চট্টগ্রাম বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

এম্বুলেন্সেই করোনা ছড়ানোর শঙ্কা

১৪ এপ্রিল, ২০২০ | ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

করোনা রোগী বহন ধারে নেয়া এম্বুলেন্সে

এম্বুলেন্সেই করোনা ছড়ানোর শঙ্কা

করোনা জীবাণু শনাক্ত রোগী পরিবহনে ধারে এম্বুলেন্স নিয়ে চলতে হচ্ছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগকে। তাও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে। এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ধারে নেয়া ১০টি এম্বুলেন্স। এক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতাল থেকে কোনো এম্বুলেন্স বরাদ্দ নেই। দিনে একটি করে এম্বুলেন্স এই কাজে ব্যবহারের কারণে চালক থেকে শুরু করে হাসপাতালের মালিকরাও করোনা ঝুঁকির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আক্রান্তদের বিশেষায়িত দুটি হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এ প্রসঙ্গে বলেন, এম্বুলেন্স চালক কিংবা মালিকদের হয়তো এটা নিয়ে সংশয় আছে। এটা থাকাও স্বাভাবিক। তবে আমরা রোগী তোলার আগে সব ধরনের নিয়ম মেনে এম্বুলেন্সটিকে বিশুদ্ধ ও জীবাণুমুক্ত করি। এরপর সেখানে রোগীকে তোলা হয়। এম্বুলেন্সটি চালানোর সময় চালককেও পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পড়তে হয়। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ১০টি এম্বুলেন্স রিকুইজিশন করা হয়েছে। তবে একদিনে একটি করে এম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতি ১০দিনে একটি এম্বুলেন্সকে এই কাজে ব্যবহার করা হয় মাত্র।
সিভিল সার্জনের এই দাবিটিতেই যত আপত্তি হাসপাতাল মালিক ও এম্বুলেন্স চালকদের। তারা বলছেন, করোনা রোগী বহন করার জন্য একটি অথবা দুইটি বিশেষায়িত এম্বুলেন্স ব্যবহার করা দরকার। তাহলে সেগুলো সার্বক্ষণিকভাবে ওই কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তা না করে প্রতিদিন একটি করে নতুন নতুন এম্বুলেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে। করোনা রোগী সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পাঠানোর পর ওই এম্বুলেন্সে করে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো নিজেদের অন্য রোগী বহন করে। বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতালে একটির বেশি নিজস্ব এম্বুলেন্সও নেই। ফলে পালা করে এম্বুলেন্স দেওয়ার সময় ওইসব ক্লিনিকেরগুলোও ব্যবহার করা হয়।
এর আগে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে করোনা রোগীর জন্য দুইটি করে আইসিইউ বেড দেওয়ার সিদ্ধান্তেও শুরু থেকে উষ্মা প্রকাশ করে আসছিল মালিকরা। তাদের শঙ্কা ছিল, কোনো ক্লিনিকে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি করা হলে অন্য রোগীরা সেখান থেকে পালাবেন। এতে তাদের চিকিৎসা ব্যবসাই লাটে উঠতে পারে। তখন এম্বুলেন্স চাওয়া হলে মালিকরা স্বাচ্ছন্দ্যেই রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিদিন একটি করে এম্বুলেন্সে করোনা রোগী বহনের কাজটি দিনের পর দিন করার মধ্যে নতুন করে রোগের বিস্তারেরও শঙ্কায় পড়ে যান তারা।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, আমরা আসলেই এটা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি। আমরা প্রশাসনকে একথা বলেছি। আজকেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আমাদের কথা হলো একটি অথবা দুইটি বিশেষায়িত এম্বুলেন্স এ মুহূর্তে খুব দরকার। সরকার দিতে না পারলে আমরা ভাড়া করে হলেও এটা দেওয়ার চেষ্টা করবো।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে একটি এম্বুলেন্স আছে। সেটি বেশিরভাগ সময়ই চিকিৎসকদের আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে করোনা রোগী এখনো ভর্তি করা হয়নি। সেটি আলাদা প্রশাসনের অধীনে চলে। ফলে সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে করোনা রোগী পরিবহনের ব্যবস্থাপনায় নেই চমেক হাসপাতাল। এর বাইরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের নিজস্ব এম্বুলেন্স আছে। গত শনিবার করোনায় আক্রান্ত হয় একজন পুলিশ কনস্টেবল। তাকেও প্রাইভেট ক্লিনিকের এম্বুলেন্সে করেই হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, তবুও রক্ষা যে আমাদের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে এম্বুলেন্স আছে। এরমধ্যে আমরা সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এম্বুলেন্স সার্বক্ষণিকভাবে নমুনা সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করছি। সাতকানিয়া উপজেলার এম্বুলেন্সটি দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে করোনা রোগী বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শহরের রোগী বহনের জন্য বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর দেওয়া এম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত যেভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, আগামীতে এভাবে রেশনিং করে কাজ চালানো সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে হয়তো আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 625 People

সম্পর্কিত পোস্ট