চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

ব্রয়লার মুরগি : কেজি প্রতি বাড়ল ২৫ টাকা

১৪ মে, ২০২০ | ৮:০২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্রয়লার মুরগি : কেজি প্রতি বাড়ল ২৫ টাকা

দীর্ঘদিন ধরে দাম কম থাকলেও হঠাৎ করে ফের দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। করোনাভাইরাসের কারণে গত এক মাসেরও বেশি সময় পোল্ট্রি খামারিরা ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা সংগ্রহ করেনি। এতে গত দুই দিন ধরে চাহিদার তুলনায় যোগান কমে যাওয়ায় ১১৫ টাকার ব্রয়লার মুগির দাম লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়।
গত দুই মাসেরও বেশি সময় করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ও শহরে মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়া বাজারে মুরগির চাহিদা প্রায় ৭০ ভাগ কমে যায়। এছাড়া যানবাহন না চলার কারণে বিভিন্ন উপজেলা থেকে শহরে মুরগি আসা বন্ধ ছিল। এতে অনেক মুরগি খামারেই মারা যায়। এমন পরিস্থিতিতে খামারিরা লোকসানে পড়ে আর নতুন করে মুরগির বাচ্চা সংগ্রহ থেকে বিরত থাকে। যার ফল স্বরূপ ইতোমধ্যে বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে মুরগির। এছাড়া বর্তমানে বাজারে যে মুরগি আসছে তা ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প।
গতকাল সরেজমিন নগরীর কর্ণফুলী কমপ্লেক্সে দেখা যায় বাজারে ব্রয়লার মুরগির পরিমাণ তুলনামূলক কম। শুধু ব্রয়লার মুরগিই নয়, কম ছিল লেয়ার ও দেশি মুরগিও। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার, লেয়ার ও দেশি মুরগি। চকবাজারের মুরগি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর বলেন, পটিয়া, দোহাজারী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে শহরে মুরগি আসছে না বললেই চলে। এতোদিন লকডাউনের কারণে আসেনি তবুও মুরগির দাম কম ছিল। তবে এখন পোল্ট্রি খামারিরা মুরগি দিতে পারছে না। তাই বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় মুরগি নেই। এতে দাম বেড়েছে মুরগির। আমরাও পোল্টি খামারিদের থেকে বেশি দামে মুরগি আনছি। তাই বেশি দামে আমাদেরও বিক্রি করতে হচ্ছে। রমজানের প্রথম দিকে এক কেজি মুরগি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর এখন এক কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। প্রতি কেজি মুরগিতে প্রায় ২৫ টাকা দাম বেড়েছে। পাকিস্তানি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায় ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪শ টাকায়।
পটিয়ার এক খামারি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গত দুই মাসে যে পরিমাণে লোকসান আমাদের হয়েছে এটা আগে কখনোই হয়নি। তাই এমন খারাপ সময়ে নতুন করে আবার মুরগির বাচ্চা সংগ্রহ করার সাহস পাচ্ছি না আমরা। একেবারে ঘুরে দাঁড়ানো দায় হয়ে গেছে আমার ও আমার মত অনেক খামারির। করোনার এ ধাক্কা সামলে উঠতে দুই বছরেরও বেশি সময় লাগবে। আমি একাই দুই মাসে ২৫ লাখ টাকার লোকসান গুনেছি। গত দুই মাসে করোনাভাইরাসের কারণে বাজারে মুরগি ডেলিভারি দিতে পারিনি। তাই প্রতিদিন খামারেই কয়েক লাখ টাকার মুরগি মারা যায়। এভয়ে এবারে আমরা মুরগির বাচ্ছা সংগ্রহ করছি না। আমাদের এখানে অনেক ব্যবসায়ী বাচ্চা সংগ্রহ করছে না। কারণ করোনার প্রভাব এখনো কাটেনি। আবার লোকসানের ভয় আছে। করোনা মহামারীর মধ্যে আমরা একটি মুরগি মাত্র ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। এভাবে ব্যবসা চললে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।

পূর্বকোণ/ আরআর

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 165 People

সম্পর্কিত পোস্ট