চট্টগ্রাম শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

সর্বশেষ:

বাড়তি ভাড়া- করোনার ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

৩০ মে, ২০২০ | ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাড়তি ভাড়া- করোনার ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠার ঈদ কাটিয়ে নগরে ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আজ শনিবার থেকেই খোলা ছিল। আগামীকাল  রবিবার থেকে খুলছে অফিস আদালতও। তাই হাজারো বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নাড়ির টানে গ্রামে যাওয়া মানুষ ফের শত কষ্ট শিকার করে পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে ফিরছে।

বাড়তি ভাড়া- করোনার ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
শাহ আমানত সেতু পায়ে হেঁটে পার হয়ে নগরীতে ঢুকছে কর্মজীবী মানুষ।

ফটিকছড়ির বাসিন্দা জালাল উদ্দিন চৌধুরী পূর্বকোণকে জানান, তিনি সাগরিকা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি গিয়েছিলেন। আজ শনিবার ভোরে ফের কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এসময় তাকে চারটি গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। প্রথমে তিনি হাটহাজারী পর্যন্ত একটি সিএনজি ট্যাক্সিযোগে আসেন। সেখানে থেকে পর পর আরো তিনটি গাড়ি পরিবর্তন করে কর্মস্থলে পৌঁছেন। তাই ভাড়া গুনতে হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন।
একইভাবে নগরীর প্রবেশদ্বার শাহ আমানত সেতু, এবং সিটি গেইট দিয়েও হাজারো মানুষ শহরে ঢুকছে। বিভিন্ন যাত্রীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, নানা কষ্ট সহ্য করে স্বজনদের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়িতে গেলেও ঈদ ছিল আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠার।

যারা শহর থেকে বাড়িতে গেছে তাদেরকে নিয়ে এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে ছিল। কেউ কারো বাড়িতে যায়নি। অসচেতন কেউ কারো বাড়িতে আবেগের বসে চলে এলেও তাকে দ্রুত বিদায় দেয়ার চেষ্টা করেছে। এবার ঈদের সালামি থেকেও বঞ্চিত হয়েছে শিশুরা।
ফেনীর বাসিন্দা মোহাম্মদ রুহুল আমিন পূর্বকোণকে জানান, এই ধরনের ঈদ কাটাতে হবে তিনি জীবনেও কল্পনা করেননি। চট্টগ্রাম শহর থেকে বাড়িতে যাওয়ার পর তিনি বাড়ির সামনে পুকুর থেকে গোসল করে বাড়িতে প্রবেশ করেছেন। তারপরও বাড়ির বয়স্ক এবং শিশুদের কাছে যেতে তিনি ভয় পেয়েছেন। বাড়িতে এসে যেন তিনি অপরাধ করে ফেলেছেন এমনভাবে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। ছুটি শেষে  তিনি আজ কয়েকটি গাড়ি পরিবর্তন করে বন্দর নগরীর কর্মস্থলে আসেন।

এদিকে, মানুষ ছোট ছোট যানবাহনে কর্মস্থলে ফেরার কারণে তাদের ঝুঁকি আরো বাড়ছে উল্লেখ করে একাধিক যাত্রী জানান, সিএনজি ট্যাক্সিতে সামনে দুইজন এবং পেছনের সিটে তিনজন বসতে হয়। এখানে শারীরিক বা সামাজিক দুরত্বের বালাই নেই। একজনের গা ঘেঁষে অপরজনকে বসতে হয়। এসব যানবাহনে সারাদিনে যদি একজন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীও বসে তাহলে সারাদিন ওই গাড়িতে যত যাত্রী বসবে সবাই আক্রান্ত হবে। কারণ লোকাল গাড়িগুলোর যাত্রী একবার নেমে যাওয়ার পর ফের যাত্রী উঠানোর আগে সিট জীবাণূমুক্ত করা হয় না। তাই একবার গ্রামের বাড়িতে যাওয়া এবং আবার ফিরে আসার সময় যাত্রীদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। অনেকেই আক্রান্তের ভয়ে মাইলকে মাইল পায়ে হেঁটে নগরীতে প্রবেশ করেছে।

পূর্বকোণ/ আরআর- ইফতেখার

The Post Viewed By: 140 People

সম্পর্কিত পোস্ট