চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে সামুদ্রিক মাছের বাজার

২০ মে, ২০২০ | ৯:০২ অপরাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে সামুদ্রিক মাছের বাজার

একমাস আর্থিক ক্ষতি চাপিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে সামুদ্রিক মাছের বাজার। করোনার প্রাদুর্ভাবে গত এপ্রিল মাসজুড়ে সামুদ্রিক মাছের দাম অস্বাভাবিকহারে কমে গিয়েছিলো। চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকার কর্ণফুলীঘাটকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সামুদ্রিক মাছের বিশাল কর্মযজ্ঞ। জাহাজ ও ঘাট মিলে প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষের জীবন জীবিকা জড়িত।
দেশের সীমানা পেরিয়ে এখানকার বেশ কয়েক ধরনের মাছ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। বিশেষ করে ক্যাটল ফিশ, চিংড়ি, রূপচাঁন্দা, কাবিলা মাছ ও ছুরি মাছ রপ্তানি হয় বেশী। সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি গুড়ি সারাদেশে পোল্ট্রি ফার্ম ও ফিস ফিডের জন্য সরবরাহ হয়ে থাকে। আজ থেকে আগামী ৬৫ দিন সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এরমধ্যে যোগ হয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। যার কারণে মাছ ধরার জাহাজাগুলো আগামী ৬৫ দিনের জন্য নোঙর ফেলেছে কর্ণফুলীর বুকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কর্ণফুলী ঘাটকে ঘিরে প্রায় ছোট-বড় ও মাঝারি ১৫০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। দেশের খ্যাতনামা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জড়িত সামুদ্রিক মাছ ব্যবসার সাথে। সারাদেশে ৯০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছের চাহিদা মিটানো হয় কর্ণফুলী ঘাটে উঠা মাছ দিয়ে। করোনার বিস্তাররোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ‘লকডাউন’ শুরু হলে মাছের দাম কমে যায় অস্বাভাবিকভাবে। বন্ধ হয়ে যায় কক্সবাজারের নাজিরের টেকের শুঁটকি শুকানোর মাঠের কার্যক্রম। নগরীর খাতুনগঞ্জের শুঁটকি পল্লীতেও বন্ধ হয় বেচাকেনা। ৮০ টাকা কেজির চাপিলা মাছ ৫৫ টাকায় নেমে যায়। একইভাবে ৪০ টাকার ফাইস্স্যা (প্রতি কেজি) ২৫ টাকা, ৬০ টাকার ছুরি শুঁটকি ৩০ টাকায় বিক্রি করা হয়। ১২ টাকার পোল্ট্রি ফিড ৫ টাকায় নেমে এসেছিলো।
কর্ণফুলী ফিস মার্কেট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সামুদ্রিক মাছ রপ্তানিকারক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান শাহেদ জানান, ঢাকার গাজিপুর আর পুরো উত্তারাঞ্চলজুড়ে কর্ণফুলী ঘাট থেকে সামুদ্রিক মাছ সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও এ ঘাটের পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সামুদ্রিক মাছ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। আর্থিক ক্ষতি পোষাতে না পেরে এপ্রিল মাসজুড়ে অর্ধেকের বেশি জাহাজ সমুদ্রে যায়নি মাছ মারতে। এতে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে এসে মাছের কিছুটা সংকট হয়। আজ (বুধবার) থেকে আগামী ৬৫ দিনের জন্য সমুদ্রে মাছ মারা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় ব্যবসায়ীরা মাছ মজুদ করে থাকে। সবকিছু মিলিয়ে মাছের দাম মে মাসের শুরু থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। বর্তমানে প্রতিকেজি চাপিলা ৮০, কলম্বো ৬৫, ফাইস্স্যা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও এ কয়দিনে লইট্টা, লালপোয়া, বুলেট ও ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে প্রচুর। তবে সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে চাপিলা মাছ।
শুঁটকির রমরমা বাজার : সামুদ্রিক মাছের সবচেয়ে বেশি শুঁটকি শুকানো হয় কক্সবাজারের নাজিরের টেক এলাকায়। এছাড়াও টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, জালিয়াপাড়া, উপকূলীয় এলাকা কুতুবদিয়া, মহেশখালীর সোনাদিয়া, গোরকঘাটা, তাজিয়াকাটা, কুতুবজোম, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ, খুদিয়ারটেক, আলি আকবর ডেইল, অংজাখালী, পশ্চিম ধুরুং, সদর উপজেলার নাজিরারটেক, খুরুশকুল, সমিতিপাড়া, চৌফলদ-িসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় বিপুল পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদন হয়ে থাকে। কক্সবাজার এলাকা থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ টন শুঁটকি মাছ ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
এছাড়াও শুঁটকি মহালের মাছের গুঁড়ি সারাদেশে পোল্ট্রি ফার্ম ও ফিস ফিডের জন্য ব্যবহার হয়। ঢাকার বড় বড় ফিস ফিডের ফার্মসহ দিনাজপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা মেটায়। প্রতি মৌসুমে নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল থেকে লইট্টা, ফাইসশ্যা, পোয়া, ছুরি, মাইট্যা, কেচকি, রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিদেশে রপ্তানি হয়। ১৯৭২ সাল থেকে সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। প্রতি অর্থবছরে শুধু কক্সবাজার অঞ্চল থেকে ১৫০ কোটি টাকার বেশি সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি হয়। যার সিংহভাগ যোগান দেয় কর্ণফুলী ঘাটের হিমায়িত জাহাজগুলো। বছরের নয়মাস শুঁটকি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ হয়ে থাকে। কক্সবাজারের কুতুবদিয়াপাড়ার ৯৫ ভাগ লোক শুঁটকি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পরিবারের ব্যয়-ভার বহন করে থাকে।

The Post Viewed By: 75 People

সম্পর্কিত পোস্ট