহাবিপজ্জনক। বাংলাদেশ এখন উচ্চ আয় বৈষ্যমের দেশ এবং বিপজ্জনক আয় বৈষ্যমের দেশে পরিণত হয়েছে।’

অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত আরও উল্লেখ করে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব এখন মহা বিপর্যয়কাল অতিক্রম করছে। ২১৩টি রাষ্ট্র ও ৮০০ কোটি মানুষ আজ মহাসংকটে। এ ভাইরাসের কারণে অর্থনীতি হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ ৭ জুন পর্যন্ত ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএলও’র হিসাবে বিশ্বের ৫০ ভাগ মানুষ জীবিকা হারাবেন। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষও একই পথের পথিক। তাই আসন্ন বাজেট হবে কোভিড থেকে মুক্তির বছর।’

তিনি আগামী ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব দেন। বিশাল আকারের এ বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 242 People

সম্পর্কিত পোস্ট