চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২০

সর্বশেষ:

সরে দাঁড়াচ্ছেন কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী
চট্টগ্রামের ২ ইউনিয়নে ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

৮ মার্চ, ২০২০ | ২:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরে দাঁড়াচ্ছেন কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী

চসিক নির্বাচন মোশাররফ ও মেয়র নাছির একান্ত বৈঠক নওফেলের উদ্যোগে প্রার্থীদের নিয়ে সভা ‘বিদ্রোহ’ থামাতে আজ আসছেন কাদের

আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সৃষ্ট সংকট কাটেনি। তবে গতকাল কেন্দ্রীয় ও নগর নেতৃবৃন্দের কয়েকটি একান্ত বৈঠকের কারণে কতিপয় বিদ্রোহী সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এদিকে আজ রবিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন বিকালে বর্ধিত সভা ডেকেছে নগর আওয়ামী লীগ। সকালে আসছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে তিনি বর্ধিত সভায় যোগ দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সার্কিট হাউজে নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ডেকে বিদ্রোহীদের দমানোর একটি উদ্যোগ তিনি নেবেন। এজন্য তিনি সার্কিট হাউজে তাদের ডেকেছেন।
আজকের বর্ধিত সভায় ডাকা হয়েছে নগর, থানা, ওয়ার্ড এবং ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং আহবায়ক যুগ্ম-আহবায়কদের। এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সভায় অংশগ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেরই সেরকম পদ-পদবী নেই। সেই অর্থে বিদ্রোহীদের বর্ধিত সভায় যাওয়ার সুযোগও নেই। তাদেরকে সভায় অংশগ্রহণ করতে বলাও হয়নি। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে সৃষ্ট সংকট ঘরোয়াভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। সমস্যা সমাধানে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের নিয়ে পৃথকভাবে বসেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা।
গতকাল সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি এবং সিটি মেয়র আ জ ম নাছির একান্ত বৈঠক করেছেন। বৈঠক থেকে তারা চসিক নির্বাচনে বিভিন্ন বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীকে ফোন কওে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। সে অনুরোধে সাড়া দিয়ে আজ অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
গতকাল শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার চশমাহিলস্থ বাসভবনে বেশকিছু ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রার্থীদের নিয়ে বসেন বলে জানা গেছে। সভায় তিনি বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দলের মনোনীত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার কথা বলেছেন। একইসাথে তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের দায় তিনি নেবেন না উল্লেখ বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, পরে যদি কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন, তখন যেন তার কাছে কেউ না যান।
এদিকে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন এক বিবৃতিতে বলেন, আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাকে মেয়র পদে বিজয়ী করতে দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ইতিমধ্যে নগর আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সভা করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য এবং কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। লক্ষ্য একটাই মেয়র পদে রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী করা। একই সাথে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার পার্লামেন্ট বোর্ড সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু লক্ষ্যনীয় যে, বেশকিছু সংখ্যক ওয়ার্ডে একের অধিক সংক্ষুব্ধ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সম্মান রেখে তাদের প্রার্থীতা পদ আজ বিকাল ৪টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নেয়ার আহবান জানান। বিবৃতিতে বলেন, আমাদের বিশ্বাস আপনাদের দলের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা ও শ্রদ্ধা এবং আনুুগত্য সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠনের একজন নিবেদিত প্রাণকর্মী হিসেবে এবং আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ বির্নিমাণে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছেন বলে বিবেচিত হবে। আশা করি দলের মর্যাদা এবং শৃঙ্খলা চলার পথকে আপনারা সচল রাখবেন। এ লক্ষ্যে আপনাদের প্রার্থীতা পদ প্রত্যাহার করে নিবেন।
মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক প্রার্থীর সাথে আলাপকালে পূর্বকোণকে তারা জানান, তারা ধরেই নিয়েছেন কাউন্সিলর পদে নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তারা বলেন, বঞ্চিতদের ক্ষোভ নিরসনে দল থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাদের কথা, অভিযোগ শোনা হয়নি। থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ডেকে নিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। যা কেউ মানেনি।
৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী মো. মোহসীন পূর্বকোণকে বলেন, আগামিকাল (অর্থাৎ আজ রবিবার) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এখনো আমাদেরকে দল থেকে চিঠি দিয়ে কোন ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তাই আমরা ধরেই নিয়েছি কাউন্সিলর নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
৩৭ নম্বর মুনীর নগর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী এনামুল হক মুনীরী পূর্বকোণকে বলেন, নৌকা প্রতীক হলে বুঝতাম দলীয় প্রার্থী। কিন্তু কাউন্সিলর পদে যেহেতু দলীয় প্রতীক নেই তাই আমি মনে করি এখানে যোগ্য ব্যক্তিই নির্বাচিত হয়ে আসবে। তাই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না।
৭ ও ৮ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামী লীগের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী জেসমিন পারভীন জেসি পূর্বকোণকে বলেন, তারা কিসের ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন করেছেন জানিনা। তিনি বিজয়ের প্রত্যায় ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন না।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 178 People

সম্পর্কিত পোস্ট