চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনায় চট্টগ্রামের ফার্নিচার শিল্পের তিন লক্ষাধিক মানুষ বেকার

৩ মে, ২০২০ | ৯:১৪ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

করোনায় চট্টগ্রামের ফার্নিচার শিল্পের তিন লক্ষাধিক মানুষ বেকার

চট্টগ্রামের ফার্নিচার শিল্পে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে করোনা। গত দেড় মাসে এ খাতের ব্যবসায়ীরা প্রায় দুইশ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বেকার হয়েছে উৎপাদন ও বিপণনে জড়িত তিন লক্ষাধিক মানুষ। বর্তমানে তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রতি বছর রমজান মাস তাদের ব্যবসার বড় মওসুম। এ মাসে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী ব্যবসা করে থাকে। এ জন্য তাদের আগাম প্রস্তুতিও থাকে। এবারও তারা প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু করোনা তাদের ব্যবসার বড় ধরণের আঘাত দিয়ে গেছে। এখন ব্যবসা দূরে থাক, তাদের ঠিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ছোট-বড় প্রায় ৪ হাজার ফার্নিচার কারখানা ও শো-রুম রয়েছে। করোনার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সবগুলো কারখানা ও শো-রুম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতি গুণতে থাকে ব্যবসায়ীরা। বন্ধের কারণে বেকার হয়ে পড়ে এ খাতে জড়িত কাঠমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, বিক্রয়কর্মী, দারোয়ান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকর্মী, ভ্যানচালক, ইলেক্ট্রিশিয়ানসহ অন্যান্য শ্রমিক। তারাও এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নগরীর বাকলিয়া বলীরহাট ফার্নিচার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বলীরহাট এলাকায় ছোট-বড় দেড় হাজার ফার্নিচার কারখানা ও শো-রুম রয়েছে। এতে কাজ করে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ। কিন্তু ২৬ মার্চ থেকে করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এ খাতে জড়িত মিস্ত্রি থেকে শুরু করে সবাই বেকার। ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। গত দেড় মাসে বলীরহাটের ফার্নিচার ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। কখন যে এই ব্যবসার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে তা নিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ফার্নিচার মালিক সমিতি আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ইউনিট শাখার সভাপতি মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী (দুলাল) দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, ছোটপুল ও বড়পুল এলাকায় দুই যুগ ধরে প্রায় ৮০টি ছোট-বড় ফার্নিচার শো-রুম গড়ে ওঠে। কিন্তু পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে এক্সেস রোড এলাকায় ব্যবসায়ীরা বিগত কয়েক বছর কোন ধরণের ব্যবসা করতে পারেনি। পরবর্তীতে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের উঁচু ও প্রশস্তকরণ কাজের কারণে কয়েক বছর ধরে ফার্নিচার ব্যবসায় ধস নামে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সড়কটির কাজ শেষ হলে ফার্নিচার ব্যবসা পুনরায় শুরু হয়। কিন্তু দুই মাসের ব্যবধানে করোনার ধাক্কা লাগে ব্যবসায়। এখন আমাদের সব ধরণের ব্যবসা বন্ধ। এ অবস্থায় আমাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।’
বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি চট্টগ্রাাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামে ছোট-বড় প্রায় ৪ হাজার ফার্নিচার কারখানা ও শো-রুম রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বিকাশমান এ শিল্পের উৎপাদন ও বিপণনের সাথে তিন লক্ষাধিক মানুষ জড়িত। করোনার কারণে এ শিল্পের সর্বস্তরে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ফার্নিচার নির্মাণ থেকে বিপণন সবকিছুই এখন বন্ধ রয়েছে। করোনার কারণে চট্টগ্রামে ফার্নিচার শিল্পে বর্তমানে ক্ষতি হয়েছে প্রায় দুইশ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা বুঝে উঠতে পারছি না।

বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি চট্টগ্রাাম বিভাগের সভাপতি সৈয়দ এ এস এম নুরউদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশের ফার্নিচার শিল্প দেশের গ-ি পেরিয়ে বহির্বিশ্বে তুলে ধরার মতো অবস্থানের দিকে যাওয়া একটি উদীয়মান শিল্প। এ জন্য আধুনিক কারখানা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছেন সাহসী বিনিয়োগকারী। সৃষ্টি হয়েছে দক্ষ ও মেধাবী কারিগর। কিন্তু করোনার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে অন্যদের মতো ফার্নিচার শিল্প ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরাও অসহায় অবস্থায় পড়ে যায়। চট্টগ্রামের ফার্নিচার শিল্পে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দেখা দিয়েছে।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 316 People

সম্পর্কিত পোস্ট