চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রমজানের আগেই বেড়েছে ডাল-ছোলার দাম

১৮ এপ্রিল, ২০২০ | ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

রমজানের আগেই বেড়েছে ডাল-ছোলার দাম

খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার

  • বুকিং দর বৃদ্ধি ও পণ্য খালাসে দেরির কারণে দাম বেড়েছে : আমদানিকারক
  • চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়িয়েছে আমদানিকারকেরা : ব্যবসায়ী 

দেশে ডাল-ছোলার আমদানি ও মজুদ রয়েছে পর্যাপ্ত। তারপরও করোনাভাইরাসের কারণে হঠাৎ করেই ডালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইসরাস সংকটে ত্রাণসামগ্রীতে ডালের চাহিদা বেড়েছে। সেই সুযোগে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রমজানের আগেই বেড়েছে ডাল-ছোলার দাম

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে গত বৃহস্পতিবার  কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা উন্নতমানের মসুর ডাল বিক্রি হেেয়ছে কেজি প্রতি ১২০ টাকা। ১৫ দিন আগেও তা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। মোটা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায়। ১৫ দিন আগেও তা কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মধ্যমানের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। তা ছিল ৬০ টাকা। মূলত মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত মানুষের কাছে ডালের চাহিদা বেশি। এছাড়াও পবিত্র মাহে রমজান ও করোনোভাইরাসের পর ত্রাণসামগ্রী বিতরণে ডালের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পর ডালের দামও বাড়তে বাড়তে শুরু করেছে। চিকন মসুর ডালের দাম বেশি বেড়েছে। কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা বেড়েছে। খেশারির ডাল মানভেদে ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯২ টাকা। মুগ ডালের দাম ২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা মুগ ডাল কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩০-৩২ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৪০ টাকায়।

ডাল ব্যবসায়ী অজয় দত্ত বলেন, ত্রাণ বিতরণ ও রোজার জন্য ডাল এবং ছোলার চাহিদা অতিরিক্ত বেড়েছে। এই সুযোগে আমদানিকারক ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

ডালের সঙ্গে ছোলা ও মটরের দামও। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা উন্নতমানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭২-৭৫ টাকা। ১৫ দিন আগে তা বিক্রি হয়েছিল ৬০-৬২ টাকা দরে। মাঝারি মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬৬ টাকায়। তা ছিল ৫৬-৫৭ টাকা। সাদা মটর ২৮ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪-৩৫ টাকা দরে। প্রতিবছর রোজার আগে পণ্যটির আমদানি হয় প্রচুর। এবারও রোজার আগে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে ছোলা ও ডালজাতীয় পণ্যের আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছেন। এর মধ্যে শুরু হয়েছে নভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। ঘরবন্দী মানুষের মধ্যে ডালজাতীয় পণ্যের চাহিদার পরিমাণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ত্রাণের জন্য বাড়তি ডাল কেনাবেচা শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুদ সত্ত্বেও দাম বেড়েছে। আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অজয় দত্ত বলেন, সবকিছু বন্ধ থাকায় সরবরাহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ও সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন বলেন, বুকিং দর বৃদ্ধি ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডালজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংক খোলা না থাকায় আমদানির ডক্যুমেন্ট পেতে দেরি হচ্ছে। এতে বন্দরের কন্টেইনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে ১২-১৪ দিন অতিরিক্ত সময় লেগে রয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সবখানে জট সৃষ্টি হচ্ছ। যার প্রভাব পড়ছে ভোগ্যপণ্যের ওপর।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হিসাব মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে তিন ধরনের ডাল আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮১৭ টন। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে একই সময়ে একই ধরনের ডাল আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৯ টন। এরমধ্যে মসুর ডালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ২০১৮-১৯ মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ১৭৭ টন। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৪২ টন মসুর ডাল। বাড়তি আমদানি সত্ত্বেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডারজাতীয় পণ্যের দাম বাড়তি রয়েছে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 557 People

সম্পর্কিত পোস্ট