চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

কেইপিজেড খোলা: আতঙ্কে ২৫ হাজার শ্রমিক

২৭ মার্চ, ২০২০ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

কেইপিজেড খোলা: আতঙ্কে ২৫ হাজার শ্রমিক

মহামারী করোনার সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। তবে এই লকডাউন সারাদেশ কার্যত হলেও এখনো বন্ধ হয়নি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড)। ইতিমধ্যে গণপরিবহন বন্ধ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হলেও কারখানা চালু রাখায় এখানকার ২৫ হাজার শ্রমিকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবহন সংকটের মধ্যে কিভাবে কর্মস্থলে যাবেন এ নিয়ে দুঃচিন্তায় ভুগছেন শ্রমিকরা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনও দুশ্চিন্তায় পড়েছে

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সাধারণ ছুটির পাশাপাশি গণপরিবহন বন্ধ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। রাস্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনসমাগম কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে কারখানা চালু রেখেছে কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড)। কেইপিজেডের মূল গেটের সামনে দেখা যায়; বাস, চাঁদের গাড়ি, অটোরিকশাসহ কয়েকশ গাড়ি করে শ্রমিকরা করাখানায় আসছেন। দলবেঁধে ইপিজেডের মধ্যে প্রবেশ করছেন একে অপরের গায়ে ঘেঁষে। ন্যূনতম দূরত্বও বজায় রাখছেন না। কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে মুখে মাস্ক পরলেও করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতার অভাব বেশিরভাগ মানুষের মাঝে। এমন জনসমাগম থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। কেইপিজেড সূত্র জানায়, কোরিয়ান ইপিজেডে চার ইউনিটের ২১টি কারখানায় বিদেশিসহ প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের সমাগম হয়।

দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন বা সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও কেইপিজেডে এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় কারখানা বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে মনে করছেন শ্রমিকরা। কেইপিজেডের কর্ণফুলী স্যু ইন্ডাস্ট্রিজের (কেএসআই) ফাতেমা নামের এক শ্রমিক জানান, কেইপিজেড কারখানাগুলোতে করোনা নিয়ে সচেতনতায় এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেই। এই শিল্পজোনে ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকরা আসেন। এত জনসমাগমের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বলেন, আমরা বলছি পাশাপাশি দুজন থাকলে ৩ ফিট দুরত্বে থাকতে হবে। একসাথে অনেক লোক কাজ করছেন, দুরত্ব মেইন্টেইন করছেন কি না, তাছাড়াও ওখানে বিদেশিরা কাজ করছে, তারা ঠিকমত কোয়ারেন্টাইন মানছেন কি না। সব মিলিয়ে কেইপিজেডের শ্রমিকরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।

করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটের পর সরকারি সকল বিধি-নিষেধ মেনেই কারখানার শ্রমিকরা কাজ করছেন এমন দাবি করে কেইপিজেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো.মুশফিকুর রহমান জানান, কারখানার বন্ধের ব্যাপারে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে কারখানা সচল বা বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শনিবার ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পূর্বকোণ/এম

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 620 People

সম্পর্কিত পোস্ট