চট্টগ্রাম শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

রাঙামাটিতে হামরোগে ১৪ দিনে ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত শতাধিক শিশু

২০ মার্চ, ২০২০ | ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

রাঙামাটি সংবাদদাতা

জরুরী মেডিকেল টিম গেছে চিকিৎসা সেবা দিতে

রাঙামাটিতে হামরোগে ১৪ দিনে ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত শতাধিক শিশু

রাঙামাটির দুর্গমাঞ্চল সাজেক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি এলাকায় মহামারি আকারে হাম দেখা দিয়েছে। গত ১৪দিনে সেখানে দেখা দেয়া হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত শতাধিক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকার জনপ্রতিনিধি ১৭০ নম্বর তুইছুই মৌজাস্থ ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার জৌপৈই থাং ত্রিপুরা।

নিহত শিশুরা হলেন- সাগরিকা ত্রিপুরা (১মাস), সুজন কুমার (৯) কহেন ত্রিপুরা (১০), বিধান ত্রিপুরা (১২) রেজিনা ত্রিপুরা (২), নিক্সন ত্রিপুরা (৩)।

জৌপৈই থাং ত্রিপুরা জানান, অরুন পাড়া, লাংকাটান পাড়া ও হাইচ্যাপাড়া নামক এই তিনটি এলাকায় সর্বমোট ১০৭ জন  হামরোগে আক্রান্ত হয়ে আছে।

অপরদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু হামরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪দিনের ৫ শিশু মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে দুর্গম ও সীমান্তবর্তী শিয়ালদহ এলাকার তিনটি গ্রামের শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাচ্ছিলাম। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানোর সাথে সাথেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে গ্রামগুলি অত্যন্ত দূরে এবং দীর্ঘ পাঁয়ে হাটা পথে হওয়ায় সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে। শুক্রবার আরেকটি মেডিকেল টীম গেছে,সেখানকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে আক্রান্ত শিশুদের হেলিকপ্টারে করে খাগড়াছড়ি শহরে নিয়ে যাওয়া হবে চিকিৎসার জন্য।’

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন জানিয়েছেন, সাজেক ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম অরুনপাড়া, নিউথাং পাড়া এবং হাইচপাড়ায় গতকয়েকদিনে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে মূলত: শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই ৫ জন শিশু মারা গেছেন। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে দুর্গমতার কারণে তিনি নিজেও ঠিকসময়ে সঠিক খবর পাননি বলে জানিয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা জানিয়েছেন, আমরা জেনেছি দুর্গম ওই এলাকায় হঠাৎ হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাম থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে। আমরা জরুরী মেডিকেল টীম সেখানে পাঠিয়েছি। গতকাল শুক্রবার বিজিবির সহযোগিতায় সেখানে হেলিকপ্টারে করে বিশেষ আরেকটি মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, আয়তনে দেশের সবচে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির সবচে দুর্গম ইউনিয়ন সাজেক। এই ইউনিয়নের সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া বাকি এলাকাগুলো অত্যন্ত দুর্গম। সেখানকার শিয়ালদহ এলাকাটিকে সবচে বেশি দুর্গম বলে বিবেচনা করা হয় । প্রায়শই সেখানে দুর্গমতার কারণে খাদ্যাভাব ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালের মে মাসে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয় ওই এলাকায় ৭ জনের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত আরো ৩০ জন জরুরী চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেন। ৬০৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সাজেক ইউনিয়নে লোকসংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার । কিন্তু যোগাযোগ দুর্গমতা ও সীমান্তবর্তী অনতিক্রম্য এলাকা হওয়ায় সরকারি জরুরী চিকিৎসা সেবা সেখানে নিয়মিত পৌঁছায়না।

 

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 180 People

সম্পর্কিত পোস্ট