চট্টগ্রাম বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খালি নেই, সংকটাপন্ন রোগী এলে মাইনেস ফর্মুলায় ভর্তি

১৯ মে, ২০২০ | ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

নগরীতে নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক ­আইসোলেশন হাসপাতাল

খালি নেই, সংকটাপন্ন রোগী এলে মাইনেস ফর্মুলায় ভর্তি

­রেলওয়ে হাসপাতালকে ­আইসোলেশন হাসপাতালে ­বাস্তবায়ন দু’ মাসেও হয়নি।

প্রতিদিন বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। চট্টগ্রামের তিনটি হাসপাতাল ইতিমধ্যে রোগীতে ভর্তি হয়ে গেছে। মার্চ মাসের শুরুর দিকে নগরীতে আইসোলেশন হাসপাতাল তৈরি করার উদ্যোগ নিলেও দুইমাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নগরীতে নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন হাসপাতাল। মাইনাস ফর্মুলায় চলছে জেনারেল হাসপাতাল।
চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির গত ৫ মার্চ সিআরবিতে অবস্থিত রেলওয়ে হাসপাতালকে আইসোলেশন হাসপাতাল হিসাবে তৈরি করতে চিঠি দিয়েছিলেন রেল কর্তৃপক্ষকে।
৯২ শয্যার রেলওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এখন খালি। স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়েও বলেছিল, হাসপাতালটি করোনা হাসপাতাল হিসেবে দিতে তাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে এখন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলছেন, চট্টগ্রামে কোনো আইসোলেশন হাসপাতাল এ মুহূর্তে দরকার নেই। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, রেলওয়ে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও সিটি করপোরেশনের একটি হাসপাতাল মিলে ৪০০ শয্যার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কেউ থাকতে চাইলে সেখানেই থাকতে পারবেন।
করোনা আক্রান্ত রোগী অনেকেই বাসায় থেকে টেলিফোনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাসায় আইসোলেশনের থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীরা নিয়ম মেনে চলছেন কিনা তার নজরদারি করা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, টেলিফোনে যোগাযোগ করলে আমরা কিভাবে ওষুধ খাবে, কিভাবে চলাফেরা করবে সেইসব পরামর্শ দিচ্ছি। তবে তারা নিয়ম মেনে আইসোলেশনে থাকছেন কিনা তা দেখভাল করার দায়িত্ব স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের।
প্রশ্ন উঠেছে অনেকের বাসায় আইসোলেশনে থাকার সুবিধা নেই। যেমন, গার্মেন্টস কর্মী, মধ্যবিত্ত-নি¤œমধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন, যারা মেসে থাকেন তারা করোনা আক্রান্ত হলে কোথায় থাকবেন।
বাসায় আইসোলেশনে থাকা করোনা আক্রান্তদের নজরদারি প্রসঙ্গে নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) আবদুল ওয়ারিশ বলেন, শুরুর দিকে বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি পুলিশ দেখভাল করেছিলো। যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমছিলো তখনও আক্রান্ত ব্যক্তির বাসায় পুলিশ পাহারা রাখা হয়েছিলো। ৬০-৭০টি করোনা আক্রান্ত রোগীর বাসা আমরা নিয়মিত পাহারায় রেখেছিলাম। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেলে দিনভর পুলিশ দিয়ে পাহারা রাখা কঠিন হয়ে যায়। তবে থানার মোবাইল ডিউটির গাড়ি নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করে।
উপ-কমিশনার ওয়ারিশ বলেন, নিজে সচেতন না হলে পাহারা দিয়ে কখনো সম্ভব নয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন হাসপাতাল থাকলে ভাল হতো। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা যেতো। এতে করোনা নিয়ে কাজ করা সব প্রতিষ্ঠানের চাপ কমতো।
করোনা চিকিৎসার জন্য কয়েকটি স্তর রয়েছে। যাদের কোনো করোনা উপসর্গ নেই তাদের সংক্রমিত এলাকা থেকে আসার পর ১৪দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এরমধ্যে কারো শরীরে জীবাণু থাকলেও তা হয় মারা যাবে নয়তো ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হবেন। আর উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর নমুনা পরীক্ষার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়কে অবজারভেশন বলা হয়। উপসর্গ থেকে করোনা পজিটিভ পাওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট স্থানে আলাদা রেখে চিকিৎসা করাটা আইসোলেশন বলে পরিচিত। শেষ পর্যায়টা রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
করোনা সমন্বয় সেলের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন হাসাপাতাল খুবই জরুরি। শুরু থেকেই আইসোলেশন হাসপাতালের উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নি¤œ মধ্যবিত্ত, গার্মেন্টস কর্মী, চাকরিজীবী অনেকে স্বল্প খরচে এক জায়গায় থাকে। কেউ মেসে থাকে, কেউ ব্যারাকের মতো করে থাকে। তারা করোনা আক্রান্ত হলে কোথায় যাবেন।
ডা. মিনহাজ বলেন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এখন চলছে মাইনাস ফর্মুলায়। কারণ হাসপাতাল রোগীতে ভর্তি। এ অবস্থায় শংকটাপন্ন কোন রোগী আসলে করোনা উপসর্গ নিয়ে থাকা কম গুরুত্বপূর্ণ রোগী সিট থেকে নামিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে সিট খালি করা হচ্ছে। এটা কিন্তু সমাধান নয়।
চট্টগ্রামে ভেন্টিলেটর সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা দেওয়ার জন্য শয্যা রয়েছে ১১০টি। ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে শয্যা আছে ৩০টি। আর বেসরকারি ফৌজদারহাট ফিল্ড হাসপতালে শয্যা ৫০টি। সবগুলো এখন ভর্তি। ফলে নতুন করে এখানে কোনোটিতেই আর রোগী ভর্তি করা যাচ্ছে না। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে ভর্তি করতে হলে কম গুরুত্বপূর্ণ কাউকে শয্যা থেকে বের করে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে সেখানেই আইসোলেশনে থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিতে।
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল বলেন, আইসোলেশন হাসপাতালের দরকার আছে। কিন্তু নতুন হাসপাতাল চালানোর মতো লোকবলতো নেই। চট্টগ্রামে যে ৭৩ চিকিৎসক নতুন করে নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আনা হচ্ছে। কারণ এখানে নতুন করোনা হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, করোনা রোগের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টরা খুবই চাপে থাকেন। গতকাল জেনারেল হাসপাতাল থেকে সুজন ও মৃদুল নামের দুই ওয়ার্ড বয় পালিয়ে গেছেন। অথচ তারা হাসপাতালে কাজ করতো আর হোটেলে থাকতো। পালিয়ে যাবার আগে বলেছিলেন, তাদের বেতনও লাগবে না। এ ধরনের সমস্যাও চিকিৎসকদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, করোনা রোগীর অক্সিজেন সিলিন্ডার আনা থেকে এ ধরনের কিছু কাজের জন্য সার্বক্ষণিক ওয়ার্ড বয় লাগে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 388 People

সম্পর্কিত পোস্ট