চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

করোনায় মামলা কমলেও অপরাধ বাড়ার শঙ্কা
চমেক ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশসহ ৮৭ জন করোনা শনাক্ত

১ এপ্রিল, ২০২০ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনায় মামলা কমলেও অপরাধ বাড়ার শঙ্কা

করোনাভাইরাসের কারণে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের ষোলো থানায় অপরাধ রেকর্ডের হার কমেছে। জেলার থানাগুলোতেও একই অবস্থা। পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন মানুষের কম চলাফেরা ও বেশির ভাগ সময় ঘরে থাকার কারণে অপরাধের ঘটনা কম হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক মনে করছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে এই সময়ে অনেক মানুষ যদি বেকার হয়ে পড়ে তাহলে ভাইরাস আতঙ্ক শেষ হবার পর অপরাধ আবার বেড়ে যাবে। অভাবী মানুষের জমানো টাকা শেষ হলে তারা রোজগার করতে মরিয়া হয়ে উঠবেন। তখন পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আগাম প্রস্তুতি প্রয়োজন রয়েছে।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) আবদুল ওয়ারিশ জানান, অঘোষিত ‘লকডাউনের’ পর থেকে গত ক’দিনে অপরাধ শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে তা বলা যাবে না। তবে নগরীর থানাগুলোতে পূর্বের চেয়ে মামলা রেকর্ডের পরিসংখ্যান কমেছে। যে কয়টি মামলা হয়েছে তাতে চুরি, ছিনতাই কিংবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নগরীর ষোলো থানায় গত ছয়দিনে বড় ধরনের ছিনতাই, চুরি কিংবা আলোচিত কোন অপরাধের ঘটনা ঘটেনি। এ কয়দিনে নগরীর থানাগুলোতে যে কয়টি মামলা রেকর্ড হয়েছে এর মধ্যে খুচরা ইয়াবা বিক্রির ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, সিধেল চুরি ও মারামারি সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। যেমন গত ২৫ মার্চ থেকে গত ২৯ মার্চ পর্যন্ত নগরীর কোতোয়ালী থানায় চারটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। এরমধ্যে তিনটি খুচরা ইয়াবা বিক্রি ও একটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা সংক্রান্ত মামলা।
একই সময়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে তিনটি। এরমধ্যে দুটি অস্ত্র ও একটি সিধেল চুরি। খুলশী থানায় একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দুটি মারামারি সংক্রান্ত মামলা রেকর্ড হয়েছে। ডবলমুরিং থানায় গত চারদিনে মামলা রেকর্ড হয়েছে তিনটি। এরমধ্যে দুটি ইয়াবা ও একটি মারামারি সংক্রান্ত। তবে নগরীর চান্দগাঁও থানায় গত চারদিনে মামলা রেকর্ড হয়েছে মাত্র একটি। তাও সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত। অন্য সময়ে থানাগুলোতে গড়ে দুই থেকে তিনটি মামলা রেকর্ড হয়ে থাকে।
বায়েজিদ থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা মাদক, অস্ত্র, নারী নির্যাতন ও জমি দখলের ঘটনায়। গত তিন চারদিনে কোন মামলা হয়নি।
অঘোষিত ‘লকডাউনের’ পর নগরীর বাসা বাড়ি তালা লাগিয়ে অধিকাংশ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী ৪ এপ্রিলের পর লোকজন ফিরবেন নগরীতে। কোন বাসা বাড়ি কিংবা অফিসে চুরির ঘটনা ঘটলে তা জানা যাবে ৪ এপ্রিলের পর। তবে নগরীর কোন থানায় এখনো বড় ধরনের চুরির অভিযোগ আসেনি। করোনার কারণে অপরাধ কমে গেছে বলে সবাই মনে করছেন। মূলত এ সময় থানায় অপরাধ কম রেকর্ড হচ্ছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঈন উদ্দিন বলেন, ‘লকডাউনের’ কয়েকটি দিন পার হয়েছে। সবাই যার যার মতো ঘরে আছে। ইতিমধ্যে শপিং মল, যানবাহন সবকিছুই বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বন্ধকালীন সময় পর্যন্ত হয়তো অপরাধের হার কম হবে। থানায় মামলা কম হচ্ছে মনে করে বসে থাকা যাবেনা। কারণ অধিকাংশ শ্রমজীবী মানুষ নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
তিনি আরও বলেন, এখনো হয়তো অনেকে ঘরে বসে থাকার বিষয়টি মেনে নিচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে শ্রম দেয়ার জায়গাও নেই। এভাবে এক সপ্তাহ কিংবা আরো বেশি সময় অতিবাহিত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।
নগর পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, করোনার কারণে দরিদ্র মানুষ হয়তো কিছুদিন ঘরে থাকবেন। কয়েকদিনের মধ্যে তাদের জমানো টাকা শেষ হয়ে গেলে তারা পথে নামবে। এতে করে ওই সময়ে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হবে। আবার তারা কাজ না পেয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হবার আশংকা রয়েছে। এজন্য এসব মানুষ নিয়ে এখনই সরকারকে ভাবতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হবে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 117 People

সম্পর্কিত পোস্ট