চট্টগ্রাম রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

৬০ বছরে সবচেয়ে কম রোগী চমেক হাসপাতালে

৯ এপ্রিল, ২০২০ | ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

করোনার প্রভাব

৬০ বছরে সবচেয়ে কম রোগী চমেক হাসপাতালে

  • রোগী কমেছে ৭২ শতাংশ
  • জরুরি ও বহির্বিভাগেও রোগীর চাপ নেই

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দিনদিন কমেছে রোগীর সংখ্যা। একই সাথে ভর্তি ও বহির্বিভাগেও রোগীদের চাপ নেই বললেই চলে। প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর এই প্রথম বৃহত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি এ চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭২ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের তথ্যে এমনটিই ওঠে আসে।
১ হাজার ৩শ ১৩ শয্যার এ হাসপাতালটিতে কিছুদিন আগেও বেড পেতে মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। বেড না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতেও বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হতো। কিন্তু বর্তমান চিত্র পুরোটাই তার বিপরীত। বর্তমানে রোগীর অভাবে হাসপাতালের বহু সংখ্যক শয্যা খালি পড়ে আছে। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা কমছে ও বেড খালি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে অঘোষিত লকডাউন ঘোষণার সাথে সাথেই হাসপাতালটিতে ভর্তি, জরুরি ও বহির্বিভাগে রোগীর চাপ অনাকাংশেই কমে যায়। এ ছাড়া যারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তারাও ভয়ে হাসপাতালে থাকতে ইচ্ছুক নন। ফলে ক্রমেই রোগীর সংখ্যা কমে আসে। এতদিন ১৩১৩ শয্যার বিপরীতে হাসপাতালটি গড়ে রোগী ভর্তি থাকতো সাড়ে তিন থেকে চার হাজার। এছাড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসতেন আরও চার থেকে ছয় হাজারের মতো রোগী। কিন্তু বর্তমানে প্রায় চারগুণ কমেছে বলেও জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার চমেক হাসপাতালের ৩৯টি ওয়ার্ডের ১৩১৩ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিল মাত্র ৯৮৫ জন। এর মধ্যে নতুন করে ভর্তি হন ১৯৬ জন। যা হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার সর্বনি¤েœ নেমে এসেছে। হিসেব অনুযায়ী গতকাল হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিলেন মাত্র ২৮ শতাংশ। বাকি ৭২ শতাংশ রোগীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এছাড়া গত সোমবার হাসপাতালটিতে ভর্তিরত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ৪২ জন। যার মধ্যে নতুন করে ভর্তি হন মাত্র ২২০ জন রোগী। গত রবিবার রোগী ভর্তি ছিল মাত্র ১ হাজার ১২৮ জন এবং শনিবার রোগী ভর্তি ছিল মাত্র ১ হাজার ১৫৬ জন।
এছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে গতকাল বুধবার চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন মাত্র ২২৩ জন রোগী। যদিও আগে বহির্বিভাগে কমপক্ষে সেবা নিতেন তিন থেকে সাড়ে তিনহাজার রোগী। এর আগের দিন মঙ্গলবারও চিত্র ছিল প্রায় একই। ওই দিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন মাত্র ২০৬ জন। অন্যদিকে গতকাল বুধবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেবা নিয়েছেন মাত্র ২২৪ জন রোগী। কিন্তু আগে শুধুমাত্র জরুরি বিভাগেই কয়েকহাজার রোগী সেবা নিতেন। যদিও আগে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতি দুই মিনিটে একজন রোগী সেবা নিতেন কিন্তু সেই ভিড় এখন আর নেই বললেই চলে।
এদিকে, চমেক হাসপতালে করোনার উপসর্গ থাকা রোগীদের সেবা দিতে বহির্বিভাগ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে খোলা হয়েছে ফ্লু-কর্নার। যেখানে জ¦র-সর্দি কাশি নিয়ে আসা রোগীরা সেবা নিয়ে থাকেন। আগে এসব রোগীরা সাধারণদের সাথে দাঁড়িয়ে সেবা নিতে পারলেও বর্তমানে তাদের জন্য পৃথক কর্নার চালু রয়েছে। যদিও এসব কর্নারে পরিস্থিতির কারণে রোগীর চাপ নেই বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। তবে সেবা দেওয়ার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন হাসপাতালে নিয়োজিত চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা।
এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘লকডাউন পরিস্থিতিতে রোগীরা হাসপাতালে আসতে পারছেন না। তবে যারাই আসছেন তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কাজ করছেন। শুধু হাসপাতালেই নয়, আসতে না পারাদের বিষয়ে হটলাইনের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জরুরি ছাড়া কেউই হাসপাতালে আসছেন না। তবে আমাদের সেবা কার্যক্রম আগের মতোই আছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগ,জরুরিসহ সকল কার্যক্রম আগের মতোই চলমান রয়েছে।’

The Post Viewed By: 117 People

সম্পর্কিত পোস্ট