চট্টগ্রাম রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০

সর্বশেষ:

চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের উদ্বেগ

২ জুন, ২০২০ | ৯:৩১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের উদ্বেগ

চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতির আশংকাজনক অবনতিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৯৯৫ জন। কিন্তু টেস্টের অপ্রতুলতার কারণে অসংখ্য মানুষ সংক্রমণ শণাক্তের বাইরে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে করোনা চিকিৎসার জন্যে যে হাসপাতালগুলো নির্ধারিত হয়েছে তাতে রোগীর অত্যধিক চাপে সেখানে কোন আসনখালি নেই। নতুন ঘোষিত হাসপাতালগুলো পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না বলে সরকারি মহলের লোকজনই বলছেন। ডাক্তারসহ সকল সেবাকর্মীদের জন্যে পর্যাপ্ত জীবন সুরক্ষা সামগ্রী ও মানসম্পন্ন আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থাও হয়নি। আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত ৩৩০ টি বেড এবং মাত্র ১০টি আইসিইউ দিয়ে চট্টগ্রামে করোনা যুদ্ধ মোকাবেলা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ডা মাহফুজুর রহমান, প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, লেখিকা ফেরদৌস আরা আলীম, এডভোকেট সালাহউদ্দিন হায়দার, এডভোকেট ভুলন ভৌমিক, এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী, কমরেড অশোক সাহা, কমরেড অপু দাশগুপ্ত, ডা. চন্দন দাশ, ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, সাবেক কাউন্সিলর বিজয় কৃষাণ চৌধুরী, প্রফেসর কুন্তল বড়ুয়, জনাব নূরুল আবচার, মো. ইয়াছমিন, এডভোকেট আমীর আব্বাস তাপু, কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস পপি, এডভোকেট বিশুময় দেব, সত্যজিৎ বিশ্বাস, ধ্রুব জ্যোতি হোড় প্রমুখ।

বিবৃতিতে তারা বলেন ‘এই অবস্থায় সরকার সবকিছু স্বাভাবিক করে জনজীবন সচল করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এতে পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি ঘটবে। এ অবস্থায় আমরা চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার সুবন্দোবস্তে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এই সঙ্গে দাবি জানাচ্ছি মানুষ যেন অন্তত মৃত্যুর আগে নূন্যতম চিকিৎসা সেবা পায়। এজন্য কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সরকারের বিবেচনার জন্য তুলে ধরছি –

‘‘সকল বেসরকারি হাসপাতালকে রিকুইজিশন করে কোভিড- নন কোভিডে ভাগ কর। রাষ্ট্রীয় খরচে কোভিড চিকিৎসা নিশ্চিত কর। করোনা চিকিৎসার জন্য সরকার ঘোষিত হাসপাতালগুলো অবিলম্বে চালু করতে হবে। করোনা চিকিৎসার সকল হাসপাতাল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। ব্যাপকহারে টেস্ট বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন শ্রমিক অঞ্চলে টেস্ট সহজলভ্য করে দিতে হবে।’’

‘‘বিশ্বমহামারির এই সময়ে মানুষকে বাঁচাতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজের সবটুকু সামর্থ্য ও ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে উপরে উল্লেখিত পদক্ষেপ নেয়া না হলে আমরা আরও গুরুতর মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হব।’’

পূর্বকোণ/পিআর

The Post Viewed By: 296 People

সম্পর্কিত পোস্ট