চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

কোটিপতি স্টাইলে জীবনযাপন কলেজছাত্রের

৬ মার্চ, ২০২০ | ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আরফাতুল মজিদ হ কক্সবাজার

কোটিপতি স্টাইলে জীবনযাপন কলেজছাত্রের

কক্সবাজার : নেপথ্যে ইয়াবা ষ রাতযাপন ও আড্ডা তারকা হোটেলে ষ দামি বাইক ও প্রাইভেটকারে চলাফেরা ষ লাখ টাকার ওপরে মোবাইল ব্যবহার ষ জম্মদিনে প্রায় খরচ ৪ লাখ! ষ জীবনযাপনে অবাক সহপাঠিরা

মো. করিম। ফেসবুক নাম মো. করিম বিন সামাদ। কক্সবাজার সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। ২০ বয়সী এই ছাত্রের চলাফেরা দেখে সহপাঠিরা সবসময় অবাক হন। তার টাকা খরচ দেখেই সবার কাছে রহস্য নিয়মিত। নামিদামি বাইক ও প্রাইভেট কার ছাড়া চলে না কলেজছাত্র করিম। কক্সবাজার কলাতলী তারকামানের হোটেলে রাতযাপন করেন নিয়মিত। দামি ক্যাফে বা রেস্টুরেন্টে তার নিয়মিত আড্ডা। একটি হোটেলে নিজের জম্মদিনেও খরচ করেছে প্রায় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। তার বাসা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা জাদিমোড়া বৃটিশ পাড়া এলাকায়। করিম ওই এলাকার মো. সেলিমের ছেলে। অল্প বয়সে তাও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের এতো টাকা খরচ ও চলাফেরার রহস্য সহপাঠিদের সব সময় ভাবিয়ে তুলছে। এমনকি কক্সবাজার শহরে তার চলাফেরাও রহস্যজনক। নিজের গ্রাম টেকনাফে খুব কম সময়ের জন্য যান তিনি। বেশির ভাগ সময় কক্সবাজার শহরে অবস্থান করেন। তার রয়েছে বহু মোবাইল ফোন নাম্বার। খোঁজ খবর নিয়ে ও সহপাঠিদের সূত্রে জানা গেছে, মো. করিম কক্সবাজার সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন ২০১৭ সালে। ২০১৯ সালে ইন্টার ফাইনাল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। ২০২০ সালে আবারো ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু অকারণে তিনি পরীক্ষা দিচ্ছে না বলে সহপাঠিদের সূত্রে জানা গেছে। সহপাঠিরা জানিয়েছে, কলেজে আসলে সবাই মো.করিমের দিকে অবাক হয়ে থাকিয়ে থাকে। একেক দিন একেক ধরনের দামি বাইক নিয়ে সে কলেজে আসে। অনেক সময় বাইকের বহর নিয়েও কলেজে আসত। তার চলাফেরা কোটিপতির মতো। অনেক সিনিয়র ভাইদের নিয়মিত টাকাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে মো. করিম। কলেজে ভর্তি হওয়ার সুবাদে কক্সবাজার শহরে নিয়মিত অবস্থান করে সে। তবে নিয়মিত ক্লাস করত না। শহরে তার একটি গ্রুপও

তৈরি হয়। গ্রুপে সবাই তার সমবয়সী। এরমধ্যে কয়েকজন তার কলেজের বন্ধুও। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, কক্সবাজারে আসলে মো. করিম কলাতলী মোড়ে তারকামানের হোটেল ওয়ার্ল্ড বীচের একটি ফ্ল্যাটে রাত কাটান। ওয়ার্ল্ড বীচের ৭ থেকে ৮ টি ফ্ল্যাট দেখা শুনা করেন কাশেম নামের একব্যক্তি। এরমধ্যে কাশেমের একটি ফ্ল্যাটে নিয়মিত থাকেন কলেজছাত্র করিম। ওই হোটেলের অধিকাংশ ফ্ল্যাট টেকনাফের ইয়াবা কারবারিদের বলেও তথ্য রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। করিমের ছবি দেখালে হোটেলের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, এই ছেলেটি প্রায় সময় এই হোটেলে রাত কাটান। অনেক সময় তার সাথে একাধিক বন্ধুরাও থাকেন। কাশেমের দেখভাল করা ফ্ল্যাটে অবস্থান করে সে। তবে ফ্ল্যাটের আসল মালিক কে জানি না। তার নিয়মিত আসা যাওয়ার তথ্য সিসি ক্যামরা চেকিং করলে বুঝা যাবে।

তার কয়েকজন সহপাঠিয়ে জানিয়েছে, করিমের চলাফেরা বিলাশ বহুল। আলিশানভাবে জীবন যাপন করে সে। গত ৬ মাস আগে তার জম্মদিন অনুষ্ঠিত। কক্সবাজার হোটেল লাবণীতে তার জম্মদিন উপলক্ষে বিশাল আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ডিজে পার্টিও করা হয়। প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করে সে। এছাড়া নামি দামি সব বাইক তার হাতে। প্রতিমাসে বাইক পরিবর্তন করে সে। প্রতিটি বাইকের মূল্য ৩ থেকে ৫ লাখের মধ্যে। গত এক বছরে প্রায় ৭টি মতো বাইক পরিবর্তন করতে দেখেছে সহপাঠিরা। বর্তমানে সে কক্সবাজার শহরে একটি দামি প্রাইভেট কার নিয়ে ঘুরাফেরা করে। অনেক সময় নোহা গাড়িও চালায় নিজে। প্রাইভেট কার নিয়ে বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এবং দামি রেস্টুরেন্টে খাবার দাবার ও আড্ডা জমায়। এক লাখের বেশি দামে মোবাইল ফোনও তার হাতে। কলাতলী হোটেল ওয়ার্ল্ড বিচ ছাড়াও শহরের নুনিয়াছড়া এলাকার শিহাব নামে তার এক বন্ধুর বাসায় থাকে করিম। অনেক সময় ফিরোজা মার্কেটের উপরে তার অপর এক বন্ধুর রুমেও অবস্থান করে।

করিমের বিষয়ে জানতে চাইলে বন্ধু শিহাব বলেন, করিম আমার কলেজের বন্ধু। করিমের মতো অনেক বন্ধু রয়েছে আমার। তবে সে আমার বাসায় থাকে না। তার পরিবারের সবাই বিদেশে থাকে শুনেছি। এতে তার টাকা থাকতে পারে। অন্যকিছুর বিষয়ে আমি জানি না।
প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে মো. করিমের মঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে করিম নয় বলে দাবি করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর থেকে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে বেশ কিছু দিন ধরে অনুসন্ধান চলে করিমের বিষয়ে। তার বিষয়ে খোঁজ নিতে পুলিশ প্রশাসনের একটি দপ্তরে সব তথ্য প্রদান করা হয় এবং ফেসবুক আইডি রিচার্জ করা হয়। অনুসন্ধান করে ওই দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, করিম একজন ইয়াবা কারবারি। কলেজে পড়ার আড়ালে সে ইয়াবা কারবারে জড়িত হয়ে পড়ে। টেকনাফে ব্যাপক ধরপাকড়া চলার কারণে গা ঢাকা দিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় হয়ত অবস্থান করছে সে। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা বা কোনো অভিযোগ নেই। মো. করিমের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে জানান টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, মামলা বা অভিযোগ নেই এমন অনেক ইয়াবা কারবারি রয়েছে। যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে । একজন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের যদি আলিশান চলাফেরা হয় তাহলে বুঝতে হবে কোনো না কোনো কারণ রয়েছে। তাছাড়া মানুষের আয় বাড়ে গাণিতিক হারে জ্যামিতিক হারে নয়। যখন জ্যামিতিক হারে আয় বাড়বে তখন ধরে নিতে হবে সেখানে অবৈধ কিছু আছে। মো. করিমের বিষয়ে আমরা অনুসন্ধান চালাচ্ছি। পরিবারে যতো টাকা থাকুক না কেন একজন দ্বাদশের ছাত্র এতো বিলাসি হতে পারে না। যা তার ফেসবুকে পোস্ট করা বিভিন্ন ছবি বলে দিচ্ছে।

The Post Viewed By: 182 People

সম্পর্কিত পোস্ট