চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ মাজার জেয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু ডা. শাহাদাতের

১০ মার্চ, ২০২০ | ২:১৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ মাজার জেয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু ডা. শাহাদাতের

ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর হযরত আমানত শাহ (র.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। গতকাল সোমবার ডা. শাহাদাত হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে শাহ আমানত (র.) মাজার সংলগ্ন মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে মাজার জিয়ারত করেন। শাহাজাদা এনায়েত উল্লাহ খান ডা. শাহাদাত হোসেনের সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে মাজার গেট থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে ধানের শীষের পক্ষে নগরীর জেল রোড, বান্ডেলরোড, পাথরঘাটা, আরসিসি রোড, ফিরিঙ্গিবাজার, কবি নজরুল এভিনিউ, আলকরণ রোড, নিউ মার্কেট মোড়, জুবলীরোড, এনায়েত বাজার, লাভলেইন হয়ে নাসিমন ভবনে এসে শেষ হয়।
গণসংযোগকালে ডা. শাহাদাত হোসেন নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় নেতাকর্মীরা এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এলাকার সাধারণ জনগণের মাঝে ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করেন।
এসময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকের গণসংযোগে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন একজন জনপ্রিয় প্রার্থী। ডা. শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতা। একজন পেশাজীবী হিসেবেও তার জনপ্রিয়তা অতুলনীয়। তার বিজয়ী হওয়ার অনেক উপাদান আছে। বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। বিএনপির নেতাকর্মীরাও সকলেই ঐক্যবদ্ধ। বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক পরিশ্রমী। তারা ভয়কে জয় করতে জানে। তাই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। তিনি ডা. শাহাদাত হোসেনকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, বিএনপিকে মোকাবিলার জন্য আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ওপর জনগণের আস্থা নেই। বিএনপি জনগণের উপর আস্থা রেখেই নির্বাচনে যাচ্ছে। আমাদের নির্ভরশীলতা হচ্ছে জনগণের উপর। আর আওয়ামী লীগের আস্থা হচ্ছে অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে সরে যাওয়ায় তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে হবে। কারণ আমরা ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। এটা কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। প্রত্যেক নেতা কর্মীকে কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। যাতে বাইরের কেউ এসে কোন সুযোগ নিতে না পারে। ভয়কে জয় করে শক্তিশালী অবস্থান থেকে নির্বাচন করতে হবে। আওয়ামীলীগ রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারি বাহিনীর উপর নির্ভরশীল। তারা ভীত বলেই অন্যের উপর নির্ভর করে।
এসময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রথমে আমি চট্টগ্রামের ২০ লক্ষ ভোটারকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব- এই গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য তারা যেন কেন্দ্রে আসেন এবং ধানের শীষে ভোট দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এখানে ভয় পাবার কিছু নেই। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের গবেষণা সংস্থা আছে, ডাক্তাররা আছেন। তারা দেখছেন এবং এই সমস্যা থেকে দেশবাসী অবশ্যই মুক্ত হবেন। চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, চট্টগ্রামকে একটা আধুনিক, নান্দনিক, স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়তে চাই আমরা। বিশ্বের অন্যতম নগরীতে পরিণত করতে চাই। এজন্য সবার আগে প্রয়োজন ভোটারদের সমর্থন। আশা করি, ভোটাররা তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে নিয়ে আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবিকতা নেই। মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে সরকার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তিনি ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহবান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, আলহাজ এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এডভোকেট আবদুস সাত্তার, এস কে খোদা তোতন, অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, এনামুল হক এনাম, ইদ্রিস মিয়া চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী, শফিকুর রহমান স্বপন, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মন্নান, আহমেদুল আলম রাসেল, কাউন্সিলর আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, এডভোকেট আবু তাহের, মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, মো. কামরুল ইসলাম, শিহাব উদ্দিন মুবিন, বদরুল খায়ের চৌধুরী, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, ইসহাক চৌধুরী আলিম, এম আই চৌধুরী মামুন, অধ্যাপক ঝন্টু বড়–য়া, মনজুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ জাকির হোসেন প্রমুখ।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 134 People

সম্পর্কিত পোস্ট