চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম

২০ এপ্রিল, ২০২০ | ৪:৩১ পূর্বাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম

করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি ভর করেছে চালের বাজারে। দফায় দফায় বেড়েছে চালের দাম। বিশেষ করে নি¤œ ও মধ্যবিত্তের চাল বলে খ্যাত মোটা ও সিদ্ধ চালের দাম বেশি বেড়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি আরেক দফায় বাড়ল প্রায় দুইশ’ টাকা। এ নিয়ে গত নভেম্বর মাস থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে কয়েক প্রকার চালের দাম বেড়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে।
ভোক্তারা জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর লকডাউনে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লে সরকার খাদ্য সহায়তায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। হতদরিদ্র ও নি¤œআয়ের অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে। এছাড়াও ১০ টাকা কেজি ধরে চাল বিক্রি করছে সরকার। তারপরও চালের বাজার ধরে রাখতে পারছে না সরকার। বারবার অস্থির হয়ে ওঠেছে চালের দর। মহামারী সংকটের মধ্যেও কয়েকদিনের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি বেড়েছে দুইশ টাকা।
পাহাড়তলী বণিক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ জাফর আলম বলেন, সংকটের কারণে চালের দাম বাড়ছে। রমজান ও করোনোয় ত্রাণ বিতরণের জন্য চালের চাহিদা বেড়েছে। সেই তুলনায় সরবরাহ নেই। নতুন ধান (ইরি-বোরো) বাজারে না পর্যন্ত চালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।
পাহাড়তলী ও চাক্তাই চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির চাল বিভিন্নভাবে খোলা বাজারে চলে আসতো। বিশেষ করে পাহাড়তলী চাল বাজারের দুই শীর্ষ ব্যবসায়ী সারাদেশে ডিও বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। সরকারের খাদ্য বিভাগের চাল নিয়ে দীর্ঘদিন দরে ‘চালবাজি’ খেলে আসছে দুই ব্যবসায়ী। তাদের সঙ্গে আরও ৭-৮ জন্য ব্যবসায়ী সরকারি চাল পাচারে জড়িত রয়েছে। গত সপ্তাহে পাহাড়তলীর চাল ব্যবসায়ী মেসার্স ফারুক ট্রেডিংয়ে অভিযান চালিয়ে সাড়ে নয় হাজার সরকারি ত্রাণের চালের খালি বস্তা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। একই সঙ্গে চালভর্তি ২১টি বস্তাও উদ্ধার করেছিল। এই ঘটনায় চাল ব্যবসায়ীসহ গ্রেপ্তারকৃত দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এই অভিযানের পর অনেকটা সতর্ক হয়ে যায় চাল পাচারকারী চক্র। কড়াকড়ির কারণে সরকারি ত্রাণের চাল এখন আর খোলা বাজারে আসছে না। এই সুযোগে চালের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা।
চালের পাইকারি মোকাম পাহাড়তলী ও চাক্তাই বাজারে দেখা যায়, মোটা আতপ চাল বস্তাপ্রতি বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১৯ শ থেকে দুই হাজার টাকা। গত সপ্তাহে তা ১৭-১৮ শ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। গত নভেম্বর মাস থেকে ৯ শ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে দুই হাজার টাকায় ঠেকেছে। মোটা সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ২০৫০-২১ শ টাকায়। আগে তা বিক্রি হয়েছিল ১৮ শ টাকায়। নভেম্বরে তা ছিল ১১ শ টাকা। নূরজাহান সিদ্ধ (স্বর্ণা সিদ্ধ) বিক্রি হচ্ছে ২২৫০ টাকায়। দুই মাস থেকে ১৫শ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ২২শ টাকায় ঠেকেছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে ছিল ১৪শ টাকা। গুটি সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ২১৫০-২২শ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ১৯শ টাকায়। নভেম্বরে তা ছিল ৯শ থেকে এক হাজার টাকা। এই চার প্রকার চালের দাম বেশি বেড়েছে। নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে এ চালের কদর বেশি। একইভাবে বেতি আতপ (আশুগঞ্জ আতপ) বিক্রি হচ্ছে ২২শ টাকা থেকে বেড়ে ২৪শ টাকা দরে। নভেম্বরে তা ১৭শ টাকা। মার্চে বিক্রি হয়েছিল ২০০০ টাকায়। মিনিকেট গত নভেম্বর মাস থেকে ১৭-১৮ শ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৭শ টাকা দরে। জিরাশাইল ২৬শ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৭শ টাকায়। নভেম্বরে ছিল ১৯৮০ টাকা। পাইজাম সিদ্ধ নভেম্বরে ছিল ১৪শ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২২ শ হাজার টাকায়।
গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে অহেতুক চালের দাম বস্তাপ্রতি চারশত টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। সেই থেকে চালের বাজারে অস্থিরতা চলে আছে।
চট্টগ্রাম রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি শান্তু দাশ গুপ্ত বলেন, চট্টগ্রামের মিল মালিকদের হাতে কোনো চাল নেই। যা ছিল দাম বাড়ার আগেই বিক্রি করে দিয়েছে। এখন উত্তরবঙ্গ থেকে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহণ সংকটের কারণে চালের সরবরাহ কমে গেছে। সংকটের কারণে দাম বেড়েছে।
এদিকে সরকার খাদ্য সংকট হবে না বলে বার বার ঘোষণা দেওয়ার পরও চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের দাবি, সংকটের কারণে চালের দাম বাড়ছে। সরকারের বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়াচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভোক্তা সংগঠন ক্যাব।
গত নভেম্বর মাসে সরকার ধান ও চাল সংগ্রহ কর্মসূচিকে ঘিরে চালের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সরকার কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনছে ২৬ টাকা দরে। আর মিল মালিকের কাছ থেকে সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা ও আতপ চাল কিনছে ৩৫ টাকা দরে। সরকারি কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে অহেতুকভাবে চালের দাম বাড়ানো হয়।
পাহাড়তলী চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিজাম উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, চাল মিল মালিকেরা কারসাজি করে চালের দাম বাড়িয়েছে।

The Post Viewed By: 509 People

সম্পর্কিত পোস্ট