চট্টগ্রাম বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

ঢিলেঢালা নজরদারিতে বাসায় থাকা করোনা রোগীরা

১৩ মে, ২০২০ | ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

ঢিলেঢালা নজরদারিতে বাসায় থাকা করোনা রোগীরা

চট্টগ্রামে বাড়িতে থেকেই করোনা চিকিৎসা নিচ্ছেন ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ রোগী। আর বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়া করোনা রোগীরা শতভাগ নজরদারিতে নেই। করোনা ছড়ানোর প্রাথমিক দিনগুলোতে চট্টগ্রামে কারো কোভিড-১৯ শনাক্ত হবার পর ওই ব্যক্তির বাসাসহ পুরো ভবনটিকে লকডাউন করা হতো ১৪ দিনের জন্য। বাসার বাইরে দিনেরাতে পুলিশের পাহারা বসিয়ে লকডাউন নিশ্চিত করা হতো। এখন সহকর্মীরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫শ পুলিশ সদস্য কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন। ফলে চট্টগ্রামে নতুন নতুন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেও পুলিশ দিয়ে আর তাদের বাসা পাহারা দেওয়া যাচ্ছে না। এতে অনেক করোনা পজিটিভ লোক লকডাউনের নিয়ম ভাঙছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রামে ৬৪ জন করোনা আক্রান্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা শনাক্তদের এক চতুর্থাংশেরই শরীরে কোনো ধরনের উপসর্গ নেই। এসব মানুষ দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। লকডাউন মানছে না। তাই তাদের মাধ্যমেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা নতুন করে তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, এখনতো আর কোনো নির্দিষ্ট বাড়ি কিংবা এলাকার কথা বলে লাভ নেই। আমরা সবাই উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছি। লকডাউন মানতে বাধ্য করার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ কোয়ারেন্টিনে। আমরা বাধ্য হয়ে কিছু কিছু এলাকায় আনসার মোতায়েন করেছি। তবে সব কথার শেষ কথা হলো আক্রান্তদের লকডাউন মানতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩৩২ জনের। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৭০ জন। মারা গেছেন ২১ জন। করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন আছেন ৯৪ জন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে আছেন ১০ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৭৬ জন আর ফৌজদারহাট ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮ জন। এছাড়া এই তিন হাসপাতালে আইসোলেশন ও করোনা সন্দেহজনক রোগী আছেন ৭৯ জন। বাকী ৬৮ জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সর্বশেষ ৬৮ জনের বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেখা দিচ্ছে সমস্যা। বাড়ির সামনে হরহামেশা পুলিশের পাহারা নেই। তখনই এদের কেউ কেউ বের হয়ে পড়ছেন ঘর থেকে। নিজের কাজকর্ম সেরে আবার ফিরছেন বাসায়। কিছু কিছু বাসায় এলাকার লোকজন, পুলিশ ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বাসায় তালা দিয়ে দেওয়া হয়, যাতে করোনা শনাক্ত ব্যক্তি বাসার বাইরে যেতে না পারেন। তবে উপসর্গহীন করোনা শনাক্তরা দিব্যি বের হচ্ছেন।
এমন কয়েকজন লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নমুনা পরীক্ষার পর বলা হয়েছে করোনা পজিটিভ। কিন্তু জ্বর, সর্দি, কাঁশি, বমি কিংবা পাতলা পায়খানার মতো কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। এতে ওই ব্যক্তি নিজেকে সুস্থ বলে দাবি করেন এবং আর করোনা হবে না বলেই ঘোষণা দিয়ে ঘুরছেন।
তবে কয়েকটি থানার ওসি বলেছেন, এ ধরনের কাউকে পাওয়া গেলে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধে মামলা হবে। করোনা সংক্রমিতরা সচেতন না হলে তা তার পরিবার ও সমাজের জন্য খুবই খারাপ হবে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা এখন পুরো ভবন লকডাউন না করে করোনা শনাক্তকারী ব্যক্তির বাসাটিতে তালা মেরে দেবার কৌশল নিয়েছি। এরপর সেখানে আনসার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানা হয়। কারণ পরবর্তীতে ওই পরীবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে এটার সত্যতা পাওয়া যায়।

The Post Viewed By: 110 People

সম্পর্কিত পোস্ট