চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ | ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কণ্ঠনীড় বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে অতিথিরা

ধর্মের নামে সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

বর্তমান বিশ্বে ধর্মের নামে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে ধর্মের জন্য মানুষ নয়, বরং মানুষের জন্য ধর্ম। মানব ধর্মের উপর আর কোন ধর্ম হতে পারে না। আর সংস্কৃতি চর্চা মানব ধর্ম চর্চার শিক্ষাও দেয়। কণ্ঠনীড় বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্রের ‘সমাবর্তন ও বরণ’ অনুষ্ঠানে অতিথিরা এ কথা বলেন।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারি মিলনায়তনে কণ্ঠনীড়ের শুদ্ধ উচ্চারণ উপস্থাপনা ও আবৃত্তি কর্মশালার ‘সমাবর্তন ও বরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্র ‘কণ্ঠনীড়’। কণ্ঠনীড় বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সেলিম রেজা সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক ও সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজী, কবি সাংবাদিক এজাজ ইউসুফী, কবি ও সংগঠক জিন্নাহ চৌধুরী ও বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদ হাসান।
অনুষ্ঠানে কবি সাংবাদিক এজাজ ইউসুফী বলেন, পৃথিবীতে যে হারে উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী সংগঠনগুলো মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে তারা ধ্বংস করছে নিরীহ মানুষের জীবন। এটা কখনো ধর্ম হতে পারে না। ধর্ম তৈরি হয় মানব জাতির কল্যাণে। ধ্বংসের জন্য না। সবার আগে মানব ধর্ম। সবাইকে এ বিষয় মাথায় রেখে একটি অসম্প্রদায়িক দেশ গড়তে হবে। আর এসব বিষয় সংস্কৃতি চর্চা মানুষের মনের মধ্যে ভালো প্রভাব ফেলে। কবিতা মানবতা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির কথা বলে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, কবিতা মানুষের মনকে শুদ্ধ করে। সংস্কৃতি চর্চা যেন না হয় মঞ্চ ভিত্তিক। সংস্কৃতি হচ্ছে মুক্ত আকাশের মতো। তাকে মেলে ধরতে হবে সবার মাঝে, সবার জন্য। আর এই সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে কবিতা আবৃত্তি হচ্ছে একটি অন্যতম মাধ্যম। কারণ সুন্দর কথা সবাই বলতে পারে না। এই সুন্দর কথা বলতে পারাও একটি শিল্প। ৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে এদেশ স্বাধীন করা হয় বাংলা ভাষাকে ভালোবেসে। তাহলে সেই বাংলা ভাষাকে কেন আমরা সুন্দর করে বলতে চেষ্টা করবো না? সুন্দর কথা বলতে পারা মানুষকে সবাই ভালোবাসে। তাই আমাদের আগামী প্রজন্মরা শুধু মঞ্চে উঠে দুই একটা কবিতা পাঠ করলে হবে না। বরং একে জীবনের একটি অংশ হিসেবে নিতে হবে। আর সংঘাত মুক্ত ও একটি অসম্প্রদায়িক দেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাজুল ইসলাম ও মুন্নি সাহা মিরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক তানিয়া নাসরিন। অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় তরুণ নাট্যকর্মী আব্দুল্লাহ বিন বাকি নোবেল, রুমেল বড়–য়া ও নারী সাহসিকা নুসরাত জাহান রাফিকে। এসময় নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় শিক্ষার্থীদের বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনের মাধ্যমে ও শেষ হয় একক, দ্বৈত ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশনের মাধ্যমে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 334 People

সম্পর্কিত পোস্ট