চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১০ বছরেও নিলামে উঠেনি বৈদেশিক ডাকের পণ্য
১০ বছরেও নিলামে উঠেনি বৈদেশিক ডাকের পণ্য

১৩ মার্চ, ২০২০ | ১২:০০ অপরাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

পড়ে আছে চট্টগ্রাম জিপিও’র ৩শ ২৮ প্যাকেট পণ্য

১০ বছরেও নিলামে উঠেনি বৈদেশিক ডাকের পণ্য

কাস্টমসকে একাধিকবার পত্র দিলেও নিলামের ব্যবস্থা করা হয়নি : সহকারী পোস্ট মাস্টার

চট্টগ্রাম বন্দর প্রধান ডাকঘর কার্যালয়ের বৈদেশিক ডাক বিভাগে বিভিন্ন সময়ে কাস্টমসের হাতে আটক হওয়া ৩২৮টি পণ্য গত ১০ বছরেও নিলাম হয়নি। কিংবা যেসব পণ্য নষ্ট বা পচনশীল সেগুলোও ধ্বংস করা হয়নি। আইনে একজন গ্রাহক ৪৫ দিনের মধ্যে তার পণ্য বুঝে না নিলে সেই পণ্য নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার বিধান থাকলেও গত ১০ বছরেও সেটি পালন করা হয়নি। এবিষয়ে ডাক বিভাগ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ১৩বার চিঠি দেওয়ার পরেও নিলাম হয়নি। যার ফলে ডাক বিভাগের চট্টগ্রাম বন্দর প্রধান ডাকঘর কার্যালয়ের গুদামে সেসব পণ্য দীর্ঘদিন পড়ে আছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে পোস্ট মাস্টার জেনারেল (পিএমজি) কার্যালয়ের বৈদেশিক ডাক বিভাগের সহকারী পোস্ট মাস্টার মো. জাহাঙ্গীর আলম পূর্বকোণকে দীর্ঘদিন গুদামে জমে থাকা এসব পণ্যের বিষয়ে বলেন, ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ডাক বিভাগের পার্সেল, ইএমএস ও প্যাকেট সার্ভিসের মাধ্যমে বন্দর ডাকঘর অফিসের বৈদেশিক ডাক বিভাগে এসে জমা হয়েছে। বৈদেশিক ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কাস্টমস এর রাজস্ব কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ওইসব বৈদেশিক ডাক এসেসমেন্ট করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা ডাকে আসা এসব পার্সেল, ইএমএস ও প্যাকেট এ সরকারি রাজস্ব নির্ধারণ করে। পরে সেগুলো পুনরায় প্যাকেট করা হয়। পুনরায় প্যাকেট করার জন্য একজন গ্রাহককে দুই কেজি ওজনের পণ্যের জন্য ২শ টাকা এবং ত্রিশ কেজি পর্যন্ত পণ্যের ক্ষেত্রে ৩শ টাকা চার্জ করা হয়। এর বাইরে পণ্যের উপর সরকারি রাজস্ব ধার্য হলে সেই টাকাও গ্রাহককে সরকারি খাতে জমা করতে হয়। কিন্তু যারা তাদের পণ্য ডেলিভারি নেন না তাদের পণ্য গুদামে জমা থাকে। এরকম ৩২৮টি পণ্যের প্যাকেট গুদামে জমা আছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব পণ্য নিলামে দেওয়ার কথা কাস্টমস এর। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার পত্র দেওয়ার পরেও ২০১১ সাল থেকে এখনো নিলামের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার ফরিদ আল মামুন পূর্বকোণকে বলেন, এতো বছর পণ্য জমে থাকার কোন বিধান নেই। বন্দরের বড় চালানের কারণে হয়তো ডাক বিভাগের পণ্যগুলো নিলামের ব্যবস্থা করা হয়ে ওঠেনি। তবে যত দ্রুত সম্ভব নথিপত্র চেক করে বৈদেশিক ডাকের পণ্যগুলো নিলামে তোলা হবে।
এদিকে পিএমজি সূত্র থেকে জানা যায় ২০১৬ সালে বৈদেশিক ডাকের পার্সেল, ইএমএস ও প্যাকেট সার্ভিসের মাধ্যমে ডাক এসেছে ১৩ হাজার ৪৭৭টি, ২০১৭ সালে এসেছে ১৩ হাজার ৯৭৫টি, ২০১৮ সালে এসেছে ১৩ হাজার ৭৫১টি এবং ২০১৯ সালে এসেছে ১৩ হাজার ২৫৪টি ডাক।
তবে বৈদেশিক ডাক এসেসমেন্ট করার জন্য কাস্টমস থেকে বৈদেশিক ডাকঘর বিভাগে রাজস্ব কর্মকর্তা আছেন মাত্র তিনজন। দুইজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং একজন রাজস্ব কর্মকর্তা। আবার লোকবল সংকটের কারণে রাজস্ব কর্মকর্তাকে বন্দরেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। যার কারণে বৈদেশিক ডাক সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সমস্যায় কোন গ্রাহক রাজস্ব কর্মকর্তাকে পেতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের জেটি শাখার যুগ্ম কমিশনার শামসুজ্জামান শাহিন পূর্বকোণকে বলেন, কাস্টমসে আমাদের লোকবল সংকট আছে। একজনকে কয়েকটি দায়িত্ব পালন করতে হয়। জিপিওর কাজে আরো কর্মকর্তা বাড়ানো যায় কিনা সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবো। যেন জিপিও’র বৈদেশিক ডাক বিভাগের গ্রাহকদের সমস্যা পোহাতে না হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলার বৈদেশিক ডাকের একমাত্র কার্যালয় এই বন্দর ডাক বিভাগ। এছাড়া খুলনা বিভাগের ২০ টি জেলাও এই কার্যালয়ের আওতায়। ফলে বৈদেশিক ডাকের কোন কাজের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ছুটে আসে বন্দর ডাকঘর অফিসের বৈদেশিক ডাক কার্যালয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক জানান, অযৌক্তিক কাস্টমস আইন দেখিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো ডাক কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছে। পণ্যের মূল্যের চেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে দাবি করে। ক্ষেত্রবিশেষে টাকা পয়সা খরচ করলে সেই রাজস্ব কমেও যায়। এমনও ঘটনা আছে একই পণ্য একই পরিমাণে দুটি প্যাকেটের কাস্টমস চার্জ ভিন্ন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 211 People

সম্পর্কিত পোস্ট