চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০

কমিটির পাঁচজন একত্রে একবারও বসতে পারেননি

১১ মার্চ, ২০২০ | ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

কমিটির পাঁচজন একত্রে একবারও বসতে পারেননি

বাকলিয়া এক্সেস রোডের বাবে ইউসুফ ভবন প্রকাশ ‘কর্নেল ভবন’ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সাড়ে চার মাসেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও গত সাড়ে চার মাসে পাঁচবার সময় বাড়িয়েছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও একজন সদস্য গত রবিবার কমিটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক চট্টগ্রাম থেকে বদলি হন। আহ্বায়ক না থাকায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানান কমিটির সদস্য সচিব।
তদন্ত কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাকলিয়া এক্সেস রোডে (সিরাজউদ্দৌলা রোড হতে শাহ আমানত ব্রিজ) ১০ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদনের অনিয়ম নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর ২০১৯ সালে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিককে আহ্বায়ক এবং সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেনকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ, সিডিএ’র উপ-সচিব অমল গুহ ও নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহমেদ। এ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি পাঁচবার সময় বর্ধিত করলেও এখনো পর্যন্ত একবারও কমিটির পাঁচজন একত্রে বসতে পারেননি।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও তদন্ত কমিটির সদস্য জুলফিকার আহমেদ জানান, আমরা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সদস্য সচিব বরাবর জমা দিয়েছি। আমরা বলেছি, এটিকে ফাইনাল করে চেয়ারম্যান বরাবর জমা দেয়ার জন্য। ওনি (সদস্য সচিব) কেন এটা জমা দিচ্ছেন না, সেটা আমি বলতে পারবো না।
কমিটির আহ্বায়ক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিকের ট্রান্সফারের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, ওনার বদলির আগেই আমরা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে জমা দিয়েছি। এখন এটা জমা না দেয়ার কোন কারণ নেই।
জানতে চাইলে কমিটির সদস্য সচিব নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, আমরা কিছু কাজ করে এগিয়েছি। তবে তদন্ত শেষ করতে পারিনি। মিটিং এ এখনো পর্যন্ত একবারও সবাইকে একত্রে পাইনি।
পদত্যাগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাড়ে চার মাসের বেশি সময় ধরে কাজ করেও তদন্ত শেষ করতে পারিনি। তাই কমিটিতে আর থাকতে চাইছি না। চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছি।
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ১০ তলা ভবন নির্মাণের জায়গাটি সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যানে নতুন সড়কের জন্য সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু মাস্টার প্ল্যান না মেনে সিডিএ সেখানে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এখন সড়ক নির্মাণের জন্য ভবনটি ভাঙতে হবে। তবে এখনো ভবন মালিকের সাথে সিডিএ’র ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে মীমাংসা না হওয়ায় ভবনটি ভাঙতে পারছে না সিডিএ। ফলে ওই অংশে সড়কের নির্মাণ কাজও বন্ধ রয়েছে। সময়মত নির্মাণ কাজ করতে না পারায় প্রকল্পটির মেয়াদ এবং অর্থ দুটিই বাড়বে।
সিডিএ সূত্রে আরো জানা যায়, গত বছরের নভেম্বরে ভবনটি ভাঙার কথা থাকলেও তা পারেনি সিডিএ। তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ ভবন মালিককে প্রায় ১১ কোটি টাকা দিতে হবে। নগরীর ডিসি রোড এলাকায় বাবে ইউসুফ নামের ১০ তলা ভবন নির্মাণ করে হাজি চান্দমিয়া সওদাগর ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। এতে ৩৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাট খালি করে দিতে এরই মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের আমলে ১০ তলা ভবনটি নির্মাণের অনুমোদনে অনিয়ম নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

The Post Viewed By: 45 People

সম্পর্কিত পোস্ট