চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

বাঁশখালীতে বাড়ছে থ্যালাসেমিয়া রোগী

৮ মার্চ, ২০২০ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

অনুপম কুমার অভি, বাঁশখালী

বাঁশখালীতে বাড়ছে থ্যালাসেমিয়া রোগী

উপজেলার ছনুয়া ৪ নং ওয়ার্ডের রাহাতুল জান্নাত মাহি (৫) জন্মের পর থেকে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে সপ্তাহ অন্তর বা ১৫ দিন অন্তর রক্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে বেঁচে আছেন। এইভাবে কতদিন রক্ত সংগ্রহ করে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে বাঁচানো যাবে, এমন প্রশ্ন রেখেছেন তার দাদা ছৈয়দ আহমদ (৫৫)। একইভাবে কাথরিয়ার তারিক (৮) নামের এক শিশুকেও ১৫ দিন-১ মাস পর গ্রুপ মিলিয়ে রক্ত দিতে হয়।
উপজেলায় থ্যালাসেমিয়া রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তবে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে শিশুসহ শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে। বাঁশখালীতে এই রোগীর সংখ্যা বাড়লেও স্থায়ীভাবে ব্লাড ব্যাংক না থাকায় মৃত্যুঝুঁকিতে চলছে চিকিৎসা সেবা।
জানা যায়, ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদের পুত্র আব্দুর রহিমের সাথে একই এলাকার বাসিন্দা আহমদ কবিরের মেয়ে শাহিদা ইয়াছমিনের বিয়ে হয় ৭ বছর পূর্বে। তাদের ঘর আলোকিত করতে ৫ বছর পূর্বে এক কন্যা শিশু জন্ম নেয়। তার নাম রাখা হয় রাহাতুল জান্নাত মাহি। সে চলাফেরাও করতে পারে না। ভালোভাবে কথাও বলতে পারে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়নে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত অনেক শিশু আছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, থ্যালাসেমিয়া একটি জিনঘটিত রোগ। এ রোগে রক্তের লোহিত কণিকা ভেঙে যায় এবং রোগী রক্তস্বল্পতায় ভুগতে থাকে। রক্তের সম্পর্কের মধ্যে বিবাহ হলে তাদের সন্তানদের মধ্যে এ রোগটি বেশি হতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন। থ্যালাসেমিয়া রোগ দুই ধরনেরÑ আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা থ্যালাসেমিয়া। তবে আলফা থ্যালাসেমিয়া ৪টি জিন দিয়ে গঠিত; অপরদিকে বিটা থ্যালাসেমিয়া ২টি জিন দিয়ে গঠিত হয়। থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। সাধারণত ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জিনের কারণে থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়ে থাকে।
মাহির দাদা ছৈয়দ আহমদ জানান, জন্মের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে রক্ত দিয়ে আমার নাতিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। রক্তের গ্রুপ বি (+)। বিভিন্ন স্থান থেকে বিনামূল্যে রক্ত সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফি-বাবদ ৫-৭ হাজার টাকা খরচ পড়ে যায়। ভালো করে হাঁটাচলা করতেও পারে না, গরম সহ্য করতে পারে না। এই অবস্থায় চলছে আমাদের পরিবারের দিনকাল। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বাঁচিয়ে বড় করে তোলার জন্য অনেক চেষ্টা চলছে। বড় লোকের অসুখ এই গরীবের ঘরে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আরেকজন নাতি জন্ম নিয়েছে নিনমনি (২) তার অবস্থা জানি না। ছেলের ব্যবসার আয় ও সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে শেষ চেষ্টা চলছে। তবে এখানে এই চিকিৎসা নেই বলছেন ডাক্তার।
বাঁশখালী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শাহিদ চৌধুরী বলেন, উপজেলায় থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা রয়েছে। গত কয়েকদিন আগেও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে এক শিশু চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। এখানে এই রোগীর ব্লাড ব্যাংক প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণত হেমাটোলোজিস্ট চিকিৎসকরাই এই রোগীর চিকিৎসা করে থাকেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 99 People

সম্পর্কিত পোস্ট