চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

স্ক্যানার চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বসেনি সমুদ্র বন্দরে

১১ মার্চ, ২০২০ | ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু

স্ক্যানার চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বসেনি সমুদ্র বন্দরে

অবশেষে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হয়েছে করোনা ভাইরাস শনাক্তের থার্মাল স্ক্যানার মেশিন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এটি স্থাপন করা হয়। আমেরিকা থেকে আসা থার্মাল স্ক্যানারটি সকালেই বিমান বন্দরে এসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। দুপুরে এটি স্থাপনের পর বিকেল থেকেই পুরোদমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত টিম। এর আগে বিমানবন্দরে থাকা স্ক্যানারটি প্রায় সাত মাস ধরেই নষ্ট ছিল। যার কারণে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের ভাইরাস শনাক্ত ছাড়াই অবাদে প্রবেশ প্রস্থান করে আসছিল। যদিও বিকল্প হিসেবে হ্যান্ড থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে মেডিকেল টিম। যা নিয়ে দৈনিক পূর্বকোণে ধারাবাহিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার সকালে উড়োজাহাজে করে দু’টি থার্মাল স্ক্যানার আসে চট্টগ্রামে। যার একটি বিমানবন্দর ও অন্যটি সমুদ্র বন্দরে বসানোর কথা ছিল। তবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বসানো হলেও সমুদ্র বন্দরের জন্য আসা থার্মাল মেশিনটি ফেরত পাঠানো হয়। এটি শাহাজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি পূর্বকোণকে বলেন, নতুন স্ক্যানারটি সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছার পরপরেই দুপুরের মধ্যে সেটি সচল করে কারিগরি টিম। এতে করে আর কোন যাত্রীই স্ক্যানিং ছাড়া আর প্রবেশের সুযোগ নেই। সমুদ্রবন্দরের জন্য আরেকটি মেশিন শীঘ্রই চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, বিদেশ ফেরত সকল যাত্রীকেই এ থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে ইমিগ্রেশনে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য দপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, যে কোন যাত্রী বিমান থেকে ইন্টারন্যাশনাল এরাইভাল সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে আসতে হবে। এতে কারও জ্বর সর্দি বা অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কোন সমস্যা থাকলে তা নির্ণয় হবে। কারও শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা থাকলে সাথে সাথে সংকেত দিবে মেশিনটি।
গত রবিবার প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিন বাংলাদেশিকে শনাক্ত করে স্বাস্থ্য বিভাগ। যদিও এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভাইরাস মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে কভিড-১৯ মোকাবেলায় চট্টগ্রামের তিনটি সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। এছাড়া কোয়ারেন্টাইনের জন্য নগরীর দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
করোনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু : চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা মাথায় রেখে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। করোনা সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য জানতে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ কক্ষ খোলা থাকবে। এ সময়ের মধ্যে এ কক্ষে সার্বক্ষণিক লোকজন কাজ করবেন। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এ সময় আরো বাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টা করা হবে। যে কোনো তথ্যের জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০৩১-৬৩৪৮৪৩ টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

The Post Viewed By: 68 People

সম্পর্কিত পোস্ট