চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০

লক ডাউনে রির্চাজ নিয়ে বিপাকে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরা

১৬ এপ্রিল, ২০২০ | ৭:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

লক ডাউনে রির্চাজ নিয়ে বিপাকে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরা

মহামারি করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত তিন মাসের বিদ্যুতের বিল মে মাসে জমা দিলেও কোনো বিলম্ব মাশুল বা সার চার্জ দিতে হবে না বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিপাকে পড়েছেন বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকরা। এই বন্ধের মধ্যে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে রিচার্জ করতে হচ্ছে বেশিরভাগ গ্রাহককে যার কারণে মানুষের ভিড়ে করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

লকডাউনে ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ছাড়া বাকি সব বন্ধ থাকায় তারা মিটারের টাকা শেষ হলেই লাইন অফ হয়ে যাওয়ায় ঠিকমতো রিচার্জও করতে পারছেন না। অনেকেই বিকাশ থেকে চেষ্টা করলেও সফল না হয়ে সহযোগিতা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পোস্ট দিচ্ছেন।

নগরীর পল্টন রোডের নাহার ভবণের বাসিন্দা এম এ রহিম ফেসবুকে লিখেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে এসময় অন্তত পাঁচশ’ টাকা লোন দিতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই টাকা কেটে নিতে পারতো। ম্যানুয়াল মিটারের গ্রাহকরা বিগত তিন মাসের বিল মে মাসে পরিশোধ করবে তারাও তো একপ্রকার লোন পেল। তাহলে প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে  কেন?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিতরণ বিভাগ দক্ষিণের প্রধান প্রকৌশলী শামসুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, আমরা নিরবিছিন্নভাবে এই মহামারি করোনাতেও মানুষকে সেবা দিচ্ছি। আমাদের কর্মীরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গ্রাহকরা চাইলে Gpay App ডাউনলোড করে খুব সহজেই মিটার নাম্বারটা দিয়ে রির্চাজ করে নিতে পারে। এক্ষেত্রে সিমকার্ডে টাকা থাকলে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে অনেকেই কল করে তাদের অসুবিধার কথা বলছে আমরা তাদের মিটারে লোনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছি। তবে একবার রির্চাজ করার পর ১২ ঘণ্টা পযর্ন্ত দ্বিতীয়বার রির্চাজ করা যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে রির্চাজের এসএসএস ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করতে হবে।

ষোলশহর বিতরণ বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী কাউসার মাসুম বলেন, আমরা ইতিমধ্যে আমার এলাকার গ্রাহকের কথা ভেবে সিসিএলে একটা বিজ্ঞাপন চালু করেছি। যারা সহযোগিতা চাচ্ছেন তাদের আমরা এই সময়ে তাদের মিটারে লোনের টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছি। যা পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করা হবে। তারপরও আমাদের বিতরণ অফিসে গ্রাহকের ভিড় বাড়ছে।

নগরীর জিইসির মোড়ের সেন্ট্রাল প্লাজার এক বিকাশ এজেন্টের কাছে জানতে চাওয়া হয় সরকার যেখানে মোবাইল ব্যাংককিং করার জন্য জনগণকে বলছে তারা কেন দোকান বন্ধ রেখেছে। তিনি বলেন, এটা আমরা জানতাম না। ভেবেছি আমাদেরও বন্ধ রাখতে বলেছে তাই বন্ধ রেখেছি।

তবে সীমিত আকারে দোকান খোলা থাকার কারণে রাজু নামের একজনের কাছ থেকে নগরীর আফগান মসজিদের পাশে এক বিকাশ দোকানদার প্রতি হাজারে পাঁচটাকা বেশি দাবি করছে। নিরুপায় হয়ে মানুষ তা মেনে নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পূর্বকোণ-আরপি/*

The Post Viewed By: 1025 People

সম্পর্কিত পোস্ট