চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১৮ মার্চ, ২০২০ | ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা আতঙ্কে ভোটারসহ কর্মকর্তারা

ভোট স্থগিতের দাবি উঠছে

  • ইভিএমে করোনা ছড়ানোর ব্যাপারে উদ্বেগ
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে করোনা আতঙ্ক
  • ভোটারদের ব্যাপক অনুপস্থিতির আশঙ্কা

করোনা আতঙ্ক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচন স্থগিত হবে কিনা তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিকরা রয়েছেন সংশয়ে। প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা বললেও নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা করোনা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন। সাধারণ ভোটার, পুলিশ কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ থেকে সচেতন নাগরিকদের মত হলো, ইভিএম মেশিনে একটি বাটন টিপে হাজার হাজার ভোটার ভোট দেবেন। তাদের একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে অন্য সবার মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থাকবে। আর করোনা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক থেকে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে নাও যেতে পারেন। সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে শহর এলাকায় ভোট পড়েছিল মাত্র ১৬ শতাংশ। এরমধ্যে প্রিসাইডিং অফিসারের ৫ শতাংশ ভোট দেওয়ার নিয়ম ছিল। তা বাদ দিলে মোট ভোট পড়েছিল ১১ শতাংশ। তখন করোনা আতঙ্কের মতো কোনো বিষয় কাজ করেনি। তবে এবারের নির্বাচনের আগে করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
ইতিমধ্যে নির্বাচন স্থগিতের জন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দাবি উঠেছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নির্বাচনী কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, করোনা আতঙ্ক নিয়ে আমরা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছি। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছি। মাঠ পর্যায়ে যেখান থেকে যে তথ্য পাচ্ছি তা সংগ্রহ করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করছি। নির্বাচনের ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত না আসার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা আমাদের কার্যক্রম এগিয়ে নেব। গত রবিবার চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরসহ কোনো পথ দিয়েই করোনা অধ্যুষিত এলাকা থেকে চট্টগ্রামে লোক আসা ঠেকাতে প্রয়োজনে বল প্রয়োগের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সারাদেশে চট্টগ্রামই করোনা নিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে। করোনা অধ্যুষিত এলাকা থেকে আসা প্রবাসীদের বাসা বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনের জন্য রাখা হলেও তারা শতভাগ নিয়ম মানছে না বলে খবর আসছে প্রতিনিয়ত। এ অবস্থায় মূলত সিভিল সার্জনের এই বক্তব্যের পর সরকারি অন্য সংস্থার লোকজনও নড়েচড়ে বসেন।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও আনসারসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের উদ্বেগের কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তারা এক ধরনের ঝুঁকি অনুভব করছেন বলেও জানিয়েছেন।
নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) মহোদয় চট্টগ্রামে এসেছিলেন। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলে করোনার প্রভাব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন। আমরাও আমাদের উদ্বেগের কথা তাঁকে জানিয়েছি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন বিভাগকেও জানিয়েছি। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ঝুুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা তা মেনে কাজ করব। জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে গত রবিবার রাতে চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান মেয়র প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিরা নির্বাচন অনুষ্ঠান কিংবা বন্ধ রাখার ব্যাপারে স্পষ্ট মন্তব্য করেননি। ইভিএমে ভোট দেওয়ার সময় করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করেনাভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে ইভিএম কেন, ম্যানুয়েল পদ্ধতিতেও তো ছড়াতে পারে। করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য কোনোভাবেই কেবল ইভিএম পদ্ধতিকে দায়ী করা যাবে না।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 163 People

সম্পর্কিত পোস্ট