চট্টগ্রাম সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শীঘ্রই হচ্ছে না চসিক নির্বাচন
করোনা-পাহাড় ধসের শঙ্কা, ৫ আগস্ট হচ্ছে না চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

৩ জুন, ২০২০ | ৬:২৩ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

শীঘ্রই হচ্ছে না চসিক নির্বাচন

এখন আর হচ্ছে না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ঘোষিত তফসিলে ভোটগ্রহণের পরিবেশ-পরিস্থিতি না থাকায় চসিক নির্বাচন হচ্ছে না। কমিশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কর্মকর্তারা।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান পূর্বকোণকে বলেন, ‘করোনো পরিবেশ-পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য উপ-নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। সেই হিসাবে এখন নির্বাচনের কোনো পরিবেশ আর নেই।’ ঘোষিত তফসিলের বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আইনের কিছু সংশোধনের জন্য কমিশনে চিঠি দেওয়া হবে। এরপর কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেয়, সেভাবেই নির্বাচন হবে।’
আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চসিক নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা ছিল আইনে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ এর ৩৮(১) এর ‘ক’ ধারায় রয়েছে, করপোরেশনের মেয়াদ মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। একই আইনের ৬নং ধারায় বলা আছে, করপোরেশনের প্রথম সভা থেকে মেয়াদ ৫ বছর হবে। সেই হিসাবে আগামী ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ও চট্টগ্রামের একাধিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমিত আকারে গণপরিবহন ও লকডাউন খুলে দেওয়া হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। করোনাভাইরাস সার্বিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। বরঞ্চ খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন। কারণ ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে না। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচারণায় প্রচুর লোকের সমাগম থাকে। থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। এতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ এখন আর অনুকূলে নেই। তাই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মুনীর হোসাইন খান পূর্বকোণকে বলেন, ‘ঘোষিত তফসিলের নির্বাচন হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। করোনো পরিস্থিতির কারণে দেশের সব নির্বাচন আপাতত স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।’ গতকাল মঙ্গলবার অনলাইনে কমিশনের সঙ্গে সভার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো পরিবেশ নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে।’ ঘোষিত তফসিল নাকি নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। কমিশন যেভাবে সিদ্ধান্ত নেই, সেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
গত ১৬ ফেব্রæয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। ৯ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর ভোটের মাঠে ছিলেন প্রার্থীরা। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর চসিক নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা দলবল নিয়ে প্রচার-প্রচারণা প্রচুর লোকের সমাগম হয়ে আসছিল। নির্বাচন স্থগিত করার জন্য কমিশনে আবেদন করেছেন ৫ মেয়র প্রার্থী। নির্বাচন স্থগিত না করলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কারা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মাঠে ছিল মেয়র পদে সাতজন, কাউন্সিলর পদে ১৬৩ জন ও মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন প্রার্থী। এখন নির্বাচন বাতিল করায় প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করেপারেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ৮ আগস্ট। করপোরেশনের মেয়াদ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে আইনি জটিলতায় পড়বে সিটি নির্বাচন।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯ এর ২৫(১) এ উল্লেখ রয়েছে ‘কোন সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ হইলে, সরকার সিটি কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যপ্ত উহার কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে। একই আইনের গ ধরায় বলা হয়েছে, কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদোত্তীর্ণের ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের অধিককাল দায়িত্বে থাকিতে পারিবে না।
তবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও প্রধান নির্বাচন কমিশনের হাতে আরও ১৮০ দিন সময় আইনে বেঁধে দিয়েছে বলে জানান নির্বাচন কর্মকর্তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে ঘোষিত তফসিলে নির্বাচন হবে নাকি নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে।

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 388 People

সম্পর্কিত পোস্ট