চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ | ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভেজাল ঘিয়ের জমজমাট কারবার

রমজান মাসে ঘি’র চাহিদা বেড়ে যায়। সেহেরিতে ঘি দিয়ে গরম ভাত খাওয়াসহ সেমাই-ফিরনি, নানা ধরনের নাস্তা ও রান্নাবান্নায় ঘি ব্যবহার করা হয়। এই সুযোগে অসাধু কারবারিদের ভেজাল ঘি তৈরির প্রবণতাও বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে নগরীর বায়েজিদ ও হাটহাজারীতে বিপুল পরিমাণ ভেজাল-নকল ঘি ধ্বংস করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘি তৈরির কারখানা গড়ে ওঠেছে। বিশেষ করে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, রাজাখালী, হালিশহর, বায়েজিদ, কালুরঘাট শিল্প এলাকায় এই ধরনের কারখানা গড়ে ওঠেছে। বছরজুড়ে চাহিদা কম থাকলে রোজার মাসকে ঘিরে এর চাহিদা বেড়ে যায়। এই সুযোগে কিছু অসাধু ঘি কারবারি ভেজাল ও নকল ঘি তৈরি করে আসছে। ইতোমধ্যে এসব ঘি নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছে গেছে। নামসর্বস্ব কোম্পানি ছাড়াও নামকরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেভেল লাগিয়েও ভেজাল ঘি বাজারজাত করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও নকল ঘি উদ্ধার করে ধ্বংস করেছেন। হাটহাজারী পৌরসভার আল করিম কাঁচাবাজার এবং কাচারি রোড এলাকার কয়েকটি মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে এক হাজার লিটার ভেজাল বাঘা বাড়ির ঘি জব্দ করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, প্রতি বছর রোজার মাসকে ঘিরে ভেজাল ও নকল ঘি তৈরির প্রবণতা চলে আসছে। তাই কয়েক মাস আগে থেকে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের কারণে অসাধু কারবারিরা স্থান পরিবর্তন করে গোপন স্থানে ভেজাল ঘি তৈরি করে আসছে। বেশি লাভের আশায় নানা ধরনের ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল ঘি। বাঘা বাড়িসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঘি ভেজাল করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এ কারণে রোজার মাস শুরু হওয়ার আগ থেকে বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, অভিযান চালিয়ে এক হাজার লিটার ভেজাল বাঘা বাড়ির ঘি জব্দ করে ময়লা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ধ্বংস করা হয়েছে।
জেলার হাটহাজারী ছাড়াও নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বিসিক শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঘি ধ্বংস করেছে সিটি কর্পোরেশন ম্যাজিস্ট্রেট। নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘি তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে খাওয়ার অনুপযোগী নি¤œমানের এসব ঘি ধ্বংস করা হয়েছে।
গত বুধবার জগদীশ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন কল্পনা কমোডিটিস কোম্পানিতে অভিযান চালান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস। বিক্রয়ের জন্য মজুদ করা পাম্প অয়েল সদৃশ্য ২শ’ কার্টুন ঘি ধ্বংস ও ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন এই কারখানার প্রধান দরজা বন্ধ রেখে ভেতরে নানা ধরনের ঘি তৈরি করে আসছে। একটি কারখানায় অন্ততপক্ষে ৫-৭ টি নামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের খাবার অনুপযোগী ঘি উৎপাদন করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
২নং জালালাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় ভেজাল ও নি¤œমানের ঘি তৈরি করে আসছে। মাহে রমজান ও ঈদকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঘি কৌটায় ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে।
প্রতিবছর রমজান মাসে বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। নগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। এবার নগরীতে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য সাতজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার থেকে নগরীতে বাজার মনিটরিং শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন কার্যালয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 459 People

সম্পর্কিত পোস্ট