চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

চট্টগ্রামে শিশু ও পুলিশসহ আরও ৫ জন আক্রান্ত

১৩ এপ্রিল, ২০২০ | ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস

চট্টগ্রামে শিশু ও পুলিশসহ আরও ৫ জন আক্রান্ত

  • দামপাড়া পুলিশ লাইনের ব্যারাক লকডাউন, পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক নার্সসহ ২৫ জন কোয়ারেন্টিনে
  • সামাজিক সংক্রমণেই ছড়াচ্ছে নগরীসহ উপজেলা পর্যায়ে

করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চট্টগ্রামেও দীর্ঘ হতে শুরু করেছে। নগরী ছাড়াও এ ভাইরাস ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলা পর্যায়েও। এরমধ্যে গতকাল রবিবার নতুন করে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলাতে কোভিড-১৯ এ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে পাঁচ জনের। যাতে বাদ পড়েনি শিশুও। রয়েছেন এক পুলিশ সদস্যও। নতুন এ পাঁচজনসহ চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ তে গিয়ে পৌঁছেছে। যদিও এরমধ্যেই একজনের মৃত্যুও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকটাই উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণ হিসেবে সামাজিক সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশনকেই দায়ী করছেন তারা।
নতুন করে আক্রান্ত হওয়া পাঁচজনের মধ্যে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনের বাসিন্দা নগর ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল রয়েছেন। যার বয়স ৫৫ বছর। ওই পুলিশ সদস্য গত কয়েকদিন ধরে জ¦র-সর্দিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে সিএমপি হাসপাতালের আইসোলেশনে ছিলেন। এরমধ্যেই তার নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডি হাসপাতালের একটি টিম। গতকাল তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফলাফল পজেটিভ আসে। এদিকে ওই পুলিশের করোনা পজেটিভ শনাক্তে দামপাড়া পুলিশ লাইনের ব্যারাক লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া তার কাছাকাছি কিংবা সংস্পর্শে থাকা পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক নার্সসহ ২৫ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
নার্সসহ ২৫ জন কোয়ারেন্টিনে এছাড়া সীতাকু-ের ফৌজদারহাটের ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, সাতকানিয়া উপজেলার চৌধুরী পাড়ার ১৯ বছর এবং পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩২ বছর বয়সী একজন রয়েছেন। সাতকানিয়া আক্রান্ত হওয়া দুইজনের মধ্যে একজন কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন। তিনি শাম চৌধুরী পাড়ায় একটি ভবনে ভাড়া বাসায় থাকেন। অন্যজন ঠিকাদার। যিনি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে কাজ করে থাকেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এরা সকলেই কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের শিকার। অন্যদিকে শনাক্ত হওয়া শিশুর বাড়ি পটিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে। যার বয়স মাত্র ছয় বছর। তবে এ বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।
জানা যায়, গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে সর্বমোট ৯৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাতজনের ফলাফল পজেটিভ আসে। এ সাতজনের মধ্যে নতুন পাঁচজন ছাড়াও লক্ষীপুর রামগতি এলাকার ৫২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ রয়েছেন। বাকি একজন চট্টগ্রাম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ব্যক্তি। যার তৃতীয়বারের মতো নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয় গতকাল রবিবার। কিন্তু তাতেও ওই ব্যক্তির ফলাফল পজেটিভ পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য দপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর পূর্বকোণকে বলেন, ‘বিআইটিআইডি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে সাতজনের শরীরের করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। এদেরমধ্যে একজন লক্ষীপুর জেলার বাসিন্দা। বাকি ছয়জন চট্টগ্রামের। তবে ছয়জনের একজন আক্রান্ত হওয়া প্রথম ব্যক্তি। যার তৃতীয়বার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু তাতেও ফলাফল পজেটিভ আসে।’
এর আগে গত শনিবার বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৭৯ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের ফলাফল পজেটিভ আসে। এরমধ্যে একজন গত বৃহস্পতিবার মারা যায়। একজন নগরীর পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা, অন্যজন লক্ষীপুরের বাসিন্দা। এর আগের দিন শুক্রবার নগরীতে আরও দুই জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়। তাদের দু’জরে একজন নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন আকবরশাহ ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা। দুইজনেই ব্যবসায়ী ছিলেন। দুইজনেই বর্তমানে বিআইটিআইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এরা ছাড়াও গত বুধবার করোনা রোগী শনাক্ত হয় আরও তিনজন। এদের মধ্যে একজন সীতাকু- উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুইজন নগরীর হালিশহরের শাপলা আবাসিক এলাকা ও সাগরিকা এলাকায় থাকেন। তাদের আগে গত ৩ ও ৫ এপ্রিল নগরীর দামপাড়া এলাকার বাসিন্দা দুই জন এ ভাইরাসে শনাক্ত হন। যারা সম্পর্কে পিতা-পুত্র। এই দুইজনসহ আক্রান্ত সকলেই বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বিআইটিআইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে, হঠাৎ চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীর বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক সংক্রমণকে দায়ী করে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি পূর্বকোণকে বলেন, ‘আক্রান্ত হওয়া সকল ব্যক্তিই লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিক সংক্রমণের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি থাকলে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে এ ভাইরাস। তাই এই মুহূর্তে ঘরে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 339 People

সম্পর্কিত পোস্ট