চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

কলেজছাত্র করিম ও শিহাব বিদেশ পাড়ি দিতে মরিয়া

১৮ মার্চ, ২০২০ | ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ

আরফাতুল মজিদ, কক্সবাজার

কোটিপতি স্টাইলে জীবনযাপন

কলেজছাত্র করিম ও শিহাব বিদেশ পাড়ি দিতে মরিয়া

পরপর দুই বার পূর্বকোণে সংবাদ শিরোনাম হওয়া ‘কক্সবাজারে কোটিপতি স্টাইলে কলেজছাত্র মো. করিম’ বিদেশ পাড়ি দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এইচএসসিতে পড়–য়া করিমের কোটিপতি স্টাইলে জীবনযাপনের তথ্য উঠে আসার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। নিজেকে আত্মগোপনে রেখেই যেকোনো সময় তার বড় ভাইয়ের মতো বিদেশে পৌঁছতে ছক কষছে করিম। টেকনাফে ইয়াবার ধরপাকড় শুরু হওয়ার আগেই নিজেকে রক্ষা করতে করিমের এক ভাইও প্রায় ছয় বছর আগে সৌদি আরব চলে যান। এখন আলোচনায় আসার পর করিমও বিদেশ পাড়ি দেওয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তার এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। এতে সহযোগিতা করছে করিমের অন্যতম সহযোগী কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া এলাকার শিহাব। একই সাথে শিহাবও বিদেশ পাড়ি দিতে পারে বলে জানা গেছে। মো. করিম টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোড়া বৃটিশ পাড়া এলাকার মো. সেলিমের ছেলে। করিমের অপর ভাই সিরাজুল ইসলামও মাদক মামলা মাথায় নিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের আরেক ভাই বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছে। হ্নীলার মো. করিমের এক প্রতিবেশী জানিয়েছে, করিমের পরিবারের অবস্থা দেখে মনে হবে না করিম ইয়াবা কারবারে জড়িত। ঘরও তেমন আলিশান নয়। কিন্তু দৈনিক পূর্বকোণে মো. করিমের লাইফ স্টাইল নিয়ে পড়েছি। নিউজ পড়ার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি কলেজে পড়ার আড়ালেই করিম ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে। তার অনেক বন্ধুও এই কথা স্বীকার করেছে এলাকায়। পত্রিকায় সংবাদের পর পুরো হ্নীলায় তোলপাড় শুরু হয়। চারপাশে আলোচনা সমালোচনা চলে করিম নিয়ে। অনেকেই করিমের কোটিপতি লাইফ স্টাইলের সত্যতাও নিশ্চিত করেছেন। তার ভাই সিরাজুল ইসলামও মাদক মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে। অপর একভাই নিজের প্রাণ রক্ষা করতে সৌদি আরব চলে যান। ইয়াবা ব্যবসা করলেও এতোদিন করিমের পুরো পরিবার আড়ালে ছিল। নিউজ আসার পর সবখানে তাদের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের পরিবার ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত এটা সবাই জানে। কিন্তু কলেজে পড়ার আড়ালে করিমের এতো আলিশান জীবনযাপন এলাকার কারো চোখে পড়েনি। করিমের পুরো পরিবার কৌশলে চলাফেরা করছে এলাকায়। তবে করিম ও তার ভাই সিরাজকে দেখা যাচ্ছে না। তারা আত্মগোপনে চলে যান।
মো. করিমের এক বন্ধু জানিয়েছে, করিমের দু’টি পার্সপোট রয়েছে। মোবাইল রয়েছে প্রায় তিনটির মতো। প্রতিটি মোবাইলের দাম লাখ টাকার উপরে। তার গলায় সবসময় স্বর্ণের চেইন এবং হাতে স্বর্ণের চেইন থাকত। অনেক সময় পার্সপোট, মোবাইল ও স্বর্ণ একত্রিত করে ছবিও আপলোড দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। তার টাকার বাহাদুরিতে অনেক বন্ধু সঙ্গ দিত নিয়মিত। দুই হাতে টাকা বিলাত করিম। করিমের অন্যতম সহযোগী নুনিয়াছড়া এলাকার শিহাব। শিহাবের বাসায় প্রায়সময় লেনদেন হয়। নিয়মিত টাকা জমা রাখত শিহাবের বাসায়। শিহাবের পরিবারও এবিষয়ে অবগত ছিল। করিম ও শিহাবের জন্য নিয়মিত টাকা আসত কক্সবাজার এসএ পরিবহনে। তাদের বিষয়ে নিউজ আসার পর থেকে তারা বেকায়দায় রয়েছে। তারা দুইজন কৌশলে বিদেশ পাড়ি দেওয়ারও চেষ্টা করছে। বিদেশ যাওয়ায় তাদের পরিবারের সম্মতিও রয়েছে।
এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন (প্রশাসন) বলেন, অবৈধ কার্যকলাপ ও অবৈধ আয় না থাকলে কোনো দিনেও সম্ভব নয় একজন কলেজ ছাত্রের এভাবে জীবনযাপন। হয়ত সে নিজেই অবৈধ আয় করে না হয় পরিবারের কেউ অবৈধ আয়ে জড়িত। হয়ত কলেজে পড়া একটি শো। দৈনিক পূর্বকোণে সংবাদের পর থেকেই করিমসহ তার সহযোগীদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, অপরাধীরা আড়াল দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু আড়ালে বেশি দিন থাকতে পারবে না। আজ না হয় কাল তারা আইনের আওতায় আসবে।
এবিষয়ে মো. করিমের বড় ভাই সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সিরাজ বলেন, আর কত নিউজ করবেন আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। সে এসবে জড়িত না।
একপর্যায়ে ভাইয়ের নম্বর থেকে কথা বলেন মো. করিম। করিম বলেন, আমি কক্সবাজার শহরের বিডিআর ক্যাম্প থাকতাম। কোনো হোটেলে থাকতাম না। হয়ত টেকনাফের কোনো বন্ধু আসলে তাদের সাথে হোটেল ওয়ার্ল্ড বিচে উঠতাম। তবে রাতে থাকতাম না। আমার কোনো দামি প্রাইভেটকার বা বাইক নেই। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তাছাড়া শিহাব আমার বন্ধু। তার বাসায় আমি কোনো দিনও যায়নি। আমি নিয়মিত বাসায় থাকি এখন। কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করছি না। তার বিষয়ে আর নিউজ না করার অনুরোধ করেন তিনি।
জানতে চাইলে করিমের বন্ধু শিহাব বলেন, তারা একসাথে চলাফেরা করত। আর কিছু নয়। তাদের আলিশান জীবনযাপনের কথা একেবারেই অস্বীকার করে শিহাব।
এদিকে তাদের বক্তব্য নেওয়ার পরপরেই বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবেদন বন্ধ করতে সুপারিশও করা হয়। সুপারিশের এক পর্যায়ে শিহাবের পরিবার স্বীকার করেছে মো. করিম প্রায় সময় তাদের বাসায় থাকত। তাদের অবাধ চলাফেরাও ছিল। কৌশলে সুপারিশকারীরাও তারা অবৈধভাবে ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসার কথা স্বীকার করেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 154 People

সম্পর্কিত পোস্ট