চট্টগ্রাম শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

সর্বশেষ:

করোনার থাবা সিডিএ’র প্রকল্পে

৪ জুন, ২০২০ | ৬:২২ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

করোনার থাবা সিডিএ’র প্রকল্পে

করোনার থাবায় ব্যয় বরাদ্দে ‘কাটছাট’ থেকে সিডিএ’র ৮৮৬৭ কোটি টাকার দুই বড় প্রকল্প বেঁচে গেলেও ঝুলে যাচ্ছে পাঁচ হাজার ২১৫ কোটি টাকার আরো চার প্রকল্প। করোনা মহামারীতে ব্যয় সংকোচন করতে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পসমূহকে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে।
এ ক্যাটাগরির প্রকল্পসমূহ হল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বি ক্যাটাগরির প্রকল্প মাঝারি গুরুত্বপূর্ণ। আর সি ক্যাটাগরির প্রকল্প হচ্ছে একেবারে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। সিডিএ’তে সি ক্যাটাগরির প্রকল্প নেই। ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রকল্পে বরাদ্দ শতভাগ সচল রাখা, ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬০ শতাংশ বরাদ্দ নিয়মিত রাখার কথা বলা হয়। আর ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পে আপাততঃ আর্থিক সংস্থান না করার কথাও উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়। সিডিএ’তে বর্তমানে যে ছয়টি প্রকল্পের কাজ চলছে তার মধ্যে চারটি ‘এ’ ক্যাটাগরির এবং চারটি ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্প।
সিডিএ’তে বি ক্যাটাগরির যে চারটি প্রকল্প রয়েছে তা হল ২৪০০ কোটি টাকার পতেঙ্গা আউটার রিং রোড, ২২০ কোটি বাকলিয়া এক্সেস রোড এবং ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প এবং ফৌজদারহাট হতে বায়েজিদ পর্যন্ত (বাইপাস) লুপ রোড। এর মধ্যে আউটার রিং রোড এবং বাইপাস সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস পূর্বকোণকে জানান, তাদের যেসব প্রকল্প রয়েছে তার মধ্যে সি ক্যাটাগরির প্রকল্প নেই। তবে এ ক্যাটাগরির দুইটি এবং বি ক্যাটাগরির চারটি প্রকল্প রয়েছে। লকডাউনের মধ্যেও যতটুকু সম্ভব কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।
এ ক্যাটাগরির চলমান এসব প্রকল্প থেকে বরাদ্দ কাটছাট হচ্ছে না। প্রকল্পগুলো হচ্ছে, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্প, ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। তবে ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পটি এ ক্যাটাগরির করার জন্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
প্রধান প্রকৌশলী বলেন, উল্লেখিত দুই প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়মিত থাকবে। কারণ এগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রকল্প। ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রকল্প থেকে বরাদ্দ কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। করোনার কারণে বেসামাল আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এ ধরনের একটি নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি চউককে পাঠানো হয়েছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: নগরীর সিমেন্ট ক্রসিং থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলছে। লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রথমদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ, সিটি করপোরেশন, বন্দর ও ট্রাফিক বিভাগসহ সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঠিকভাবে সমন্বয় না করায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সেসব জটিলতার অবসান হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারনে থমকে আছে কাজ।
চাক্তাই থেকে কালুরঘাট সড়ক নির্মাণ প্রকল্প:‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ মাত্র ৩৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ১২টি স্লুইচ গেইটের মধ্যে ৭টির বেইস ঢালাই সম্পন্ন হবে চলতি মাসের মধ্যেই। বাকি ৫টির কাজ শুরু হবে বর্ষার পরে। এ অবস্থায় প্রকল্প কেন্দ্রিক জলাবদ্ধতা থেকে এবারও রেহাই মিলছে না মানুষের। এদিকে, প্রকল্পটি বি ক্যাটাগরিতে পড়ে যাওয়ায় কাজের গতি আরো ধীর হবে। প্রকল্পটির অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি আছে। তবে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী জানান, যেহেতু এটি জলাবদ্ধতা রিলেটেড প্রকল্প। তাই এটিকে এ ক্যাটাগরির করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প: চট্টগ্রাম নগরকে বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে বাঁচানোর জন্য সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয় সরকার। বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনের জন্য গৃহীত প্রকল্পের আওতায় খালের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও খালের মাটি উত্তোলনের কাজ চলছে সীমিত আকারে।
বাকলিয়া এক্সেস রোড : প্রকল্পের কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। তবে নির্মাণাধীন রোডের অ্যালাইনমেন্টের ওপর গড়ে ওঠা একটি ভবনের কারণে থমকে গেছে কাজ। এ ছাড়া বাড়ানো হচ্ছে মেয়াদ ও ব্যয়।
আউটার রিং রোড : পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত সিটি আউটার রিং রোডের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে এ রোডে যান চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
ফৌজদারহাট বায়েজিদ বাইপাস সড়ক : ৩২০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

The Post Viewed By: 113 People

সম্পর্কিত পোস্ট