চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

করোনা মোকাবেলায় একগুচ্ছ ব্যবস্থা চট্টগ্রাম কারাগারে
দেশে ফিরেছেন পশ্চিমবঙ্গের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ৬৫০ বাংলাদেশি

১৮ মার্চ, ২০২০ | ৩:১২ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

করোনা মোকাবেলায় একগুচ্ছ ব্যবস্থা চট্টগ্রাম কারাগারে

নতুন বন্দীরা ১৪ দিন পৃথক ওয়ার্ডে, সাবান, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আসা নতুন বন্দীদের ১৪ দিনের জন্য পৃথক ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় কারা অভ্যন্তরে নতুন করে আটটি ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে চারটি ওয়ার্ডে পুরুষ ও চারটি ওয়ার্ডে মহিলাদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে রাখার পর কারো মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে তার পরীক্ষার জন্য জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হবে। এছাড়া কারা ফটকে প্রবেশের পর বন্দীদের হাত ধোয়া ও পরিষ্কারের জন্য পানি ও সাবানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারের অভ্যন্তরে প্রতিটি ওয়ার্ডে সাবান, হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বন্দীদের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেজন্য চিকিৎসক ও কারা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বন্দীদের মোটিভেশন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩শ ৩৪ জন। প্রতিদিন এক থেকে দেড়শো জন নতুন বন্দী আসছে কারাগারে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনা রোধে কারাভ্যন্তরে বেশ কিছু উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। কারাগারের দয়িত্বে থাকা চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি জানান, কারগারের প্রত্যেক ওয়ার্ডের মেডদের (বন্দী ওয়ার্ড দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত কয়েদি) নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা বৈঠক করেছি। করোনা রোধে সচেতনতা সম্পর্কে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে। করোনা সম্পর্কে ধারণা দিতে সাধারণ বন্দীদের মধ্যে লিফলেট বিলি করা হয়েছে।
সির্ভিল সার্জন জানান, চট্টগ্রাম কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি বন্দী রয়েছে। প্রতিদিন নতুন বন্দী আসছে। নতুন বন্দী কারাগারে প্রবেশের সাথে সাথে তাদের কেউ বিদেশ ফেরত কিনা অথবা বিদেশ থেকে আসা আত্মীয়স্বজনদের সাথে কেউ ছিলো কিনা, করোনার প্রাথমিক কোন লক্ষণ তাদের মাঝে আছে কি না বিশেষ করে সর্দি, কাশি, জ্বর নিয়ে কোন বন্দি এসেছে কিনা তা যাছাই করা হচ্ছে। চারটি পুরুষ ও চারটি মহিলা কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। এসব দেখাশোনা করতে চার সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করে দেয়া হয়েছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি যাতে বন্দীদের মধ্যে করোনা ভাইরাস বহনকারী কোন রোগী প্রবেশ করতে না পারে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ৪৮টি কারাগারে প্রায় ৯০ হাজার কারাবন্দী রয়েছে। করোনা ভাইরাস থেকে কারাবন্দীদের সুরক্ষার জন্য গত ১০ মার্চ কারা অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কারাগারগুলো নির্দেশনা মানছে কিনা তা তদারকি করার জন্য বিভাগীয় ডিআইজিদের সপ্তাহে অন্তত দুটি কারাগার পরিদর্শন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত ১০ মার্চ থেকে কারাগারগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে বন্দীদের রাখার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সাধারণ বন্দিদের থেকে পৃথক ভবনে এই ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।
নতুন যেসব বন্দি ভেতরে প্রবেশ করছে, তাদের কমপক্ষে ১৪ দিন ইনকিউবেশন পিরিয়ডে রাখা হচ্ছে। জীবাণু প্রবেশের পর থেকে লক্ষণ প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত সময়টাকে বলা হয় ইনকিউবিশন পিরিয়ড। কোনও বন্দি যদি বাইরে থেকে জীবাণু নিয়ে আসে, তাহলে ওই জীবাণু থেকে রোগ ছড়ানোর সর্বোচ্চ সময়সীমা পর্যন্ত তাকে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 96 People

সম্পর্কিত পোস্ট