চট্টগ্রাম শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বাড়ছে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ

৫ এপ্রিল, ২০২০ | ২:৫০ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

করোনায় কর্মহীন

বাড়ছে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ

করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। তাই চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। কোন কাজকর্ম না থাকায় পরিবার-পরিজনের মুখে আহার তুলে দিতে না পারায় হতাশায় ভুগছেন শ্রমজীবী নিম্নআয়ের মানুষ। গত কয়েক দিন ধরে কোন কাজ না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এমনি এক চিত্র দেখা গেছে গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর চকবাজার এলাকায়। বহু শ্রমজীবী মানুষ জটলা করে আছে কাজের সন্ধানে। করোনায় সবকিছু বন্ধ থাকায় নিজেরা যে কিছু করবে, তারও উপায় নেই। তাই দিন যত গড়াচ্ছে, দুর্ভোগ আরও বেশি হচ্ছে অসহায় এই মানুষগুলোর।
এ সময় রংমিস্ত্রি শহিদুল হক বলেন, ‘আমি রংয়ের কাজ করি। তবে কয়েক দিন ধরে কাজ না থাকায় এখন অন্য কাজ ধরতে এখানে এসেছি। এখন বাজারেও দেখি কোন কাজ নেই। তাই মারাত্মক সমস্যায় পড়েছি। জানি না কি করবো।’ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় আগের ছুটির সঙ্গে আরও ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি থাকবে। তবে এই ছুটি যত বাড়বে, অসহায় মানুষদের দুর্ভোগ ততই বাড়ছে বলে মন্তব্য সাধারণ মানুষের। বিকেলে নগরীর মুরাদপুর মোড়ে দেখা হয় রিকশাচালক মনজুর হোসেনের সাথে। ভাড়ার খোঁজে বসে আছেন মোড়ে। কিন্তু আগের মতো ভাড়া নেই। কাটছে অলস সময়। দৈনিক পূর্বকোণকে তিনি বলেন, ‘এভাবে গত কয়েকদিন পার করেছি। এ কারণে পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে। রিকশায় বসে একটি চিন্তা নিজের মধ্যে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে- চলমান ছুটি কখন শেষ হবে, কখন দেশে আগের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। রিকশা চালিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দু’বেলা দুমুঠো খেতে পারবো।’
তিনি বলেন, দুপুর থেকে ৫০ টাকা আয় হয়নি। সব খাবারের দোকান বন্ধ। ক্ষিধা লাগলে কিছু খেতে পারি না। তাই বেশিক্ষণ রিকশাও চালাতে পারি না।’
চলমান সরকারি ছুটির কারণে শুধু রিকশাচালক নয়, নি¤œ আয়ের মানুষ ও দিন মজুর বেশিভাগ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এ কারণে অনেকে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসে আছে। দিন দিন এ শ্রেণি মানুষের সংখ্যা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতে এখন সাহায্য প্রার্থীর সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় প্রতিটি সড়কেই একটু সাহায্যের আশায় বসে বসে ক্ষণ গুণছে অসহায় এই মানুষগুলো। কথা বলে জানা গেছে, নিজেদের আয় রোজগার সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই পথে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা। নগরীর চান্দগাঁও এ ব্লকের মুখে বিকেল ৫টার দিকে দেখা হয় খুরশিদা বেগমের সাথে। কোলে তার ৮/৯ মাসের শিশু সন্তান। সঙ্গে রয়েছে ৯ থেকে ১০ বছরের শিশু পুত্র ও আনুমানিক ৭ বছরের কন্যা সন্তান। নগরীর বাকলিয়া কালামিয়া বাজার থেকে সাহায্যের আশায় এখানে এসে ঘোরাঘুরি করছেন। এ সময় কথা হয় খুরশিদা বেগমের সাথে। দৈনিক পূর্বকোণকে তিনি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারিভাবে কত সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা এখনো কোনো সাহায্য পাইনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে আছি। তাই একটু সাহায্যের আশায় শিশু সন্তানগুলো নিয়ে ঝুঁকির মধ্যেও এখানে এসেছি।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 333 People

সম্পর্কিত পোস্ট