চট্টগ্রাম রবিবার, ৩১ মে, ২০২০

নতুন উৎপাত কিশোর গ্যাং

৫ মার্চ, ২০২০ | ৩:৫০ পূর্বাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

নতুন উৎপাত কিশোর গ্যাং

আয়তন: ৩ বর্গ কিলেমিটার
জনসংখ্যা: ২ লাখ ১০ হাজার
ভোটার সংখ্যা: ৩৬ হাজার

বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। যে কারণে চট্টগ্রামের এ খেতাব মিলেছে সেটি বন্দরকে ঘিরে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বর্ণদ্বার বলা হয় বন্দরকে। বন্দরের এ যাবতীয় কার্যক্রম যে ভবন থেকে পরিচালনা করা হয় সেই বন্দর ভবনটির অবস্থান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে। অন্যদিকে এই ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যেই রয়েছে দেশের সিংহভাগ রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।
পুরো ওয়ার্ডের চারপাশেই বন্দরের স্থাপনা। এই ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যেই রয়েছে বন্দর স্কুল ও কলেজ, বন্দর রিপাবলিক ক্লাব ও বন্দর হাসপাতাল। রয়েছে বন্দরে প্রবেশের বেশ কয়েকটি ফটক। মসজিদের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মন্দির রয়েছে ওয়ার্ডটিতে। যেমন গোসাইলডাঙা কালি মন্দির, গোসাইলডাঙা দুর্গা মন্দির ও লোকনাথ মন্দির। মন্দিরের পাশেই রয়েছে গোসাইলডাঙা উচ্চ বিদ্যালয়। আছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণি সম্পদ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়। এতসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যে ওয়ার্ডটিতে রয়েছে সেই ওয়ার্ডটির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে মাদকের বিস্তার আর হকারদের উৎপাতের কারণে। বন্দর ভবন থেকে কাস্টম হাউস দুই ভবনের সামনের রাস্তা দখল করে হকাররা তাদের পসরা নিয়ে বসে গেছেন বিনা বাধায়। এছাড়া ওয়ার্ডের কয়েকটি সরু সড়ক দখল করে দোকান বসিয়েছেন হকাররা। এ চিত্রের দেখা মিলেছে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী সড়কের ফকিরহাট বাজারের সামনেই। একই চিত্র ছিল কাস্টম হাউস ও বন্দর ভবনের সামনেও। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল ওয়ার্ডের মাদকের বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়েও। মুক্তি চাইছেন এই সমস্যা থেকে। ৪০ বছর ধরে ফকিরহাট বাজারে ব্যবসা করছেন মো. নুরুচ্ছফা। আমাদের জানিয়েছেন তার এলাকার সমস্যার কথা। তিনি বলেন, ‘ফকিরহাট বাজারের অবস্থা খুবই নাজুক। এই বাজারের উন্নয়ন হওয়ার কথা থাকলেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। এলাকার নালা-নর্দমার অবস্থাও খুবই খারাপ। ময়লা-আবর্জনার কারণে চারিদিক নোংরা হয়ে থাকে। আর বর্ষাকালে আমাদের জলাবদ্ধতা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাজারে পানি উঠে যায়’।
এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘এলাকায় যতটুকু উন্নয়ন হওয়ার কথা সেটুকু হয়নি। বেশকিছু সমস্যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। এছাড়া ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বিভিন্ন হকার ও ভাসমান দোকানের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে লোকজনের চলাফেরা করতে সমস্যা হয়। এর সাথে রয়েছে মাদকের সমস্যা। একটি সরকারি স্কুল ও সরকারি হাসপাতালের অভাবও আমাদের এই ওয়ার্ডে রয়েছে। আর বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব আমাদের এলাকায় খুবই বেড়ে গেছে। যাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। আমরা চাই ভবিষৎ কাউন্সিলর যাতে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করেন’।
এই ওয়ার্ডের টানা চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ওয়ার্ডের নিমতলায় ৬০-৭০টি শুঁটকির দোকান ফুটপাতে বসেছে। কেন এবং কিভাবে এগুলো বসেছে এই বিষয়টি থানার কাছে জানতে চাইলে উত্তরটি পাবেন। এছাড়া আমার ওয়ার্ডে ফুটপাতে অন্য কোনো দোকান নেই। মাদকের প্রভাব আছে এই ওয়ার্ডে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের মাদকের প্রভাব ১৬ আনার মধ্যে ১২আনা নেই। মাদক নির্মূলে আমরা আমাদের জায়গায় থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমি বিভিন্ন সময় পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রায় শতাধিক মাদকসেবি ও মাদকবিক্রেতাদের ধরিয়ে দিয়েছি। তবে পুলিশ তাদের আটক করলেও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসন কঠোর হবে না ততক্ষণ এই মাদক পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে না’।
জলাবদ্ধতা নিরসনে তার ভুমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে আমাদের কাজ চলছে। আগামী বর্ষায় এই সমস্যা অনেক কমবে আর ভবিষ্যতে এই সমস্যা আর থাকবে না বলে আমি মনে করি’।
এদিকে ওয়ার্ডের উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৭৪ কোটি টাকার কাজ শেষ এবং বাকি ২৬ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
ওয়ার্ডের উন্নয়নে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজ উদ্যোগে এলাকার একটি মাতৃসদন হাসপাতাল করার ইচ্ছা রয়েছে।
বর্তমান কাউন্সিলর হাজী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় সমর্থন পাওয়ায় পঞ্চমবারের মতো লড়বেন তিনি। তার বিপক্ষে লড়বেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. হারুন, মো. সাকির, আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোর্শেদ আলী, মো. সাইফুল আলম চৌধুরী।

The Post Viewed By: 251 People

সম্পর্কিত পোস্ট