চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

৩ সাংবাদিকসহ আক্রান্ত ৫৪
চমেক-সিভাসু ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় ১১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত

১৯ মে, ২০২০ | ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩ সাংবাদিকসহ আক্রান্ত ৫৪

চট্টগ্রামে আক্রান্তদের মধ্যে ২১ জন নগরের ও ৩৩ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা

বৈশ্বিক মহামারী করোনার সংক্রমণ দেশে ক্রমেই বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রামেও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। যেখানে করোনায় ফ্রন্টলাইন ফাইটার ডাক্তার ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে পুলিশেও। বাদ যাচ্ছে না সংবাদকর্মী কিংবা সাংবাদিকের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যাও। ইতোমধ্যে গতকাল সোমবার চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮শ ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে তিন সাংবাদিকসহ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৪ জন। যাদের মধ্যে বরাবরের মতো পুলিশ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও শিশু রয়েছেন।
চট্টগ্রামে এর আগেও তিনজন সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একজনের স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হন। তারমধ্যেই গতকাল আরও তিনজন সাংবাদিক আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাসে। যাদের মধ্যে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের রিপোর্টার জোবায়ের মঞ্জু, ক্যামরাপার্সন মো. হারুন এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামরাপার্সন মো. আলমগীর রয়েছেন।
তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বমোট চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ^বিদ্যালয় (সিভাসু) এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে সর্বমোট ২২২ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যাতে সর্বমোট ৫৬ জনের ফলাফল পজেটিভ আসে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের ৫৪ জন রয়েছেন। বাকি দুইজন খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দা। তাও দুইজনেই খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক বলে জানা গেছে। তবে এদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নুমনা পরীক্ষা হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন থেকে এ ল্যাবে পরীক্ষার ফলাফল প্রতিদিন সকালে প্রকাশিত হবে।
গতকাল সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, চট্টগ্রামে আক্রান্তদের মধ্যে ২১ জন নগরের ও ৩৩ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এরমধ্যে একজনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই মৃত্যু হয়।
জানা যায়, মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি বাঁশখালীর উত্তর জলদীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আকতার হোসেন (৪২)। যিনি গতকাল সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে বাঁশখালী উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
চট্টগ্রামে শনাক্ত যারা :
বিআইটিআইডিতে শনাক্তদের মধ্যে পটিয়ার মাঝিরঘাটার ৩২ বছরের পুরুষ, চন্দনাইশের হাজীরপাড়ার ১৩ বছরের কিশোর, হাটহাজারীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কোরবান আলী বাড়ির ৩৫ বছরের পুরুষ, মিরসরাইয়ের ১৭ বছরের তরুণী, সীতাকু-ের বাঁশবাড়িয়ার ৪৮ বছরের পুরুষ, নগরীর দুই নম্বর গেট আল ফালাহ গলির ৫৪ বছরের বৃদ্ধ, দামপাড়ার ৪২ বছরের পুরুষ, দামপাড়া পুলিশ লাইনের ৩১ বছরের পুলিশ সদস্য, দামপাড়ার ২৪ বছরের যুবক, আগ্রাবাদের মুহুরীপাড়ার ৪৮ বছরের নারী, হালিশহর পুলিশ লাইনের ৩০ বছরের পুলিশ সদস্য, সীতাকু-ের শীতলপুরের এক পুরুষ, আগ্রাবাদের মুহুরীপাড়ার ৫২ বছরের বৃদ্ধ, ৬০ বছরের বৃদ্ধ, বন্দরটিলার ২৬ বছরের যুবক, ২৫ ও ২১ বছরের যুবক, শিল্প পুলিশের ২২ বছরের পুলিশ সদস্য, পাহাড়তলীর ৩৮ বছরের এক নারী চিকিৎসক, আসকারদিঘির পাড়ের কর্ণফুলী টাওয়ারের ৩৪ বছরের পুরুষ, আসকারদিঘির পাড়ের ৩২ বছরের পুরুষ, একই এলাকার ৩০ বছরের পুরুষ, আকবরশাহ মসজিদ এলাকার ৫৬ বছরের বৃদ্ধ ও ৩৫ বছরেরর নারী, বায়েজিদের টেক্সটাইলের ৪৯ বছরের পুরুষ, ১৯ বছরের যুবক, বাঁশখালীর ৫ ন্ববর ওয়ার্ডের উত্তর জুলদী গ্রামের ৪২ বছরের পুরুষ (মৃত) রয়েছেন।
সিভাসুর ল্যাবে শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে পটিয়ার ৩০ বছরের পুরুষ, পটিয়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়াইশের ৩৮ বছরের পুরুষ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২০ বছরের যুবক, একই পরিবারের ৪৪ বছরের পুরুষ, ৬০ বছরের বৃদ্ধ, পটিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুসুমপুরের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ, কর্ণফুলীর চরলক্ষ্মার ৪০ বছরের পুরুষ, একই পরিবারের ৩০ বছরের নারী, সীতাকু-ের পূর্ব সৈয়দপুরের ১৮ বছরের যুবক, সীতাকু-ের মুরাদপুর গুলাবাড়িয়ার ৪৬ বছরের নারী, সীতাকু- উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ৪৮ বছরের স্বাস্থ্যকর্মী, পশ্চিম মহাদেনপুরের ৫ বছরের শিশু, দক্ষিণ দারোগারহাট পূর্ব লালানগরের ৬০ বছরের বৃদ্ধ, একই গ্রামের ৫৫ বছরের বৃদ্ধা, ৩৫ বছরের পুরুষ, বারকু-ের ওসিনগরের ২২ বছরের যুবক, একই পরিবারের ৫৩ বছরের বৃদ্ধ, হাটহাজারীর কাটিরহাটের কাশেম আলী তালুকদার বাড়ির ২৪ বছরের যুবক, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হেদায়েত আলীর বাড়ির ২২ বছরের যুবক, পশ্চিম দেওয়ান নগরের ছানুমিয়া ভবনের ৩১ বছরের পুরুষ, পশ্চিম দলইয়ের রতন ডাক্তারের বাড়ির ৬৪ বছরের বৃদ্ধ, বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩২ বছরের এক চিকিৎসক রয়েছেন।
গত ২৪ ঘন্টায় পরীক্ষা হওয়া ১২৪ জনসহ বিআইটিআইডি এ নিয়ে ৬ হাজার ৮২৩ জনের নমুনা এবং সিভাসুর ল্যাবে ১ হাজার ৭২৩ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ল্যাবে এখন পর্যন্ত ৬৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যারমধ্যে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৮৪৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 121 People

সম্পর্কিত পোস্ট