চট্টগ্রাম বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

নজরদারিতে কলেজছাত্র করিম সিন্ডিকেট

১১ মার্চ, ২০২০ | ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার

নজরদারিতে কলেজছাত্র করিম সিন্ডিকেট

  • উত্থানের নেপথ্যে ইয়াবা
  • আত্মগোপনে সিন্ডিকেটের ১০ সদস্য
  • করিমের রয়েছে দুইটি পাসপোর্ট
  • লং ড্রাইভের নামে চলে ইয়াবা পাচার

সবার বয়স ১৯ থেকে ২২ এর মধ্যে। এর বেশি বা কম বয়স কারো নয়। এরই মধ্যে কয়েকজন কলেজে পা রেখেছে সবেমাত্র। কলেজ বয়সে তারা হয়ত দুই বছর। এই অল্প বয়সে তাদের চলাফেরা অন্য স্টাইলে। যা সাধারণ ছেলেদের রীতিমত অবাক করে। নিত্য নতুন নামিদামি বাইকে চলাফেরা। টেকনাফ টু কক্সবাজার রীতিমতো যাতায়াত। আলিশান প্রাইভেটকারে ঘুরে বেড়ানো। এমন সিন্ডিকেটের সদস্য রয়েছে ৮ থেকে ১০ জন। তাদের অধিকাংশের বাড়ি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে। দুই একজন রয়েছে কক্সবাজার শহরে। তাদের এই অন্য লাইফ স্টাইলের অনুসন্ধান করতে গিয়ে নৈপথ্যে উঠে আসে মাদক। তবে তাদের নামে অভিযোগ বা মামলা নেই কোনো থানায়। এসব সিন্ডিকেটের নৈপথ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত ও পলাতক অনেক মামলার আসামি। গত ৬ মার্চ দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় কোটিপতি স্টাইলে জীবনযাপন কলেজছাত্রের শিরোনাম তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সংবাদের পর আত্মগোপনে চলে যায় কলেজছাত্র মো. করিম। একই সাথে করিম সিন্ডিকেটের সদস্যরা কৌশলে আত্মগোপনে চলে যায়। অনেকেই বন্ধুদের সাথে নিজেদের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ফেসবুক থেকেও সরে যায় অনেকেই। বর্তমানে যে যার মতো করে আটক আতংকে রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. করিম কক্সবাজার সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। ২০ বছর বয়সী এই ছাত্রের চলাফেরা দেখে সহপাঠীরা সবসময় অবাক হয়। তার টাকা খরচ দেখেই সবার কাছে রহস্য দানা বাঁধে নিয়মিত। নামিদামি বাইক ও প্রাইভেট কার ছাড়া চলে না সে। কক্সবাজার কলাতলী তারকা মানের হোটেল ওয়ার্ল্ড বিচে রাতযাপন করে নিয়মিত। দামি ক্যাফে বা রেস্টুরেন্টে তার নিয়মিত আড্ডা। একটি হোটেলে নিজের জন্মদিনেও খরচ করেছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। তার বাসা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা জাদিমোড়া বৃটিশ পাড়া এলাকায়। করিম ওই এলাকার মো. সেলিমের ছেলে। অল্প বয়সে তাও দ্বাদশের ছাত্রের এতো টাকা খরচ ও চলাফেরার রহস্য সহপাঠীদের সব সময় ভাবিয়ে তুলছে। তার রয়েছে বহু মোবাইল ফোন নম্বর। এমনকি রয়েছে আলাদা দুই পাসপোর্টও।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, করিমের অন্যতম সহযোগী হলেন কক্সবাজার নুনিয়ারছড়া এলাকার শিহাব। শিহাবও কক্সবাজার সিটি কলেজের ছাত্র। অল্প দিনে পরিবর্তন হয়েছে শিহাবের বসতবাড়িও। বাড়ির ভিতরে অন্য রাজকীয় স্টাইল। করিমের প্রায় টাকা জমা থাকত শিহাবের বাসায়। এসব বিষয় শিহাবের পরিবারও জানত। অভাবের সংসার হওয়ায় পরিবারের লোকজনও মেনে নিয়েছে শিহাবের অন্য স্টাইলে চলাফেরা। এই অল্প বয়সে বেশ কয়েকটি গাড়িও নিয়েছে শিহাব। নিজেও চালায় দামী বাইক। করিমের সিন্ডিকেটে রয়েছে হ্নীলা বৃটিশ পাড়া এলাকার আয়ুব আলী ওরফে আয়ুব খান, একই এলাকার তাবারক, শহিদ মাহামুদ, জাবেদ আলী, মো. আমিন, রিদুয়ানুল আমিন, সেন্টমার্টিনের ওসমান গণি ও কক্সবাজারের শিহাব।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, করিমের বড় ভাই হলো সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও মারামারি মামলা। তবে একটি মামলায় তার পিতার নাম ভুল রয়েছে। করিমের ভাই সিরাজ দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে। কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে থাকে সিরাজ। এমনকি সিরাজের একটি প্রাইভেটকার চকরিয়া হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে এখনও জব্দ রয়েছে। ইয়াবাসহ জব্দ করেছিল গাড়িটি। বড় ভাই সিরাজের সূত্র ধরে ইয়াবা জগতে পা বাড়ায় ছোট ভাই করিম। করিমের সিন্ডিকেটে সবাই বাইক মাস্টার।
সহপাঠীরা জানিয়েছে, করিম এবং তার গ্রুপের সবার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সহপাঠীরা। সবাই কক্সবাজার শহরে একেক দিন একেক ধরনের দামি বাইক নিয়ে চলাফেরা করে। তাদের চলাফেরা কোটিপতির মতো। প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে করিম সিন্ডিকেট সদস্যদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। তাদের চলাফেরা ও জীবনযাপন অন্য স্টাইলের। কক্সবাজারের কলাতলী মোড় ও সুগন্ধা পয়েন্টে তাদের বিচরণ থাকত বেশি। তাদের পিছনে নিয়মিত কাজও চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে করিমের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই করিম কোনো অপরাধে জড়িত না। আমার এক ভাই ও বোন বিদেশ থাকে। তারা নিয়মিত টাকা পাঠায়। লেখাপড়া করার জন্য করিমকে কক্সবাজার পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিভাবে চলাফেরা করে আমি জানতাম না। একপর্যায়ে করিম ভুল করে থাকলে তা সংশোধন হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর নিউজ না করার অনুরোধ করেন সিরাজ।
এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন পূর্বকোণকে বলেন, মো. করিমসহ তার পুরো সিন্ডিকেটের বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তারা সবাই নজরদারিতে রয়েছে।

The Post Viewed By: 558 People

সম্পর্কিত পোস্ট