চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খেই হারাতে বসেছে চসিক
খেই হারাতে বসেছে চসিক

২০ এপ্রিল, ২০২০ | ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম হ

চসিক’র মেয়র, কাউন্সিলর কর্মকর্তাদের মাঝে উৎকন্ঠা

করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে গেলেন কাউন্সিলর!

হোম কোয়ারেন্টিনে কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী

করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে আছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধিকাংশ কাউন্সিলর। সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর করোনা আক্রান্ত এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরদিন কর্পোরেশনের সভায় যোগদানের কারণে এই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে, কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার এখন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মারা যান সরাইপাড়ার ৫০ বছর বয়সী এক নারী। ওই নারীকে এর আগের দিন হাসপাতালে নিয়ে যান ওই এলাকার কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ওই মহিলা মোরশেদ আকতার চৌধুরীর প্রতিবেশী। ওই রোগীর মৃত্যুর পর তার নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়। ওই নারী যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তা কাউন্সিলরের জানা ছিল না। তিনি সেইদিন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১০ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের সাথে সভা করেন। ওই সভায় মেয়র কাউন্সিলর ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তা মিলে অন্তত ২০ জন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে একইরকম আরেকটি সভা হয়, পরে আরো দুটি সভা হয় ওই কক্ষে। অর্থাৎ ৪১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের নিয়ে পৃথক চারটি সভা হয় ওই কক্ষে। সেদিন যারা ওই কক্ষের সভায় উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই এখন আতঙ্কে আছেন। ওই নারীর মৃত্যুর তিন দিন পর মোরশেদ আকতার চৌধুরীর বাড়ির নাইটগার্ডও করোনায় আক্রান্ত হন। কাউন্সিলর চৌধুরী যেদিন সিটি কর্পোরেশন থেকে ত্রাণ বিতরণ সংক্রান্ত সভা করে যান সেদিন রাতেই তার বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। এরপর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তার করোনা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
জানতে চাইলে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, ওই নারী যে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন তা তার জানা ছিল না। মানবিক কারণে তিনি অসুস্থ নারীকে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদি ওই নারীর কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তার জানা থাকতো তাহলে তিনি তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর আর কোথাও যেতেন না। বর্তমানে তিনি কোয়ারেন্টিনে আছেন। তার কোন ধরনের সমস্যা নেই। পরিবারের সবাইও ভাল আছে। তাই এখনো তিনি করোনা পরীক্ষা করাননি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা পূর্বকোণকে বলেন, বিষয়টি জানার পর তারা সাথে সাথে কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরীর করোনা পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হয়েছে কেউ করোনা আক্রান্ত হলেও এক সপ্তাহ না গেলে তা ধরা পড়ে না। অথবা কোন লক্ষণ দেখা গেলে ধরা পড়তে পারে। তাই এক সপ্তাহ পর পরীক্ষা করা হবে। তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকর্তা এবং কাউন্সিলররা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাই কাজ করছে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 511 People

সম্পর্কিত পোস্ট