চট্টগ্রাম শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনার কারণে নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা নেই

১৫ মার্চ, ২০২০ | ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার কারণে নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা নেই

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘করোনার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হবে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এতে সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা নেই।
গতকাল (শনিবার) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত রিটার্নিং অফিসার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
সিইসি আরও বলেন, ‘এই পর্যন্ত যে পরিস্থিতি আছে তাতে করে জাতীয় পর্যায়ে কোনো দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়নি, নির্বাচন বন্ধ করার কোনো পরিস্থিতি আসেনি। যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে সেটা পরে দেখা যাবে’।
তিনি বলেন, ২৬-২৯ মার্চ পর্যন্ত টানা চারদিন ছুটি থাকছে। এতে ভোটাররা বিভিন্ন স্থানে চলে যেতে পারেন। তাই নির্বাচনের দিন অর্ধদিবস অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য সীমিত আকারে যানবাহন চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিইসি কে এম নূরুল হুদা পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেওয়া ও বের করে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এমন অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। অভিযোগগুলো আমরা বিভিন্নভাবে পর্যালোচনা করে দেখেছি, এসব অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা দেখেছি, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে এজেন্টই যায়নি। কেন্দ্রে যদি এজেন্ট না যায়, তাহলে আমাদের কিছু করার থাকে না’। প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যোগ্য এজেন্ট কেন্দ্রে পাঠাবেন। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য এজেন্ট দরকার। পোলিং এজেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করেন। নির্বাচনে তারা নির্ভরশীল ব্যক্তি। বুথে কোনো অনিয়ম হলে প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে তাদের। সেই এজেন্টদের নিজ দায়িত্বে নির্বাচন কেন্দ্রে আসতে হবে। এজেন্ট নির্বাচন কেন্দ্রে যাবেন, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। এজেন্ট যাওয়া-না যাওয়া, সেটা প্রার্থী ও এজেন্টদের বিষয়। ভেতরে এজেন্ট গেলে বের করে দেওয়ার অভিযোগ থাকে। কিন্তু গত দু’বছরে এমন একটা অভিযোগও নেই যে কোনো এজেন্ট বলেছে, আমি ভেতরে ঢোকার পর আমাকে জোর করে বের দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা আছে এবং অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। আমরা এটা সিরিয়াসলি চাই যে এজেন্টরা কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করুক’।
ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ‘আপনারা নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে আসবেন। যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন। এখানে আপনাদের কোনো বাধা দেওয়া হবে না। ইভিএমের মাধ্যমে একজন ভোটার একবার ভোট দিলে আরেকবার দিতে পারবেন না। ইভিএম মেশিন তাকে গ্রহণ করবে না। জাল ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া নির্বাচনে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের কোনো স্বার্থ নেই। তারা অবাধ নির্বাচনের পক্ষপাতী’।
সিইসি নূরুল হুদা বলেন, ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলে দূর-দূরান্ত থেকে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন না। অনেকে ভোটকেন্দ্রে আসেন না। সে কারণে আমরা চিন্তা করেছি, ভোটের দিন সীমিত আকারে যানবাহন চালু রাখা হবে। এছাড়াও কমিশন, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত ও কল-কারখানাগুলো ভোটের দিন (২৯ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমেদ খান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।
সভায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, নির্বাচন কর্মকর্তা, নগরীর সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 82 People

সম্পর্কিত পোস্ট