চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০

শুধু সার্টিফিকেট নয়, জাতীয়তা সনদ জাতীয় পরিচয়পত্রও জাল
শুধু সার্টিফিকেট নয়, জাতীয়তা সনদ জাতীয় পরিচয়পত্রও জাল

১০ মার্চ, ২০২০ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

শুধু সার্টিফিকেট নয়, জাতীয়তা সনদ জাতীয় পরিচয়পত্রও জাল

রেলের খালাসি নিয়োগে দুদকের অনুসন্ধান, দুই কর্মকর্তার সম্পদ সন্ধান চলছে নিয়োগে বাদ যায়নি বয়স্করাও

স্কুলের গণ্ডিতেই আনাগোনা ছিল না। তবুও অষ্টম শ্রেণি পাস সার্টিফিকেট রয়েছে। আবেদনপত্র ও নিয়োগপত্রের স্বাক্ষরে নিজেদের নাম কষ্ট করে লিখতে পারলেও দেখে সহজে বুঝা যায় ‘ঘাম’ ঝরাতে হয়েছে প্রচুর। এমন বহুসংখ্যক জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি হয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ৮৬৩ খালাসির বেশিরভাগেরই। ইতোমধ্যে এদের প্রায় পঞ্চাশের অধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
শুধু জাল সার্টিফিকেটই নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয়তা সনদপত্রও জাল করে নিয়োগ হয়েছে এমন খালাসির বিষয়েও তথ্য পেয়েছে দুদকের অনুসন্ধান টিম। এসব ব্যক্তির অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে এমন তথ্য রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। যার বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতেই নিয়োগ কমিটিসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসেবসহ তাদের স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংকের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করা হয়েছে। দুদক জানায়, শুধুমাত্র ঢাকার শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন একশ’র অধিক। এর বেশিরভাগের নেই স্মারক নম্বরও। এছাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরের স্থানে ভুয়া স্বাক্ষর রয়েছে। সার্টিফিকেট যাচাইকালে ধরা পড়ে একেকটিতে একেক রকম স্বাক্ষর। যা দেখে সহজেই বুঝা যায়, এটি ভুয়া সার্টিফিকেট। এর বাইরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, টিকিট প্রিন্টিং স্কুল এন্ড কলেজসহ দেশের অন্যস্থানে থাকা রেলওয়ে স্কুলগুলো থেকেই বেশি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয়। যাদের বেশিরভাগই ‘জাল’।
এর আগে গত মাসে ৮৬৩ জন খালাসি নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সৈয়দ ফারুক আহম্মদসহ নিয়োগ কমিটি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। যাদের কাছ থেকে নিয়োগ দুর্নীতির সাথে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম ওঠে এসেছে। তাদের বিষয়েও ব্যাপক খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা।
দুদক সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে নিয়োগ কমিটিসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে পৃথক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়ে পৃথক পৃথক অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া হবে। যাদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে আলাদা করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে দুদক। ইতোমধ্যে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দুই কর্মকর্তা তাদের সম্পদ বিবরণী ও বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্য উপস্থাপন করেছে দুদকের কাছে। তবে এসব বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান দুদক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা পূর্বকোণকে বলেন, ‘আবেদনপত্র ও নিয়োগপত্র যাচাই করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। যেসব সার্টিফিকেটের বিষয়ে সন্দেহ হয়েছে তা স্কুলসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০টির মতো জাল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে জাতীয় পরিচয়পত্রও জাল করে চাকরি হয়েছে। এসব যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব নিয়োগ কমিটির হলেও তারা যাচাই-বাছাই না করেই তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে দুদক, প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে’।
প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ৮৬৩ জন খালাসি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয় ২০১৫ সালে। পরীক্ষার পর পরই নিয়োগ কমিটির এক সদস্য মারা যান এবং এক সদস্য বদলি হন অন্য মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু তাদের ওই দুইজনের স্থলে কাউকে সংযুক্তি না করেই ২০১৯ সালের ১১ মে-তে ফলাফল ঘোষণা করেন কমিটির বাকি তিন সদস্য। এরপর থেকেই এ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। যার বিষয়ে দৈনিক পূর্বকোণে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরেই এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

The Post Viewed By: 349 People

সম্পর্কিত পোস্ট