চট্টগ্রাম বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ঝুঁকি কমাবে দ্রুত পদক্ষেপ

১৪ এপ্রিল, ২০২০ | ২:৫০ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

করোনাভাইরাস

ঝুঁকি কমাবে দ্রুত পদক্ষেপ

  • সকল হাসপাতালকে কভিড এবং নন কভিড দুই ভাগে বিভক্ত করা হোক
  • লকডাউন সফল করতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি
  • নিরাপত্তা সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত হোক

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়ে গেছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে এটি মৃদু আকারের। সাতকানিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো একটি গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। কিন্তু নগরীতে একাধিক করোনা রোগীর সংক্রমণের উৎস এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অপরদিকে করোনা প্রতিরোধে ধীর পদক্ষেপ সামাজিক সংক্রমণকে প্রকট করে তুলবে বলে সচেতন মহলের অভিমত। সাতকানিয়ায় করোনায় মৃত্যুর পর ওই লাশটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে গোসল এবং কাফন পরিয়ে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন পুরো এলাকার মানুষ। দাফনের পর জানতে পারে ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। অপরদিকে, নগরীর পাহাড়তলী-সাগরিকা এলাকা করোনার হটস্পট হয়ে গেছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা। কারণ নগরীতে যেসব করোনারোগী শনাক্ত হয়েছে অধিকাংশেরই বিদেশফেরত বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সেখানেই তাদের ভয় কাজ করছে। তবে প্রকৃত অবস্থা বুঝতে আরো কয়েকদিন লাগতে পারে বলে তারা মনে করেন।
খবর নিয়ে জানা গেছে, ঢেমশা ইউনিয়নের ৩৯৩টি প­িরবারকে গতকাল রবিবার লক ডাউন করা হয়। আক্রান্ত ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় সাতকানিয়া উপজেলার কেরানিহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই চিকিৎসকসহ মোট ১০ জনের পরিবার এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পাঁচজন কর্মচারীকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির দুই ছেলে, তাকে বহনকারী সিএনজি ট্যাক্সির চালক ও এম্বুলেন্সের চালকের করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়নের আলীনগর এলাকার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মারা যান। কিন্তু এলাকা লকড ডাউন করা হয়েছে গতকাল রবিবার। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুর সংবাদ শুনে দূরদূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়-স্বজন নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। তারা যেসব এলাকায় গেছেন সেখানকার লোকজনকেও ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছেন। প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন তাদের খুঁজতে বের হয়েছে। অপরদিকে চমেক হাসপাতালের মাস্টার রোলের একজন কর্মচারীসহ মোট পাঁচজন কর্মচারী ওই লাশের সংস্পর্শে গিয়েছিলেন। তাদেরকেও হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ(স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজ রহমান পূর্বকোণকে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারলে সামাজিক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটা কমে যেত। এখন আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী কাকে কোথায় খুঁজে পাবে। সাধারণ মানুষ কোয়ারেন্টিনের ভয়ে এমনিতেই সবকিছু লুকাতে চায়। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল নগরীতে শনাক্ত হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন সাগরিকা এলাকার বাসিন্দা এবং সংলগ্ন উত্তর কাট্টলী এলাকার একটি পোশাক কারখানার কর্মচারী। ১০ এপ্রিল শনাক্ত দুজনের একজন স্থানীয় জোলারহাট বাজারের ভাসমান সবজি বিক্রেতা। অপরজন ফিরিঙ্গি বাজার এলাকার এক কাঠ ব্যবসায়ী শিববাড়ি লেইনের ১১তলা একটি ভবনের বাসিন্দা। তিনি নিয়মিত নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে যেতেন। ১১ এপ্রিল শনাক্তদের একজন পাহাড়তলি সিডিএ মার্কেট দুলালাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি কয়েক দিন আগেও স্থানীয় কাঁচাবাজারে গেছেন। আক্রান্ত সবজি বিক্রেতা সবজি নিয়ে বিভিন্নস্থানে গিয়েছিলেন। তিনি কীভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তিনি আর কত লোকের মাঝে ছড়িয়েছেন তা বলা কঠিন। তবে ইতোমধ্যে জোলারহাট বাজারটি বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। বাজারের সব দোকানি ও কর্মচারীদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, চট্টগ্রামের খুব ধীর গতিতে আংশিক কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে একথা বলা যায়। এদিকে, এ দুর্যোগে জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহবায়ক এবং সদস্য সচিব ডা মাহফুজুর রহমান, ডা সুশান্ত বড়ুয়া এক বিবৃতিতে বলেন, পাঁচ দফা দাবিতে বলেন, ১. কভিড টেষ্ট কিট, পিপিই এবং পরীক্ষা কেন্দ্র বৃদ্ধি করে তার পজিটিভ/নেগেটিভ ফলাফল তথ্যাকারে স্থানীয় সিভিল সার্জন অফিসের ওয়েব সাইটেসহ সকল গণমাধ্যমে প্রতিদিন প্রকাশ করে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হোক। ২. আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল এবং ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালকে স্বয়ংসম্পূর্ণ (ডেডিকেটেড) হসপিটালে পরিণত করে চট্টগ্রামের সকল হাসপাতালকে কভিড এবং নন-কভিড দুই ভাগে বিভক্ত করা হোক এবং সে সাথে কভিড হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক -নার্স সহ সকল স্বাস্থ্য কর্মীদের খাবার, থাকার মানসম্মত স্থান, জীবনবীমার নিশ্চয়তা প্রদান করা। ৩. লকডাউন সফল করতে জনগণকে খাদ্য নিরাপত্তা এবং লকডাউনকে কাজে লাগিয়ে সামনের ডেঙ্গু প্রতিরোধের সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনই গ্রহণ করা হোক। ৪. জেলা উপজেলা লেভেলের স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তাসহ কভিড এবং নন-কভিড কর্নার খুলে জনগণের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা বিধান করা হোক। সরকারি- বেসরকারি মেডিকেল এক্সপার্টদের নেতৃত্বে কভিড দুর্যোগ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে ছোট অথচ শক্তিশালী তদারকি কমিটি করা হোক।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 160 People

সম্পর্কিত পোস্ট