চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ব্যাংকিং সময়ে আটকে আমদানি-রপ্তানির গতি
১০ চিকিৎসকসহ চমেকের ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় ১০১ জন করোনা শনাক্ত

২৩ এপ্রিল, ২০২০ | ৮:২৪ অপরাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

ব্যাংকিং সময়ে আটকে আমদানি-রপ্তানির গতি

  • সকল প্রকার পণ্য খালাস উন্মুক্ত করলো এনবিআর
  • পূর্ণ দিবস ব্যাংক খোলা চান বন্দর ব্যবহারকারীরা
  • সারাদিনই ডেলিভারি অর্ডার দিবে শিপিং এজেন্ট ও বাফা

আমদানি-রপ্তানি কাজের গতি এখন অনেকাংশেই নির্ভর করছে ব্যাংকিং সময়ের উপর। কারণ সব ধরণের পণ্য খালাসের কাজ স্বাভাবিক রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গতকাল বুধবার কাস্টমস হাউজকে নির্দেশনা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছে। করোনা পরিস্থতিতে জরুরি পণ্য ছাড়া বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ১৫ দিন খালাস স্থগিত রেখেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। যার কারণে অনেক আমদানিকারক ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তাদের আমদানি পণ্য বন্দর থেকে ডেলিভারি নিতে পারেনি। তারাও এখন আমদানিকৃত পণ্য ডেলিভারি নিতে পরবে। এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার জট কমাতে মরিয়া হয়ে আছে।

কিন্তু এতো পদক্ষেপ নিয়ে বন্দর কাস্টমসের সকল কাজ স্বাভাবিক হলেও ব্যাংকিং সময় না বাড়লে আমদানি-রপ্তানির কাজে গতি আসবে না বলে মনে করেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। কারণ পণ্য খালাস করতে কাস্টমস এসেসমেন্ট শেষে রাজস্ব জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হয়। এছাড়া আমদানি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কাজে এলসি কার্যক্রমের জন্যও ব্যাংকের বিকল্প নেই। তবে করোনা পরিস্থিতিতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে চলছে ব্যাংকিং কার্যক্রম।
দেশের বৃহৎ স্বার্থে এবং আমদনি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আনতে ব্যাংকিং সময় পূর্বের ন্যায় করার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই ছুটি এখনো চলমান আছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে সময়ের পরিবর্তন আনে। আর সামনে রমজান। তাই পুরোদমে আগের মতো ৯টা-৫টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা রাখারও সুযোগ নেই। সে কারণে এই মুহূর্তেই পুরোদমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোকে এবং যারা এলসি নিয়ে কাজ করে তাদেরকে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বলা হয়েছে। আর আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে শেষ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু পূর্বকোণকে বলেন, আমাদের পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে কাস্টমস এসেসমেন্ট শেষ করে ব্যাংকে গিয়ে রাজস্ব জমা দিতে হয়। কিন্তু কাস্টমসের কাজ শেষ করতে দুপুর হয়ে গেলে তখন আর ব্যাংক খোলা থাকে না। তাই একদিন পিছিয়ে যায় পুরো কাজ। এনবিআরের সিদ্ধান্তে এখন পণ্য খালাস বাড়লে ব্যাংকের কাজের চাহিদাও বাড়বে। তাই ব্যাংকিং সময় পূর্ণ দিবস করা জরুরি।

একই বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, এনবিআর সব ধরণের পণ্য খালাস স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমাদের পক্ষ থেকে সব শিপিং এজেন্টকে ডেলিভারি অর্ডার নিতে পূর্ণ দিবস কার্যক্রম চালু রাখতে বলেছি। তাই আমদানি-রপ্তানি কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করতে হলে আমাদের মত ব্যাংগুলোকে পূর্ণ দিবস খোলা রেখে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোওয়ার্ডাস এসোসিয়েশনের (বাফা) পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বভাবিক রাখতে হলে অন্তত সব ব্যাংকের প্রধান শাখাগুলো খোলা রাখতে হবে। যেন ওইসব শাখা থেকে অন্তত আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম এক দিনের মধ্যেই শেষ করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, শুরু থেকেই বাফা পূর্ণ দিবস ডেলিভারি অর্ডার দেওয়ার কাজ করে আসছে। এনবিআর গতকালের (বুধবার) সীদ্ধান্তে আমাদানি-রপ্তানির কাজ আগের তুলনায় বাড়তে। তাই বাড়তি কাজ সময় মত শেষ করতে ব্যাংকগুলোর সময় বাড়ানো উচিত।
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সরকারি সাধারণ ছুটিতে দাপ্তরিক কাজ সীমিত করে পরিচালনার জন্য গত ৭ এপ্রিল এক অফিস আদেশ জারি করে এনবিআর। ওই আদেশে বলা হয় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে আমদানিকৃত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবাসামগ্রী, শিল্পের কাঁচামাল, সরকারি/আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, পোল্ট্রি/ডেইরি/মৎস শিল্পের খাদ্য ও উপকরণ এবং কূটনৈতিক সুবিধায় আমদানিকৃত পণ্য শুল্কায়নসহ খালাস এবং রপ্তানি করা যাবে। ওই আদেশের পর দেশের অনেক বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিকারক তাদের আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি নিতে পারেননি। যার কারণে বন্দরে তাদের পণ্য পড়ে থাকায় উচ্চ হারে ডেমারেজ চার্জ গুণতে হয়েছে আমদানিকারকদের। এতে ওইসব আমদানিকারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব ধরণের পণ্য খালাসের অফিস আদেশ জারি করে। কিন্তু ব্যাংকিং সময় নির্দিষ্ট থাকায় এখনো পণ্য ডেলিভারি পেতে সময় ক্ষেপণ হবে বলে মনে করেন আমদানিকারকসহ বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 109 People

সম্পর্কিত পোস্ট