চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

অনলাইনের মাধ্যমে ঘরেই পৌঁছে যাচ্ছে তৈরি খাবার

১৯ এপ্রিল, ২০২০ | ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

মরিয়ম জাহান মুন্নী

অনলাইনের মাধ্যমে ঘরেই পৌঁছে যাচ্ছে তৈরি খাবার

বিশ্ব মহামারী করোনাভাইরাস বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন খাবার হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ সবরকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তবে পরবর্তীতে সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কিছু নির্দিষ্ট দোকানের পাশাপাশি হোটেল রেস্টুরেন্ট খোলার আদেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু নিষেধাজ্ঞা। হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিড় করে খাবার ও আড্ডা দিতে পরবে না কেউ। এমন পরিস্থিতিতে নগরীতে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও কিছু হোম মেড খাবার সাভির্স দিচ্ছে পরিচিত কয়েকটি কোম্পানি। এসব কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফুড পান্ডা, ওভার, ওভার ইট’স, পাঠাও, সহজ ফুড ও ফুড প্যাকসহ কিছু কোম্পানি ঘরেই পৌঁছে দিচ্ছে প্রয়োজনীয় খাবার। এতে গ্রাহককে কষ্ট করে আর আসতে হচ্ছে না হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে। এ পদ্ধতিটি আগে চালু থাকলেও বর্তমানে যোগ হয়েছে আরো কিছু আইটেম। করোনা মহামারীতে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তাদের জন্যও দিচ্ছে গ্রোসারি পণ্যসহ কাঁচা তরকারি ও মেডিসিন পৌঁছে দেয়ার সেবা। এছাড়া ওভার ইট’স, পাঠাও, সহজ ফুড ও ফুড প্যাক এপসগুলোতে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রেখে এসব সেবা দেয়া হচ্ছে।
পাঠাও এর মাধ্যমে ফুড পান্ডা কোম্পানির পক্ষ থেকে খাবার ডেলিভারি দেয় আরিফ নামের এক তরুণ। তার সাথে কথা বললে তিনি জানায়, এপসে ঢুকলে অর্ডার করলেই মোবাইরে মাধ্যমে মিলছে খাবার। ঘরে বসে অর্ডার করলেই আমরা পৌঁছে দিচ্ছি এসব খাবারের প্যাকেট। নগরীতে এমন সুযোগ আগে থেকেই চালু ছিল। বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে জনপ্রিয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রামের ২ শতাধিক এক্সক্লুসিভ রেস্টুরেন্ট থেকে এই সেবা দিচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে যোগ হয়েছে আরো নতুন কিছু আইটেম। তাই এখন চাইলে ঘরে বসে নিজ এলাকার যেকোনো হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে পছন্দনীয় খাবার, পণ্য ও মেডিসিন পাবে হাতের কাছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমাদের এ সেবা।
ফুড পান্ডা থেকে নিয়মিত খাবার নেয়া কয়েক জন গ্রাহক বলেন, বৈশি^ক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বিশে^র অন্যান্য দেশের মত লকডাউন চলছে বাংলাদেশেও। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে পারছি না আমরা। এতে বিপাকে পড়েছে আমাদের মত অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে নগরীর বেশ কিছু হোটেল রেস্টুরেন্ট ও পাঠাও, ওভার ইট’স, রাইড়ার, সহজ ফুড, ফুড প্যাক ও ফুডপান্ডা এ সেবা দিচ্ছে যা অত্যন্ত ভালো দিক। এছাড়া এটি খুব সহ পদ্ধতিও। গুগলে কিছু এপসের মাধ্যমে মোবাইলে খাবার অর্ডার করলে ঘরেই পৌঁছে দিচ্ছে খাবার। বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট মানুষের জীবনের উপর এমনি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে যে, মানুষ ঘরে বসেই ভোগ করছে সবরকম সুযোগ-সুবিধা।
বারকোড হোটেলের ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসেন ও সাদিয়া’স কিচেন আগ্রাবাদ শাখার ম্যানেজার মো. সেলিম বলেন, এখন মানুষ অনেক বেশি অনলাইন নির্ভর হয়ে গেছে। এছাড়া এ মুহূর্তে মানুষ ঘরের বাইরে আসতে পারছে না। সরকারি আদেশে স্বল্প পরিসরে কিছু রেস্টুরেন্ট খোলার অনমুতি থাকায় আমরা আমাদের রেস্টুরেন্ট খোলেছি। কিন্তু এখন মানুষ ঘরের বাইরে আসতে পারছে না তাই অনেকে অ্যাপসের মাধ্যমে খাবারের অর্ডার করছে। সেই অর্ডারকৃত খাবার আমাদের থেকে নিয়ে ফুড পান্ডা, পাঠাও, ওভার এবং ওভার ইট’স নামের কোম্পানির কর্মরত তরুণরা আমাদের থেকে নিয়ে সেবা দিচ্ছে। আবার আমাদের নিজস্ব কিছু অনলাইন সাইডও রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে পাঠাও, সহজ ফুড, ফুড প্যাক ও ফুডপান্ডা সেবা দিচ্ছে ৩৮২ টির বেশি রেস্টুরেন্ট। তার মধ্যে জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট আছে ১৮৭টি। এই রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে বারকোড, ক্যাফে, পিটস্টপ, হান্ডি, মেরিডিয়ানে, রেড চিলি, রেড়িসন ব্লু, মেজ্জান হাইলে আইয়ুন, বীর চট্টলা, চেরাগী মোড়ে মিষ্টি দোকান হাইওয়ে, আগ্রাবাদের বীর বাঙালি, বহদ্দারহাট কাশবন, বার্গারো, দম ফুঁ ও ক্যাফে বিস্ট্রো। এসব খাবারের মধ্যে পিৎজা, স্যান্ডউইচ, বিভিন্ন রকমের বিরিয়ানি, চিকেন, বিফ, মাটন থেকে শুরু করে প্রায় সব খাবার দিচ্ছে। অ্যাপসে ঢুকে তাদের ম্যানু দেখে করতে পারেন পছন্দমত খাবারের অর্ডার। অর্ডারকৃত স্থান থেকে একদম নিকটে যে ব্যক্তি আছে তার কাছেই পৌঁছে যাবে। অল্প সময়ের ও করোনাভাইরাস সম্পৃর্ক বিষয় মাথায় রেখে নিরাপদ দুরত্ব রেখে একঝাঁক তরুণ পালন করছেন এ দায়িত্ব।
হোমমেড খাবার : আবার অনেকে ঘরে নিজের হাতে তৈরি করা খাবার নিয়ে করছে এ অনলাইনের ব্যবসা। পৌঁছে দিচ্ছে তাদের কাস্টমারদের হাতে। অনলাইনের মাধ্যমে একটি নিদিষ্ট ম্যানু দেখে পছন্দের খাবারে অর্ডার করে। এই ম্যানুগুলোতে রয়েছে হাতে তৈরি বিভিন্ন পিঠা-পুলি, কেক, ডিম ও নারকেলেন পুডিং, বার্গার, পিৎজা, বিভিন্ন রকম হাতে তৈরি আচার, গরু, খাসি ও মুরগির মাংস দিয়ে নানারকমের খাবার, বিভিন্ন মাছের আইটেম ও বিরিয়ানি। যারা অনলাইনের মাধ্যমে এ ব্যবসা করছে তাদের অনেকের আবার নিজস্ব পেজও রয়েছে। সেই পেজগুলোর মাধ্যমে তারা অর্ডার নিয়ে থাকেন এবং অনেকে নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার। এক্ষেত্রে নিদিষ্ট একটি ডেলিভারি চার্জ নিচ্ছে তারা। ডেলিভারি করা খাবারগুলো দোকানের নির্দিষ্ট দামের চেয়ে ডেলিভারি চার্জসহ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে রাখছে কোম্পানিগুলো। এক্ষেত্রে দোকানে একটি পিৎজা ১শ’ টাকা হলে ডেলিভারি চার্জসহ এটি বিক্রি করছে ১৫০ টাকা প্রায়। বিভিন্ন রকমের বিরিয়ানি ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে এক এক হোটেল রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানির দামও ভিন্ন। জামানে এক প্যাকেট চিকেন বিরিয়ানি ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এটি ডেলিভারি চার্জসহ রাখা হয় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা রাখা হয়। বিফ, মাটানের ক্ষেত্রেও ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি রাখা হয়। এ পদ্ধতি হোমমেড খাবারের ক্ষেত্রেও একই।

The Post Viewed By: 84 People

সম্পর্কিত পোস্ট