চট্টগ্রাম রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

মাটি খনন করতে গিয়ে মিলল যুবকের লাশ !

৯ মার্চ, ২০২০ | ২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

মাটি খনন করতে গিয়ে মিলল যুবকের লাশ !

ওয়াসার প্রকল্প, দু’বছরে উদ্ধার ৫টি লাশের পরিচয় উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

ওয়াসা প্রকল্পের মাটি খনন করতে গিয়ে বের হয়ে আসলো যুবকের কংকাল। কখন কে ওই যুবককে খুন করে রীতিমতো মাটি চাপা দিয়ে গেছে তা কেউ জানে না। কংকালের কোমরে তখনো বেল্ট বাধা ছিলো। পরনে কাপড়ও ছিলো। সাথে পাওয়া গেছে একজোড়া স্যান্ডেল। গত দু’বছরে এধরনের এনিয়ে ৫টি লাশ পাওয়া গেছে। যার কোন পরিচয় উদঘাটন হয়নি। চাঁদাবাজ ইয়াবাবহনকারী আটক কিংবা নানা অপরাধের ঘটনা উদঘাটনে নগর পুলিশের সফলতা রয়েছে। তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে খুন হওয়া মানুষগুলোর খুনের রহস্য উদঘাটনে বরাবরই ব্যর্থ নগর পুলিশ। খুনের রহস্য উদঘাটন দূরে থাক। বছরের পর বছর গড়ালেও খুন হওয়া এসব মানুষের নাম ঠিকানাও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অথচ গত দুই বছরে সংঘটিত চারটি খুনের ঘটনার চিত্র ছিল বিভৎস ও করুণ। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহ আগে হালিশহরে ওয়াসা প্রকল্পের পিলার নির্মাণের মাটি খনন করতে গিয়ে শ্রমিকরা এক যুবকের উপুড় হওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। রীতিমতো গর্ত খনন করে খুনের পর মৃতদেহটি ফেলে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। তবে মৃতদেহটি চেনার কোন উপায় ছিলোনা। ধারণা করা হচ্ছে দুই থেকে তিনমাস আগে যুবকটিকে খুন করে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে হালিশহর থানায় গত ২ এপ্রিল থানার এসআই জাহিদুল করিম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। জানা যায়, হালিশহর চৌচালা রোডের উত্তর পাশে ওয়াসা প্রকল্পের বাউন্ডারি পিলার নির্মাণের জন্য মাটি খনন করার সময় উপুড় হয়ে পড়ে থাকা এক ব্যক্তির মৃতদেহ বের হয়ে আসে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২৭ বছর। মাথায় হালকা কালো চুল ও মুখে হালকা দাঁড়ি আছে। তবে পচে যাওয়ায় চেহারা বুঝা যাচ্ছে না। অনেকটা কংকাল হয়ে যাওয়া মৃতদেহটির শরীরে একটি বেল্ট ও নীল রংয়ের এক জোড়া স্যান্ডেল পাওয়া গেছে।
নগর পুলিশের পশ্চিম জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফারুক উল হক জানান, ধারণা করা হচ্ছে দুই থেকে তিনমাস আগে মৃতদেহটি ফেলা হয়েছে। আমরা ওই মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি।
এরআগে গত দুই বছরে সংঘটিত খুনের আরো চারটি মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
হালিশহরে পোড়া লাশ : ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় নগরীর হালিশহর ফইল্ল্যাতলি বাজারের খালপাড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে পোড়া ও গলিত অবস্থায় এক তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আনুমানিক ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরের শরীরের ৯০ শতাংশ পোড়া ছিল। প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসাবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম মৃতদেহটি দাফন করে। লাশ উদ্ধারের চারদিনের মাথায় ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল জীবন ও দুর্জয় নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে হালিশহর থানা পুলিশ। সেই সময় পুলিশ দাবি করেছিলো নিহত দীলিপ, জীবন ও দুর্জয় তিনিজনই দিনমজুর। হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে দুই কিশোর। পোড়া লাশের পাশে একটি সিমের প্যাকেটের সূত্র ধরে জীবন ও দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।তারা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, পোড়া মৃতদেহটি দীলিপের। তিনজনেই কুমিরা এলাকার জিপিএইচ ইস্পাত করাখানার শ্রমিক। তারা এক সাথেই বসবাস করতো। খুন হওয়ার কিছুদিন আগে জীবন ও দুর্জয়কে গালিগালাজ এবং মারধর করে দীলিপ। তার প্রতিশোধ নিতেই দু’জনে মিলে ১৮ এপ্রিল পরিকল্পনা করে দিলীপকে নাথপাড়া এলাকায় হত্যা করে। পরে ফইল্ল্যাতলি খালপাড় এলাকার পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে আগুন দিয়ে মৃতদেহটি পুড়িয়ে দেয়। খুনের দায় স্বীকার করে দুই কিশোর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে কারাভোগ করলেও খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, যে দীলিপকে হত্যার পর পোড়ানোর কথা বলা হয়েছে সেই দিলীপ বেঁচে আছেন। তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। দীলিপের বাবার নাম সন্তোষ চক্রবর্তী, মায়ের নাম শোভা রায়। ফটিকছড়ির কুতুকছড়ি চা বাগান এলাকায় তার বাড়ি।
আকবর শাহে ফেলে যাওয়া শিশু : ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি মারা গেছে এগারো বছরের একটি কন্যা শিশু। ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নগরীর আকবরশাহ থানার কাট্টলী বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। ২৩ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কাট্টলী বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি সাদা কারের পেছনে থেকে শিশুটিকে ফেলে যেতে দেখে এক নারী। খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার মুখ বাঁধা ছিল। ওড়না দিয়ে বাঁধা ছিলো হাত পা। পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্নও ছিল। পুলিশের ধারনা শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান আকবরশাহ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম। হাসপাতালে ভর্তির পরদিন শিশুটি একবার চোখ খুলেছিলো। কিন্তু মানুষ দেখেই তার চোখ ভয়ার্ত হয়ে উঠেছিলো। কোন কথা বলতে পারছিল না।
পুলিশের ধারণা, সে কারও বাসায় কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ করত। শরীরে আঘাত করার পাশাপাশি মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটি ছয়দিন বাঁচলেও এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি। এ ঘটনায়ও কোনও গ্রেপ্তার নেই।
ডবলমুরিং মোল্লা পাড়ায় বস্তাবন্দি নারীর লাশ : ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি নগরীর ডবলমুরিং থানার মোল্লাপাড়া এলাকায় বস্তাবন্দি এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই নারীকে কেউ চিনতে না পারায় পরিচয় জানা যায়নি।
মোল্লাপাড়া এলাকার জনৈক ইউসুফ মিয়ার বাড়ির সীমানা দেওয়ালের ভেতরে একটি আমগাছের নিচে বস্তাবন্দি লাশটি পড়েছিলো। বিছানার চাদর মুড়িয়ে লাশটি বস্তায় ভরে চারপাশ রশি দিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয়। ওই নারীর পরনে সালোয়ার কামিজ ছিলো। পুলিশের ধারণা ওই নারীকে খুন করা হয়েছে।
বায়েজিদে বক্সবন্দি লাশ : ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর বেলা সাড়ে চারটায় বায়েজিদ অক্সিজেন-কুয়াইশ সংযোগ সড়কের শাহ আমানত সড়কের শাহ আমানত মসজিদ ঈদগাঁহ মাঠে বক্সভর্তি একটি লাশ পাওয়া যায়। রাতের আঁধারে কে বা কারা নির্জন এ স্থানে ফ্লাইউডের তৈরি একটি বক্সে ভরে লাশটি ফেলে যায়। ঐ এলাকায় থাকা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ১১ নভেম্বর রাত ১২টা ৫০ মিনিটে ভ্যানে বক্সটি নিয়ে যাচ্ছে। চালক ছাড়াও ভ্যানের পেছনে শার্ট ও প্যান্ট পরিহিত এক যুবককে দেখা যায় ফুটেজে। বায়েজিদ থানার পরিদর্শক (ওসি) প্রিটন সরকার জানান, মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন তদন্ত করছে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 418 People

সম্পর্কিত পোস্ট